স্বর্ণযুগের শিল্পীদের বাগদেবীর আরাধনা, ইতিহাস যেন ঝলমল করে ওঠে পুজোর দিনে

শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

‘সরস্বতী বিদ্যেবতী, তোমায় দিলাম খোলা চিঠি
একটু দয়া করো মাগো, বুদ্ধি যেন হয়।
এসব কথা লিখছি তোমায় নালিশ করে নয়।’

সেলিব্রিটিদের সরস্বতী পুজো চিরকালই সবার আকর্ষণের বিষয়। হাল আমলের সেলেবদের অন্দরমহলের বা স্টুডিওর পুজো সচরাচর জানা যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু আগেকার সেই স্বর্ণযুগের লেজেন্ডরা কেমন ভাবে সরস্বতী পুজোর আয়োজন করতেন, জানতে ইচ্ছে করে অনেকেরই।

যেসব পুজো একসময় ছিল তারকাখচিত, কিন্তু কালের স্রোতে আজ সেসব পুজোর বেশিরভাগই অতীত। কিন্তু ইতিহাস কথা বলে। সময়ের দলিলে আজও সেসব ঝলমলে সরস্বতী পুজোর কথা শুনলে নস্ট্যালজিক হয়ে যেতে হয়। সে সব পুজোর ইতিহাস আজকের প্রজন্ম জানে না, অথচ এই পুজোগুলোই ছিল পঞ্চাশ ষাট দশকের ভিআইপি পুজো।
সেইসময়কার নক্ষত্রদের সরস্বতী পুজোর  গল্প। স্মৃতির পাতার ধুলো ঝেড়ে আজ উঠে আসবে সেসব সোনালি দিনের কাহিনি।

উত্তম কুমার নিজ হাতে গড়লেন সরস্বতী

একবার সরস্বতী পুজোর কয়েক মাস আগে উত্তমকুমার অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেরে উঠলেও তখন ডাক্তার উত্তমকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে বাড়িতে থাকতে বলেন। কিন্তু সৃষ্টিশীল মহানায়ক তো কাজ ছাড়া বসে থাকার বান্দা নন। তিনি তরুণকুমারকে বললেন “বুড়ো, বাড়িতে সরস্বতী পুজো ঘটা করে করলে কেমন হয়?” তরুণ কুমার বললেন “সে তো করাই যায়, বাড়িতে এত ছেলেপুলে আছে পুজো করলেই হল। কিন্তু তোমায় এখন এই নিয়ে নেচে উঠতে হবে না।” উত্তমকুমার চুপটি করে রইলেন।

উত্তমকুমার ছিলেন আদ্যন্ত শিল্পী। তিনি পরের দিনই চুপিসারে বাড়ির কাজের লোককে দিয়ে গঙ্গা মাটি আনালেন। সরস্বতী মূর্তি গড়বেন। সবাই হাঁ হাঁ করে উঠলেও তিনি গড়বেনই। সেই শুরু। সরস্বতী বানিয়েও ফেললেন মহানায়ক। ঠাকুরের মুখ, হাত, পা সবই তাঁর বানানো। শুধু প্রতিমার সাজটা করেছিলেন জনৈক মৃৎশিল্পী। সেই প্রতিমার পুজোও করলেন নিজে। শ্বেতশুভ্র ধুতী-পাঞ্জাবি-শালে একমাত্র পুত্র গৌতমকে নিয়ে সেই ঠাকুরের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে তাঁর সৃষ্টি ঐতিহাসিকও করে রাখলেন মহানায়ক।

তবে চট্টোপাধ্যায় পরিবারের লক্ষ্মী প্রতিমার মুখ যেমন ঘরের লক্ষ্মী গৌরী দেবীর আদলে হয়, সেই বিশেষত্ব সরস্বতীর মুখশ্রীতে ছিল না।

এর পরে যখন প্রথম সংসারে পরিশ্রান্ত উত্তম সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে থাকতে শুরু করলেন, তখন উত্তম-সুপ্রিয়ার যৌথ উদ্যোগে ময়রা স্ট্রিটের বাড়িতেও হত সরস্বতী পুজো। বেশ বড় ঠাকুর অর্ডার দিয়ে আনতেন উত্তম। ময়রা স্ট্রিটে আরও একটা বন্ধু পরিমণ্ডল ছিল উত্তম-সুপ্রিয়ার, তাঁদের সবার আড্ডা, গানবাজনা আর সুপ্রিয়া দেবীর হাতের রান্নায় ঝলমল করত এই পুজো।

সকালে ভবানীপুরের বাড়ির পুজো সেরে ময়রা স্ট্রিটে আসতেন উত্তম। দুই বাড়িতেই ষোড়শ উপচারে পুজো করার আয়োজন করতেন মহানায়ক। পুরোহিত এলেও নিজেও পুজোতে বসতেন উত্তম। উত্তম কুমারের উপবাস ভাঙিয়ে সবাইকে প্রসাদ ভোগ বিতরণ করে সুপ্রিয়া দেবী নিজের উপবাস ভাঙতেন। কাঠবাঙাল সুপ্রিয়া আঁশ মুছে নিরামিষ ভোগের পাট করে দিলেন পাঁড়ঘটি উত্তমের নিয়মে। দায়িত্ববোধে অবহেলা করেননি কখনও মহানায়ক।

উত্তম কুমারের প্রয়াণ, ময়রা স্ট্রিটের বাড়ির হাতবদল, একা সুপ্রিয়া আর পেরে ওঠেননি এই পুজো বজায় রাখতে। আর ভবানীপুরের বাড়ি লক্ষ্মী পুজো যতটা বড় করে হয় আজও সরস্বতী পুজোয় সেই ঘটা আর হয় না। তবে ঘরোয়া ভাবে সরস্বতী পুজোটা বজায় রেখেছেন উত্তম পৌত্র গৌরব। উত্তম কুমারের সরস্বতী পুজোর সেই গ্ল্যামার আর নেই, সবটাই ইতিহাস আজ। যাকে ঘিরে পুজো সেই মহানায়কই তো নেই আজ চল্লিশ বছর।

ভানু ব্যানার্জীর বাড়ির ছাদ-জলসায় বসত তারকার মেলা

ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় কৌতুকরসের মানুষ হলেও তাঁর স্ত্রী কিন্তু ছিলেন সঙ্গীতজগতের মানুষ। ভানুজায়া নীলিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কীর্তন গানের ভক্ত ছিলেন। নীলিমা দেবী অনেক ছবিতে প্লেব্যাকও করেছেন, যেমন ‘কবি চন্দ্রাবতী’, ‘বনের ময়ূর’, ‘সর্বহারা’, ‘কাঞ্চন মূল্য’, ‘বৌ ঠাকুরাণীর হাট’ প্রভৃতি। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগে নীলিমা দেবী সঙ্গীত জগতে নাম করেন।

চারু অ্যাভিনিউতে এখন যেখানে ‘ভানুশ্রী’ অভিজাত আবাসন, সেখানেই ছিল ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বসত বাড়ি ‘সঙ্গীতশ্রী’। বাড়ির নাম ‘সঙ্গীতশ্রী’ কেন? কারণ বাড়ির একতলায় ছিল নীলিমা দেবীর গানের স্কুল। ‘সঙ্গীতশ্রী’ স্কুলে নীলিমা দেবী ছাড়াও গান শেখাতেন শ্যামল মিত্র, রবীন বন্দ্যোপাধ্যায় (যার কণ্ঠে জনপ্রিয় ‘আজই এসেছি বধূ হে’), প্রভাতভূষণ, গিটার শেখাতেন বটুক নন্দী, সেতার শেখাতেন ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য (তিমিরবরণের ছেলে) প্রমুখ।

সেই ‘সঙ্গীতশ্রী’ গানের স্কুলে হত সরস্বতী পুজো। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির ঘরোয়া সরস্বতী পুজো চিরকালই হত, নীলিমা দেবীর গানের স্কুলের পুজোটা যেহেতু বাড়িতেই হয়, তাই একটা পুজোই বড় করে করা শুরু হয়। গুণীজনের ঢল নামত ভানু-নীলিমার পুজোতে। সঙ্গে থাকত তাঁদের তিন সন্তান গৌতম, পিনাকী ও বাসবী। এছাড়াও নীলিমা দেবীর গানের ছাত্রছাত্রীরাও পুজোর আয়োজন থেকে ভোগ বিতরণে যোগ দিত।

ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড় ছেলে গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় শোনালেন তাঁদের সরস্বতী পুজো নিয়ে গল্প। বললেন, “আমি তখন খুব ছোট। ১৯৫৩-৫৪ সাল থেকেই এই পুজো শুরু হয়। আমাদের বাড়িতে শুধু সরস্বতী পুজোটাই ঘটা করে হত। শুরুতে ছিল ঘরোয়া পুজো একদম। ষাট সালে মা যখন বাড়িতে গানের স্কুল ‘সঙ্গীতশ্রী’ খুললেন তখন বড় করে পুজো হত। আমাদের বাড়ি তখন কে না আসতেন। প্রতিবার বাঁধাধরা ছিলেন বসন্ত চৌধুরী। বসন্তকাকু কোনও বার ভুলে যাননি আমাদের পুজো। এছাড়াও রবি ঘোষ, অনুভা গুপ্তা, কখনও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর স্ত্রী প্রমুখ। উত্তম কাকা পুজোয় সেভাবে না এলেও আমাদের দুই ভাইয়ের পৈতেতে এসেছেন।

বাবারা ঢাকার লোক হলেও আমাদের ভোগ হত সব নিরামিষ। বাঙালদের মতো জোড়া ইলিশ দেওয়ার কোনও ব্যাপার ছিল না। তার পর সরস্বতী ঠাকুর বিসর্জন হয়ে গেলে একটা রোববার দেখে আমাদের ছাদে গানের জলসা হত। সেখানে তখনকার হেন শিল্পী নেই যে আসেননি। শ্যামল কাকা (মিত্র), গায়ত্রী পিসি (বসু), হোমিদা, প্রতিমা ব্যানার্জী, আমাদের পাড়ায় থাকতেন ফিরোজা বেগম, তিনিও দুবার গেয়েছেন, চিন্ময় চট্টোপাধ্যায়, তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায় অনেকে। আমাদের চেনাশোনায় চল্লিশ-পঞ্চাশ জন আসত শ্রোতা আর পাড়ার লোকেদের গান শোনার জন্য ছাদের দু’দিকে দুটো মাইক লাগানো হত। দশ বারো বার এই সরস্বতী পুজোর জলসা হয়েছে আমাদের ছাদে, তাই অনেক আর্টিস্ট এসছে। আর বাবা তো থাকতেনই। বাবা সাধারণ কথাতেও কৌতুক করতেন বেশ।”

শ্যামল মিত্রর সরস্বতী পুজোয় ফল কাটছেন আরতি মুখার্জী

পঞ্চাশের দশক থেকেই শ্যামল মিত্রর বাড়িতে বড় করে সরস্বতী পুজো হত। সঙ্গে বাড়িতেই ছিল শ্যামল মিত্রর গানের স্কুল। বহু গুণী শিল্পী ছিলেন শ্যামল মিত্রর কৃতী ছাত্রছাত্রী। লেক অঞ্চলে বালিগঞ্জ কালচারালের পুজোটাই ছিল শ্যামল মিত্রর পাড়া। এই পুজোর প্রেসিডেন্টও ছিলেন শ্যামল মিত্র।

এই পুজো ঘিরে নস্ট্যালজিক স্মৃতি ভাগ করে নিলেন শ্যামল মিত্রর পুত্র, বিখ্যাত গায়ক সৈকত মিত্র। সৈকত মিত্র জানালেন “ছোটবেলা থেকেই লেক অঞ্চলে ৫, ওয়েডারবার্ন রোডের যে বাড়িতে আমরা থাকতাম, সেই বাড়িতে দুটো ছাদ মিলিয়ে পুজো হত। সামনের ছাদে পুজো হত আর পেছনের ছাদটায় বসে ভোগ খাওয়া হত। তখন সকলের বাড়ি ঘটা করে সরস্বতী পুজো খুব একটা হত না। কিন্তু আমাদের বাড়ির পুজোতে সকল অতিথিকে কার্ড দিয়ে নিমন্ত্রণ করা হত। শিল্পীদের কাছেও পছন্দের গন্তব্যস্থল ছিল আমাদের বাড়ি। হেমন্ত কাকু (মুখোপাধ্যায়),সতীনাথ কাকু (মুখোপাধ্যায়),মানব কাকু( মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়), দ্বিজেন কাকু (মুখোপাধ্যায়) সবাই আসতেন। তিনশো-চারশো লোক তো আসতই। বাবার গানের জগতের বন্ধুরা থেকে ছাত্রছাত্রী, আত্মীয়রা, পাড়ার লোকেরা সবাই। গান বাজনাও হত পুজোর সাথে। গানের শিল্পীরা এইচএমভির রিহার্সাল রুমের পুজো ঘুরে আমাদের বাড়ির পুজোর ভোগ খেতে আসতেন। আমরা এদেশীয় লোক, তাই ভোগ সব নিরামিষ।

আরও ঘটনা মনে পড়ছে, আমাদের ঘরের ছবি ‘দেয়া নেয়া’ বাবার প্রযোজনায় ও সুরারোপে যখন শুরু হয় তখন আরতি মুখোপাধ্যায়ের প্রথম প্লে ব্যাক। আরতি পিসিও আসতেন প্রায়। আরতি মুখোপাধ্যায় বসে ফল কাটছেন আমাদের সরস্বতী পুজোয়, এমনও দেখেছি। অলকা ইয়াগনিক তো আশির দশকে নিউআলিপুরে থাকতেন। কলকাতার মেয়ে। রোজ এসে বসে থাকতেন আমাদের বাড়িতে। পুজোতেও এসছেন। অলকাজির প্রথম চারটে বাংলা গান ছিল বাবার সুরে। আর সবথেকে স্মরণীয় যেটা, আমরা সবাই অপেক্ষা করে থাকতাম সরস্বতী পুজোয় উত্তম কুমার কখন ঢুকবেন। উত্তম কাকু আমার মা প্রতিমা মিত্রকে ‘বৌদি এসে গেছি’ বলে ঢুকতেন।”

সুচিত্রা সেনের পুজোয় মাস্ট জোড়া ইলিশ

সুচিত্রা সেন পাবনার মেয়ে হওয়ায় সেই বাঙাল মতেই লক্ষ্মী-সরস্বতী পুজো করতেন। জোড়া ইলিশ দিতেন সরস্বতীকে। ভোগেও তাই থাকত সোনামুগের খিচুড়ির সঙ্গে ইলিশ মাছ ভাজা এবং জিলিপি। সুচিত্রা সেন যেহেতু ঠাকুর রামকৃষ্ণের সাধিকা তাই রামকৃষ্ণের প্রিয় জিলিপিও মেনুতে রাখতেন। তবে সুচিত্রা চিরকালই প্রাইভেট পার্সেন। তাই সাড়ম্বরে প্রচুর অতিথি ডেকে পুজো করেননি। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, অসিত চৌধুরী, পিএন তালুকদার, বারীন ধর, সুচিত্রার বোন বোনঝিরা সবাই হাজির থাকতেন পুজোয়। মুনমুন বোর্ডিংয়ে থাকায় পুজো খুব একটা পাননি।

সুচিত্রার বোন রুণা ধরের সহপাঠী ছিলেন শান্তিনিকেতনে রমলা সেন। তিনি জানাচ্ছেন, “সুচিত্রা সেনকে আমি রাঙাদি বলেই ডাকতাম। ওঁর ছোট বোনের বন্ধু বলে উনি আমায় ভালোবাসতেন। ১৯৫৮ সালে প্রথম যাই লক্ষ্মীপুজোর দিন ওঁর বালিগঞ্জ প্লেসের বাড়িতে। পরে লক্ষ্মী ও সরস্বতী দুই পুজোতেই গেছি। রাত হলে সুচিত্রা সেনের ড্রাইভার রাম সিং ফিয়াট গাড়ি করে আমায় বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন, রাঙাদির নির্দেশে।”

সুচিত্রা এর পরে বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের বাড়িতেও পুজো করেছেন। বাড়িতে সুচিত্রা একেবারে অন্যমানুষ। সাদা-লাল পাড় শাড়িতে নিজেই ফল কাটতে বসে পড়তেন। যদিও পরের দিকে কোনও পুজো সেভাবে না করলেও রামকৃষ্ণদেব, সারদা মা, বিবেকানন্দকে সিংহাসনে সাজিয়ে নিজে রোজ পুজো করতেন। ওঁর বেডরুমের সঙ্গে লাগোয়া ছিল ঠাকুরঘর। সাধনা তাঁর কাছে ছিল জীবনের বিরাটত্ব। ওঁর অন্তরাল জীবনও তো এক সাধনা। তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পুজো করতেন না সুচিত্রা। সেটা মিথ।

মল্লিক বাড়ির সরস্বতী গোলাপী ডাকের সাজের প্রতিমা

শুধু ফিল্ম নয়, ভবানীপুর চক্রবেড়িয়ার মল্লিক বাড়ি অনেক আগে বিখ্যাত ইকমিক কুকার আবিষ্কার দিয়ে। সেই জিনিয়াস এই বাড়ির পূর্বপুরুষ। ১৯১০ সালে ইকমিক কুকারের উদ্ভাবন করেন ইন্দুমাধব মল্লিক। শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রচন্দ্র মল্লিকের পিতা ও নায়ক রঞ্জিত মল্লিকের পিতামহ।

ঠিক দুর্গা পুজোর মতো একই পটুয়া মল্লিকবাড়ির ঠাকুরদালানে তিলতিল করে গড়ে তোলেন সরস্বতী প্রতিমা। দুর্গা প্রতিমার মুখের আদলেই হয় সরস্বতীর মুখ। এ বাড়ির সরস্বতী প্রতিমার বিশেষত্ব গোলাপী ডাকের সাজ। সাদা ডাকের সাজ সচরাচর আমরা দেখি সরস্বতীর। রঞ্জিত মল্লিক ও রুক্মিণী মল্লিক ওরফে কোয়েল মল্লিক এবারও এলেন সরস্বতী পুজোয়। ছোট্ট নাতিকে কোলে করে রঞ্জিত মল্লিক এবারের সরস্বতী পুজো উপভোগ করলেন।

‘শিল্পী সংসদ’-এর পুজো আজও বহমান

উত্তম কুমার দুঃস্থ শিল্পীদের সাহায্যার্থে গড়ে তোলেন ‘শিল্পী সংসদ’। দুঃস্থ বহু শিল্পীর চিকিৎসা ও অন্নের সংস্থান করেছে এই প্রতিষ্ঠান। তাঁরা আজও এখানে সরস্বতী পুজো করে চলেছেন, যা শুরু করেন মহানায়ক। শিল্পী সংসদের বাড়ির আজ ভগ্নদশা। মালা পরে দেওয়ালে ঝুলছেন ছবির উত্তমকুমার, সুপ্রিয়া দেবীরা।

কিন্তু আজও বহু শিল্পী এই পুজোর দিন জড়ো হন এখানে। গানবাজনা, খাওয়াদাওয়ায় গমগম করে একদিন এই ভগ্ন বাড়িটি। উত্তম কুমারের হারমোনিয়াম আজও আছে ‘শিল্পী সংসদ’-এর ঘরে, যা বাজিয়ে, গান গেয়ে করা হয় বাগদেবীর আরাধনা। ‘শিল্পী সংসদ’ যদিও বছরে দুবার উত্তম কুমারকে নিয়ে নানাবিধ অনুষ্ঠান করে থাকে। ‘শিল্পী সংসদ’-এর কাণ্ডারী সাধন বাগচী আজও বাঁচিয়ে রেখেছেন উত্তমকুমারের স্বপ্ন।

রুপোলি জগতের কিংবদন্তী স্রষ্টাদের জীবনে বাগদেবীর আরাধনা ছিল গুরত্বপূর্ণ অধ্যায়। যার বেশিরভাগই আজ ইতিহাস, যা সংরক্ষণের উপায় এই স্মৃতিচারণা ছাড়া আর কিছুই নেই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More