করোনা নিয়ে ‘টোটাল ক্যাওস’ চলছে, সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হোক, দাবি শিবসেনার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : দেশে এখন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই অভুতপূর্ব পরিস্থিতিতে সংসদের দু’দিনের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হোক। সোমবার এমনই দাবি জানালেন শিবসেনার সাংসদ সঞ্জয় রাউত। রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয়ের মতে, কোভিড সংক্রমণ নিয়ে দেশ জুড়ে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে দেশে কোভিড অতিমহামারী দেখা দেওয়ার পর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় মহারাষ্ট্র। গত কয়েক সপ্তাহে দেশ জুড়ে দেখা দিয়েছে করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ। তাতে মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। রবিবার রাজ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৮ হাজার ৬৩১ জন। মারা গিয়েছেন ৫০৩ জন। সারা দেশে এদিন আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় দু’লক্ষ ৭৫ হাজার মানুষ। মারা গিয়েছেন ১৬১৯ জন।

এই পরিস্থিতিতে সোমবার টুইট করে সঞ্জয় রাউত বলেন, “দেশে এখন অভুতপূর্ব এবং প্রায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সব জায়গায় চরম বিভ্রান্তি ও টেনশন রয়েছে। বেড পাওয়া যাচ্ছে না, অক্সিজেন পাওয়া যাচ্ছে না, ভ্যাকসিনও যথেষ্ট সংখ্যায় দেওয়া হচ্ছে না।” এরপরেই শিবসেনার সাংসদ মন্তব্য করেন, “চারদিকে এখন টোটাল ক্যাওস চলছে। পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদের অন্তত দু’দিনের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হোক।”

শনিবার শোনা যায়, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে রাজ্যে অক্সিজেনের সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কথা বলার সুযোগ পাননি। একথা জানাজানি হওয়ার পরে উদ্ধবের সঙ্গে কথা বলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হর্ষবর্ধন। পরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন টুইট করে বলেন, তিনি উদ্ধব ঠাকরেকে আশ্বাস দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের নিয়মিত অক্সিজেন সিলিন্ডার পাঠাবে। সেই সঙ্গে পাঠাবে ১১২১ টি ভেন্টিলেটর।

একইসঙ্গে রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘সংকীর্ণ রাজনীতি’ করার অভিযোগ আনেন। মহারাষ্ট্র সরকারকে তিনি বলেছেন অপদার্থ ও দুর্নীতিগ্রস্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় রেলমন্ত্রী লিখেছেন, মহারাষ্ট্র দেশের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যায় অক্সিজেন সিলিন্ডার পেয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার নিয়মিত মহারাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে কথা বলে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, করোনা মোকাবিলায় রাজ্যের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করবে কেন্দ্রীয় সরকার। উদ্ধব ঠাকরে যেভাবে সংকীর্ণ রাজনীতি করছেন, তা দুঃখজনক।

দেশে সংক্রমণের হার এত দ্রুত বাড়ছে যে সব হিসেবনিকেশই তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। পজিটিভিটি রেট বেশি, করোনায় ‘আর-নম্বর’ (এফেক্টিভ রিপ্রোডাকশন নম্বর)বেড়েছে। উদ্বেগের শেষ এখানেই নয়। ভাইরাস সক্রিয় রোগীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক লাখ কোভিড অ্যাকটিভ রোগীকে শণাক্ত করা গেছে, সব মিলিয়ে দেশে এখন ভাইরাস সক্রিয় রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ। অ্যাকটিভ কেসের হারও ১২ শতাংশের বেশি যা চিন্তার কারণ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাস সক্রিয় রোগীর সংখ্যা এভাবে বাড়তে থাকলে সংক্রমণের হার আরও বাড়বে। বেশিজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে সংক্রমণ।

সেন্টার ফর সেলুলার অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজির ডিরেক্টর ডক্টর রাকেশ মিশ্র বলেছেন, করোনা সংক্রমণের নিরিখে আমেরিকার পরেই ভারত। আমেরিকায় যেমন প্রতিদিন লাখের বেশি সংক্রমণ ধরা পড়ছিল, এখন ভারতের অবস্থাও তেমনই। আগামী তিন সপ্তাহ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন তিনি। ডক্টর রাকেশের বক্তব্য, আগামী তিন সপ্তাহ খুব কড়াভাবে কোভিড বিধি না মানলে সংক্রমণের হার সব সীমা ছাড়িয়ে যাবে। আক্রান্তের সংখ্যা এত দ্রুত ও বিপুল হারে বাড়তে থাকবে যে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়বে দেশে। আর এই তৃতীয় ধাক্কা মোটেও সুখকর হবে না। বহু মানুষের মৃত্যু হবে সংক্রমণে। তাই এই কটা দিন কোভিড গাইডলাইন অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলা দরকার প্রত্যেকের।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More