ক্রমেই ফুলেফেঁপে ঢোল, সৌরভদের বোর্ডের কোষাগারে রয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এটা বহুকথিত একটি কথা ভারতীয় ক্রিকেট সম্পর্কে, যে বিসিসিআই-র যে পরিমান অর্থ রয়েছে, তারা পারলে দেশের সব ক্রীড়া সংস্থাগুলিকে আর্থিক অনুদান দিতে পারে। একবার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ফুটবল ফেডারেশনের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সেবার এআইএফএফ-র প্রেসিডেন্ট ছিলেন প্রয়াত প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি।

বোর্ডের সেইসময় যা অর্থ ছিল সেটি এখন পাহাড়প্রমাণ হয়েছে। আগে ছিল শুশুনিয়া পাহাড়, সেটি বর্তমানে এভারেস্টে পরিণত। সেই কারণেই আইসিসি-ও ভয় পায় বিসিসিআই-কে। একটা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতীয় দল না খেললে আইসিসি-র যা লোকসান হবে, তাতে বিশ্বের ছোট একটা দ্বীপ কেনা হয়ে যাবে। এতটাই অর্থ রয়েছে বোর্ডে, সেই কারণেই বলা হয়, আইসিসি-র ‘সোনার হাঁস’ ভারতীয় বোর্ডই।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবোয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট কাউন্সিলে যখন প্রবল অর্থনৈতিক সমস্যা, তখন ভারতীয় বোর্ডের কোষাগারে রয়েছে ১৪,৪৮৯ কোটি টাকা!‌ এবং এই হিসেব পাওয়া গেল ২০১৮-১৯ মরসুমে আর্থিক বর্ষের ব্যালান্স শিটে চোখ বুলিয়ে। সব থেকে বড় কথা, গত জানুয়ারি থেকে এবছরের অক্টোবর পর্যন্ত কোনও ক্রিকেট না হলেও বোর্ডের কোষাগার ঠিক পূর্ণ ছিল, এটিও এক রহস্যের। বলা হচ্ছে, আইপিএল করেই বোর্ড এবার চার হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে।

বোর্ডের অ্যাপেক্স কাউন্সিলের এক সদস্য সর্বাভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, আরও এক বছরের হিসেব–নিকেশ তৈরিতে ব্যস্ত আছেন কোষাধ্যক্ষ অরুণ ধূমাল। আয় বাড়ছে। তেমনই খরচও বেড়েছে বোর্ডের বিভিন্ন পরিকাঠামো তৈরি করার পেছনে।

২০১৪-১৫ সালে বোর্ডের কাছে ছিল ৫,৪৩৮.‌৬১ কোটি টাকা। পরের ৫ বছরে যা দ্বিগুণ বেড়েছে। ২০১৮-১৯ মরশুমেই বোর্ডের মুনাফা হয়েছিল ২,৪০৭.‌৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে মিডিয়া রাইটস থেকে পাওয়া গিয়েছিল ৮২৮ কোটি টাকা।
প্রত্যেক বছর আইপিএল থেকে মোটা টাকা পাওয়া ছাড়াও, দেশের মাঠে আন্তর্জাতিক ম্যাচ (‌২০১৮–১৯ মরশুমে এই খাতে পাওয়া গিয়েছিল ৪৪৬.‌২৬ কোটি টাকা)‌ আয়োজন, ব্যাঙ্ক থেকে পাওয়া সুদ (‌২০১৮-১৯ মরশুমে পাওয়া গিয়েছিল ২৯০.‌৭৩ কোটি টাকা)‌ এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল, আইসিসি থেকে লভ্যাংশ জমা হয় বোর্ডের কোষাগারে।

গোটা দেশ জুড়ে নানা স্তরের প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে গিয়েও খরচ হয় বিস্তর। এ ছাড়া, আইনি লড়াইয়ের জন্যও খরচ ধরা থাকে। বোর্ড চেষ্টা করছে কোচি, ডেকান চার্জার্স, সাহারা এবং নিও স্পোর্টসের সঙ্গে আদালতে যে লড়াই চলছে, তা আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলতে। যদি সমঝোতায় আসতে না পারা যায়, তাহলে, বিশাল টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বোর্ডকে।‌

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More