বিদেশীদের ভিড়ে বড় ম্যাচে উজ্জ্বল বঙ্গসন্তানরাই, চোখ টানলেন প্রবীর, প্রীতমরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঐতিহ্যের এই বাংলা ফুটবলের মহারণে মুখ রাখলেন বঙ্গসন্তানরাই। তাঁরাই হয়ে উঠলেন ম্যাচের চালিকাশক্তি।

দুই দল মিলিয়ে কতসব বিদেশী খেলে গেলেন। অনেকেই চোখ টেনেছেন, আবার অনেকেই চূড়ান্ত ব্যর্থ। সেই অবস্থায় দাঁড়িয়ে কলকাতা ডার্বিতে উজ্জ্বল হয়ে থাকলেন বাঙালি ছেলেরাই। তাঁরাই গোয়ার তিলক ময়দানে সফল। এটা বাংলার ফুটবলের পক্ষে সফল বিজ্ঞাপন।

আইএসএল শুরুই হয়েছে পেশাদারি ঢঙে, কর্পোরেটের ছোঁয়ায়। গত আসরগুলিতেও দেখা গিয়েছিল স্থানীয়দের দাপট। কিন্তু এটিকে-মোহনবাগান যে দুটি ম্যাচ জিতল, সেই দুটি খেলাতেই দাগ কেটেছেন বাংলার ছেলেরাই।

শুক্রবার গোয়ার তিলক ময়দানে সবুজ মেরুন কোচ হাবাস প্রথমেই বুঝিয়েছিলেন তিনি ডার্বির বৈতরণী পেরতে চান বাংলার ছেলেদের দলে রেখেই। সেই কারণে তিনি এই ম্যাচেও উত্তরপাড়ার ছেলে ডিফেন্ডার প্রীতম কোটালকেই দলের অধিনায়ক করেছিলেন। দলে রেখেছিলেন একঝাঁক বাংলার ছেলে।

এটিকে-মোহনবাগান কোচ প্রথম একাদশেই রেখেছিলেন বাংলার পাঁচ ফুটবলারকে। গোলে অরিন্দম ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে প্রীতম, শুভাশিস বসু, প্রবীর দাস, প্রণয় হালদারদের দলে রেখেছিলেন। এমনকি মনবীরও বহুদিন ধরে কলকাতা ময়দানে খেলে গিয়েছেন। সেই কারণে তাঁরও বাংলার মাঠের প্রতি টান রয়েছে।

হাবাসের বুদ্ধিমত্তার এটাই কারণ, তিনি জানতেন ডার্বির মতো ঐতিহ্যের লড়াইয়ে স্থানীয়দের রাখলে অনেক সুবিধে, তাতে বড় ম্যাচের উত্তেজনা ও স্নায়ু বুঝতে পারবেন তারা। সেটাই ঘটেছে। প্রবীর দাস যে ফুটবলটি খেলেছেন এদিন, তার কোনও জবাবই নেই।

তিনি ম্যাচে সুইচওভার করেছেন বারবারই। তাঁর সঙ্গে দলের সেরা স্ট্রাইকার রয় কৃষ্ণের দারুণ সমঝোতা। তাঁরা দুজনেই হোটেলে রুম মেট। একে অপরকে ভাল বোঝেন, সেটি ম্যাচেও তার প্রতিফলন পড়েছে। প্রবীরের পায়ে বল থাকলেই পজিশন নিয়ে নিয়েছেন রয়, সেটা গোলের ক্ষেত্রেও দেখা গিয়েছে। তারপর গত ম্যাচের মতোই দুই বন্ধু গোল উৎসবও করেছেন।

শুধু প্রবীর নন, রক্ষণে শুভাশিস, ডিফেন্সে প্রীতমরা বুঝিয়েছেন তাঁরা সত্যিকারের সিনিয়র হয়ে উঠছেন। প্রীতম তো দাঁতই ফোটাতে দেননি ইস্টবেঙ্গল আক্রমণভাগেত তারকাদের। এমনকি শুভাশিসও ডান দিক দিয়ে আক্রমণে গিয়েছেন বারবারই।

এমনকি গোলের নিচে দূর্ভেদ্যে ছিলেন টালিগঞ্জের ছেলে দীর্ঘকায় গোলরক্ষক অরিন্দম ভট্টাচার্য। তিনি যেভাবে শেষ দিকে পিলকিনটনের শট বাঁচিয়েছেন, সেইসময় খেলায় সমতা ফিরে এলে কী হতো বলা যায় না।

হাবাস যে বুদ্ধির সঙ্গে দল সাজিয়েছেন, সেই দিক থেকে ব্যর্থ লাল হলুদের কোচ রবি ফাউলার। এই ব্রিটিশ কোচ ডার্বির মতো লড়াইয়ে দলের কোনও স্বদেশীর হাতে আর্মব্যান্ড দেননি, তিনি দিয়েছিলেন স্বদেশীয় ড্যানি ফক্সের হাতে। তিনি যেমন ব্যর্থ, তেমনি তাঁরই ডেপুটি পিলকিনটনও সফল নন।

লাল হলুদের গোলের নিচে দেবজিৎ মজুমদার যদি ভাল না খেলতেন, তা হলে ইস্টবেঙ্গল আরও দুটি গোল হজম করত। সেক্ষেত্রে ঘরের ছেলের হাতেই মুখরক্ষা লাল হলুদেরও।

যে ম্যাচটিতে প্রিমিয়ার লিগের তারকা, এ লিগের তারকারা ছিলেন, সেই পরিস্থিতিতে বাঙালিদের চিরন্তন লড়াইতে বাজিমাত বাংলার ছেলেদেরই, এটাই আইএসএলের প্রথম ডার্বির সার্থকতা।

 

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More