‘আপনার হাতে রক্তের দাগ লেগে রয়েছে’, অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ নামী প্রাক্তনের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিতর্কে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। ভারতে খেলতে আসা অস্ট্রেলীয়রা বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন কোভিডের কারণে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, ‘‘যারা ভারতে আইপিএল খেলতে গিয়েছেন, তারা নিজেদের সুবিধাতেই গিয়েছেন। দেশে ফেরার দায়িত্ব আমরা নেব না।’’

দেশের প্রধানমন্ত্রীকে প্রথম এই আর্জি জানিয়েছিলেন ক্রিস লিন। তিনি বলেছিলেন, ‘‘ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে, এই কারণে আমরা দেশে ফিরে যেতে চাই। আমাদের জন্য সরকার যদি চাটার্ড বিমানের ব্যবস্থা করে তা হলে আমরা সবাই দেশে ফিরে যেতে রাজি।’’

মরিসন সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছেন। আর তাতেই অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর উপর একরাশ ক্ষোভ জানিয়েছেন দেশের নামী প্রাক্তন ক্রিকেটার এবং ধারাভাষ্যকর ও ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ মাইকেল স্লেটার। অজি ক্রিকেটারদের দেশে ফেরা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেই আগুনে নতুন ঘৃতাহুতি দিলেন স্লেটার।

অস্ট্রেলিয়ার কিছু ক্রিকেটার যেমন নিজেরা আইপিএলে খেলতে এসেছেন। আবার প্রাক্তন ক্রিকেটাররা কেউ কোচ হয় এসেছেন। কেউ বা ধারাভাষ্যকার হিসেবে এ দেশে এসেছেন। কোনও কারণে আইপিএল যদি বন্ধ হয়ে যায়, তা হলে ওই ক্রিকেটাররা দেশে ফিরতে পারবেন না। কারণ দেশ থেকে বলে দেওয়া রয়েছে, ভারত থেকে কেউই যেন এখানে প্রবেশ করতে না পারেন।

যতদিন না ভারতে করোনা পরিস্থিতি ঠিক হয়, ততদিন এখানেই তাঁদের থেকে যেতে হবে। এমনই নির্দেশ জারি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। আর এতেই ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন স্লেটার। যদিও বিসিসিআই জানিয়েছে, বিদেশী ক্রিকেটারদের ভাবতে হবে না, লিগ শেষ হয়ে গেলে তাদের দেশে ফেরার দায়িত্ব বোর্ডই নেবে।

মাইকেল স্লেটার টুইটারে তাঁদের প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে লিখেছেন, ‘যদি আমাদের সরকার অজিদের সুরক্ষার কথা সত্যি ভেবে থাকেন, তবে আমাদের দেশে ফিরতে দেওয়া হোক। এটা চূড়ান্ত অসম্মান!! আপনার হাতে তো মনে হয় রক্তের দাগ লেগে রয়েছে। আমাদের সঙ্গে এমন ব্যবহার করার স্পর্ধা আপনার কী করে হয়! কী ভাবে কোয়ারেন্টাইন সিস্টেম ঠিক করছেন! আইপিএলে কাজ করার জন্য সরকারের অনুমতি নিয়ে এসেছিলাম। এখন সরকারই আমাদের কীভাবে অবহেলা করে?’’

এই ঘটনা অন্যদিকে মোড় নিল সন্দেহ নেই। সব অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারদের হয়েই এমন বলেছেন স্লেটার। এখন তাঁর এই মন্তব্য কীভাবে প্রধানমন্ত্রক নেবে, সেটাই আলোচ্য বিষয়। উল্লেখ্য, ১৫ মে পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে যাবতীয় বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। পরিস্থিতি বুঝে এই সময়সূচি আরও বাড়াতে পারে অস্ট্রেলিয়া সরকার।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More