প্রদীপের নিচে অন্ধকার, কোটির আইএসএলের পাশে আই লিগে চরম দুর্দশা, ফুটবলাররা পাচ্ছেন মাসিক ১০ হাজার টাকা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এমন মনে হয় ভারতীয় ফুটবলেই সম্ভব। একদিকে আলো ঝলমল করছে, অন্যদিকে চরম দারিদ্রতা। এটা একটি দৃষ্টান্ত, কিন্তু এই উপমাই চরম আকার ধারণ করছে দেশের ফুটবল পরিকাঠামোয়। যেখানে কোনও ভারসাম্য নেই, চরম নৈরাজ্য চলছে।

একদিকে আইএসএলের মতো কোটিপতি লিগের আয়োজন চলছে। অন্যদিকে আই লিগের ফুটবলারদের চরম দুর্দশা। তাঁদের হয়ে বলার মতো কেউ নেই। একবারও কোনও কর্তা জানালেন না আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি ব্যাপারটা কি! তাঁরা শুধু সবটা শুনে বলেছেন, আমার এই নিয়ে কিছু বলার নেই।

ব্যস, ওই টুকুই, আর কোনও উচ্চবাচ্য নেই। আসলে ফেডারেশন কর্তারাই এখন এফএসডিএল (আদতে রিলায়েন্স)-র আধিকারিকদের নির্দেশে চলছেন। তাঁরা বাঁদিকে যেতে বললে সেদিকে যাচ্ছেন, ডানদিকে যেতে বললে ডানদিকে যাচ্ছেন।

না হলে আই লিগের ক্লাবগুলির ফুটবলারদের মাসিক দশ হাজার টাকা বেতন দেওয়া যাচ্ছে না, সেটি জানেন না এআইএফএফ-র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুব্রত দত্ত। তিনি বললেন, ‘‘আমি কিছু বলব না এই বিষয়ে।’’

তা হলে কে বলবেন? ভারতীয় ফুটবলের এই অন্ধকারময় ঘটনাটি সামনে নিয়ে এসেছেন ফেডারেশনেরই যুব উন্নয়ন আধিকারিক সাজি প্রভাকরণ। তিনি একটি টুইটে লিখেছেন, ‘‘ভারতীয় ফুটবলের উন্নতির একটি বিকৃত ছবি, এটাই যে একদিকে আইএসএল চলছে ধুমধাম সহকারে, আর অন্যদিকে আই লিগের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের ফুটবলারদের দেওয়া যাচ্ছে না মাসিক দশ হাজার টাকাও। একটা কারণ হতে পারে কোভিড পরিস্থিতি, তাই যদি হয়, তা হলে বাকি সব জায়গায় ঠিক থাকলেও এখানেই বা এরকম দৈন্যতা দেখানো হচ্ছে কেন?’’

প্রভাকরণরা কথা বলতে পারেন, তাঁরা প্রতিবাদ করতে জানেন। গদি বাঁচাতে বছরের পর বছর ‘ইয়েস ম্যান’ হয়ে থাকেন না। কেরলের ওই নামী প্রাক্তন ফুটবলার টুইট করার পরেই সেটি রিটুইট করেছেন মিনার্ভা পাঞ্জাবের মালিক রঞ্জিত বাজাজও।

তিনিও বলেছেন, ‘‘এটা কী উচিত হচ্ছে এফএসডিএলের। আইএসএলকে হৃদপুষ্ট করার পরে তাদের কী আর কোনও দায়িত্ব থাকে না? তারা কী আই লিগকে কোনও টুর্নামেন্ট ভাবেন না? ওই আসরে যারা খেলতে নামবে, তারা কী কোনও ফুটবলারের স্বীকৃতি পেতে পারে না? তা হলে এমন বৈপরিত্য কেন? কিসের কারণে?’’

অনেকেই মনে করছেন, যেহেতু এতদিন আই লিগে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের মতো বড় দল খেলত, তাই এই নিয়ে কোনও অন্যথা হতো না। কিন্তু ওই দুই দলকে আইএসএলে খেলানোর ব্যবস্থা করে দিয়ে পরোক্ষভাবে আই লিগের জৌলুসকে কমিয়ে দিচ্ছেন রিলায়েন্স কর্তারা। আর এই কাজে সহায়তা করছেন সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের ছোট-বড়-মেজ কর্তারা।

নিয়ম হচ্ছে, ক্লাবগুলি যেমন ফুটবলারদের মাসিক বেতন দেয় চুক্তির ভিত্তিতে, তেমনি ফেডারেশনও তাদের লভ্যাংশ থেকে ফুটবলারদের মাসিক ভাতা দেয়। এই নিয়ম প্রযোজ্য আইএসএলের ক্ষেত্রেও। তারাও ফ্রাঞ্চাইজি থেকে অর্থ পাওয়ার পাশে ফেডারেশন থেকেও ভাতা পায়, আর সেটি কখনই ১০ হাজারের মতো বেতন নয়। মহামেডানের এক ফুটবলারও জানালেন, ‘‘করোনা পরিস্থিতির কথা বলে ফেডারেশন ক্লাবকে একটি চিঠিও দিয়েছিল, সেই মতো আমাদের জানায় ক্লাব। কিন্তু তারপর তো নিশ্চয়ই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে, তারপরেও আমাদের মাসিক ভাতা বাড়ানো হলো না, আমি বলতে পারব না।’’

 

 

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More