ফের ম্যান সিটি ঝড়ে উড়ে গেলেন নেমাররা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গুয়ার্দিওলার দল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের নীল ঝড়, ফের ম্যাজিক পেপ গুয়ার্দিওলার, এই প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে ম্যাঞ্চেস্টার সিটি। আগামী ২৯ মে ইস্তানবুলের ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে রিয়াল মাদ্রিদ অথবা চেলসির মধ্যে জয়ী দলই।

চোটের জন্য এ ম্যাচে নামতে পারেননি কিলিয়ান এমবাপে। মহাতারকা নেইমার খেলেছেন প্যারিস স্যঁ জ্যঁ-র হয়ে। কিন্তু সেই ঝলক ছিল না ব্রাজিলীয়র। গত সাক্ষাতে যেখানে শেষ করেছিল, এদিন ম্যাচে শুরুটা করল সেই কেন্দ্র থেকে।

নিজেদের ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে পিএসজি-কে ২-০ গোলে হারিয়ে পেপ গুয়ার্দিওলার দল প্রমাণ করল তারাও এবার প্রস্তুত ইউরোপ সেরা হওয়ার।

ইউরোপের সেরা প্রতিযোগিতার ইতিহাসে এই প্রথম ইংল্যান্ডের কোনও দল এক আসরে ১১টি ম্যাচ জিতল। পাঁচ জয় ও এক ড্রয়ে গ্রুপ পর্ব পার করা সিটি নকআউট পর্বে জিতল সব ম্যাচই।

দুই অর্ধে একবার করে বল জালে পাঠান রিয়াদ মাহরেজ। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝপথে ১০ জনের দলে পরিণত হয়ে বাকি সময়ে আর লড়াইও করতে পারেনি পিএসজি। প্রতিপক্ষের মাঠে ২-১ গোলে জেতায় দুই লেগ মিলিয়ে ৪-১ ব্যবধানে ফাইনালে উঠল ম্যান সিটি।

তুষারে মাঠের অনেকটা জায়গা ঢেকে ছিল। তাতে ফুটবলের স্বাভাবিক ছন্দ কিছুটা বিঘ্ন হয়। বিরতির পর আবার নামে বৃষ্টি। তবে কোনও কিছুই থামাতে পারেনি দুর্দান্ত সিটিকে। পিএসজির জন্য হিসেবটা আগে থেকেই ছিল বেশ কঠিন। শুধু জিতলেই হতো না, ব্যবধানটাও রাখতে হতো যথেষ্ট। তেমন কিছুর সম্ভাবনাও জাগাতে পারেনি তারা। পুরো ম্যাচে একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি দলটি।

শুরুটা অবশ্য ভাল করেছিলেন নেমাররা। প্রথম মিনিট থেকে চাপ তৈরি করেন তাঁরা। খেলার ছয় মিনিটে পেনাল্টি পায়, তবে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় অলেকসান্দার জিনচেঙ্কোর কাঁধে বল লেগেছিল, ভিএআরে রেফারি সিদ্ধান্ত বদল করেন।

পাঁচ মিনিট পরেই গোল খেয়ে বসে পিএসজি। দারুণ এক প্রতি-আক্রমণে কেভিন ডে ব্রুইনের শট মার্কিনিয়োসের পায়ে লেগে বল চলে যায় ডানদিকে। ছুটে গিয়ে জোরালো কোনাকুনি শটে কেইলর নাভাসকে পরাস্ত করেন মাহরেজ। প্রথম লেগে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেছিলেন আলজেরিয়ার এই মিডফিল্ডার।

বিরতির আগে আবারও ভীতি ছড়ান মাহরেজ। তবে এ যাত্রায় তাঁর দুরূহ কোণ থেকে নেওয়া শট পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন নাভাস।

পিএসজি বিরতির পরও খেলতে থাকে সাদামাটা ফুটবল। বারবার আক্রমণে উঠলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে না পেরে দিকভ্রস্ট শট নিচ্ছিলেন নেমার, দি’মারিয়ারা।

ম্যাচের ৫৪ মিনিটে দারুণ সুযোগ পায় সিটি। তবে ফিল ফোডেনের জোরালো শট দারুণ সেভ করেন নাভাস। তবে এর ১০ মিনিট পরই ম্যাচ প্রায় শেষ করে দেন মাহরেজ। বাঁ দিক থেকে দারুণ পাল্টা আক্রমণে উঠে ডি ব্রুইনেকে বল বাড়িয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন ফোডেন। এরপর ফিরতি পাস পেয়ে ডান দিকে ক্রস বাড়ান তরুণ এই ইংলিশ মিডফিল্ডার। আর কোনাকুনি শটে স্কোরলাইন ২-০ করেন মাহরেজ।

মেজাজ হারিয়ে দি মারিয়া ৬৯ মিনিটে লাল কার্ড দেখলে পিএসজির ঘুরে দাঁড়ানোর আশা বলতে গেলে শেষ হয়ে যায়। সাইডলাইনে বাইরে অহেতুক সিটির অধিনায়ক ফের্নানদিনিয়োকের পায়ে আঘাত করেন মারিয়া, তাঁকে রেফারি বের করে দেন।

প্রথমার্ধেও দু-দফায় দুই পক্ষের মাঝে একটু উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। লাল কার্ডের সিদ্ধান্তে আবারও তাই হয়। হাতহাতিও চলে কিছুটা। পরের চার মিনিটে দুই দলের আরও তিন জন দেখেন হলুদ কার্ড।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More