ঋদ্ধিমানের কারণেই টেস্ট থেকে অবসর নিয়েছিলেন ধোনি, ফাঁস হল সেই ঘটনা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটি সুন্দর মুহূর্তের সোনালি সন্ধিক্ষণ ও অন্য একটি অতীতের ঘটনার পর্দা ফাঁস। এরকমভাবে সাজানো যেতে পারে ভারতীয় ক্রিকেটের এই মঞ্চকে।

আমেদাবাদের মোতেরায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গোলাপি বলের টেস্ট ম্যাচে নিজের সেঞ্চুরি ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন ঈশান্ত শর্মা। ভারতের এই পেসার দেশের একাদশতম ক্রিকেটার হিসেবে এই অনন্য রেকর্ডের অধিকারী হলেন।

এই দুর্লভ মুহূর্তের সাক্ষি থাকতে পারেন এম এস ধোনিও। অনেকেই জানেন, তাঁরও হয়তো একশো ম্যাচ খেলার নজির রয়েছে টেস্টে। কিন্তু তা নয়, কারণ ২০১৪ সালের অস্ট্রেলিয়ার সফরের তৃতীয় ম্যাচের পর আচমকাই টেস্ট থেকে সরে দাঁড়ান ধোনি। সেইসময় তিনিই দলের অধিনায়ক, আর নামের পাশে ছিল ৯০টি টেস্ট ম্যাচের অভিজ্ঞতা।

আচমকা কেন নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন, সেই নিয়ে সমান রহস্য রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটে। ধোনি নিজে এই নিয়ে বিশদে ব্যাখ্যা করেননি। কিন্তু ঈশান্ত দলের সিনিয়র তারকা হিসেবে জানিয়েছেন সেই পর্দা ফাঁসের কাহিনী।

নিজের ১০০তম টেস্ট খেলার ফাঁকেই ঈশান্ত বলেছেন, ‘‘যদিও ধোনি ১০০ টেস্টের খুব কাছাকাছি ছিল, তবু তিনি সবসময়ই টিমম্যান ছিলেন। আমার মনে আছে, যখন আমরা ইংল্যান্ডে ছিলাম, তিনি আমাকে বলেছিলেন, একশ টেস্ট খেলতেই হবে, এমনটা জরুরি নয়। তাঁর অনুভব ছিল, এর বদলে আমাদের উচিত ঋদ্ধিমান সাহাকে তৈরি করা। নতুন কাউকে তুলে আনার লক্ষ্যেই নিজের ওই মহাকীর্তি স্পর্শ করেননি মাহি।’’

এসময় ধোনির শেষ ম্যাচের একটি ঘটনার কথা জানান ইশান্ত, ‘‘ধোনির অবসরের দিন আমার খুব খারাপ লেগেছিল। মেলবোর্নের সেই ম্যাচের জন্য আমি অনেকগুলো ইনজেকশন নেই। কারণে আমার হাঁটুতে অনেক ব্যথা হচ্ছিল। আমি জানতাম না যে মাহি ভাই (মহেন্দ্র সিং ধোনি) অবসর নিয়ে নেবেন। আসলে কেউই জানতাম না তিনি অবসর নেবেন।’’

ভারতের নামী পেসার আরও বলেছেন, ‘‘চতুর্থ দিনের চা পানের বিরতির সময় অস্ট্রেলিয়া তাদের ইনিংস ঘোষণার কাছাকাছি চলে গিয়েছিল, তখন মাহি ভাইকে বললাম যে আমি আর ইনজেকশন নিতে পারছি না। তিনি আমাকে বললেন, ঠিক আছে, তোমাকে এখন আর বোলিং করতে হবে না। এরপর কী যেন হল, তিনি আবার বললেন, তুমি আমাকে টেস্টের মাঝপথে ছেড়ে দিলে।’’

ঈশান্ত বেশ আবেগরুদ্ধ কন্ঠে সেইসময় জানান, ‘‘আমি মাহির কথাটি বুঝতে পারিনি। পরে তিনিই ব্যাখ্যা করলেন, তুমি আমার শেষ ম্যাচের মাঝপথে ছেড়ে গেলে। এটা শুনে আমি স্তব্ধ হয়ে যাই। আমি তাঁকে বললাম যে, যদি জানা থাকত তাহলে অবশ্যই (ম্যাচের বাকি সময়) খেলা চালিয়ে নিতাম। এটা সত্যিই খুব স্পর্শকাতর ঘটনা ছিল। আমি একদম শেষদিন পর্যন্তও জানতাম না যে তিনি অবসর নিচ্ছেন।’’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More