করোনায় মৃত্যু আইএফএ-র প্রাক্তন সচিবের, শহরে নেহরু কাপের উদ্যোক্তা ছিলেন তিনিই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ময়দান হারাল এক নামী ক্রীড়া প্রশাসককে। চলে গেলেন আইএফএ-র প্রাক্তন সচিব অশোক মিত্র। তিনি আশির দশকের গোড়ায় সচিব ছিলেন, সেইসময় বাংলা ফুটবলে প্রদ্যোত দত্তের আমল।

অশোক বাবু মারা গেলেন করোনাভাইরাসে। বয়স হয়েছিল ৯২ বছর, তিনি বহুদিন ধরেই জ্বরে ভুগছিলেন, মাঝে সুস্থ হয়েও গিয়েছিলেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে রাজারহাটের এক বেসরকারী হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বুধবার ভোরেই।

ময়দানে তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন নন্টু মিত্র নামেই। এরিয়ান ক্লাবে দীর্ঘদিন সচিব ছিলেন। ক্লাব প্রশাসনে আসার আগে তিনি ফুটবলও খেলতেন। বাংলার হয়ে সন্তোষ ট্রফিও খেলেছেন।

১৯৮১ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত আইএফএ-এর সচিব ছিলেন। তাঁর সময় কলকাতায় প্রথম নেহরু কাপের আসর বসেছিল। তিনি উদ্যোক্তা ছিলেন বলা যায়।

সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তথা একেজি-র মালিক অশোক ঘোষের সময় আইএফএ-এর সহসভাপতিও হয়েছিলেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আইএফএ-র মেডিক্যাল ইউনিট তিনিই প্রথম শুরু করেছিলেন। তিনি ফুটবলারদের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে খোঁজখবর রাখতেন।

তিনি চাকরি করতেন কোল ইন্ডিয়ায়। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বাবা চন্ডী বাবুকে তিনিই প্রথম এরিয়ান ক্লাব থেকে সিএবি-তে নিয়ে এসেছিলেন। এমনকি এরিয়ানের বর্তমান শীর্ষ কর্তা সমর পালের উত্থানও নন্টু মিত্রের হাত ধরেই। থাকতেন সমর পালের বাড়ির কাছেই, বাগবাজারে।

এদিন অশোক মিত্রের স্মরণে বলতে গিয়ে ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি তথা আইএফএ-র বর্তমান চেয়ারম্যান সুব্রত দত্ত জানান, ‘‘নন্টুদা বড় মাপের কর্তা ছিলেন, তাঁর আমলে বাংলা ফুটবলের প্রভূত উন্নতি ঘটেছিল, তিনি এরিয়ান ক্লাব থেকে এসে সর্বময় কর্তা হন। তিনি প্রদ্যোত দত্তের পরে আইএফএ-তে আসেন।’’

এরিয়ান কর্তা সমর পালও স্মৃতিরোমন্থনে জানান, ‘‘নন্টুদা-র থেকে প্রশাসনিক বিষয়ে অনেক শিখেছি, তিনি মহীরুহ ছিলেন। আমাকে সবসময় সাহস দিয়ে গিয়েছেন।’’

এদিন অশোক বাবুর মৃত্যুর খবর ময়দানে আসতেই এরিয়ান ক্লাবের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। মাঠের প্রবীণ কর্তারাও তাঁর স্মৃতিচারণ শুরু করে দেন।

 

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More