এত সুন্দরী স্ত্রী থাকতেও তোমার জীবনে হতাশা কেন, কোহলিকে প্রশ্ন করে বিতর্কে ফারুখ ইঞ্জিনিয়ার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বিতর্ক সৃষ্টি করলেন ফারুখ ইঞ্জিনিয়ার। দেশের নামী এই প্রাক্তন উইকেটরক্ষক এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে কোহলিকে প্রশ্নই করে বসেছেন, ‘‘আমি তো এটাই বুঝতে পারি না, বিরাট কোহলির এত সুন্দরী স্ত্রী (অনুষ্কা শর্মা) থাকতেও ওর জীবনে এত হতাশা কেন?’’

প্রসঙ্গটি এসেছে সম্প্রতি বিরাটের এক সাক্ষাৎকারের অংশ থেকে। সেখানে তিনি জানিয়েছিলেন, ২০১৪ সালে যখন তিনি রান পাচ্ছিলেন না, সেইসময় তিনি মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে মনে হতো ক্রিকেটই ছেড়ে দেবেন! প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে কোহলি তখন বিয়ে করেননি অনুষ্কাকে।

ইঞ্জিনিয়ার যদিও অত খেয়াল না করেই পালটা বলেছেন, এই ধরনের রোগ পশ্চিমী বিশ্বের। আর এরপরই তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে শোরগোল পড়েছে ক্রিকেট দুনিয়ায়।

ভারতের এই প্রখ্যাত প্রাক্তন উইকেটরক্ষকের সঙ্গে কোহলির সমস্যা নতুন নয়। একবার এই ইঞ্জিনিয়ারই বলেছিলেন, ‘‘কোহলির স্ত্রীকে খুশি রাখার জন্য জাতীয় নির্বাচকরা তাঁকে খেলা চলাকালীন চায়ের কাপও এগিয়ে দেন।’’ এই বক্তব্য নিয়েও জলঘোলা হয়েছিল। সেইসময় মুখ খুলেছেন স্বয়ং অনুষ্কাও। তিনিও বলেছিলেন, ‘‘ক্রিকেটার স্বামী যখন রান পায় না, সেইসময় তাঁর স্ত্রীকে দোষারোপ করা বন্ধ করা উচিত।’’

এবারও ইঞ্জিনিয়ার ইচ্ছাকৃতভাবেই নিজের দিকে বিতর্ক টেনে এনেছেন। তিনি বলেছেন, “ওরকম সুন্দর স্ত্রী থাকতে কোহলি কীভাবে মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে, সেটাই চিন্তা করি। ওর সন্তানও হয়েছে। এর জন্য তো বিরাটের ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।”

এরপরই তিনি বলেন, “মানসিক অবসাদ পশ্চিমী দুনিয়ার। ওরাই এগুলো নিয়ে বেশি কথা বলে। কিন্তু আমাদের ভারতীয়দের মানসিক কাঠিন্য অনেক বেশি। আমাদেরও জীবনে অনেক ওঠা-নামা থাকে। কিন্তু আমরা মানসিক জোরেই জীবনযুদ্ধের সেই লড়াইয়ে নামি এবং সফল হই। যা কিনা অন্যদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে কম রয়েছে।”

এর আগে ইংল্যান্ডের প্রাক্তন তারকা মার্ক নিকোলাসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন কোহলি । সেখানেই তিনি ২০১৪ সালের ঘটনার কথা বলেন। সে বছর ইংল্যান্ড সফরে গিয়েছিল ভারতীয় দল। একের পর এক ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন কোহলি। আর তাতেই বাড়ে হতাশা। পাঁচ টেস্টে কোহলির সংগ্রহ ছিল যথাক্রমে ১, ৮, ২৫, ০, ৩৯, ২৮, ০, ৭, ৬ ও ২০। অর্থাৎ দশটি ইনিংসে শতরান তো দূর অস্ত, একটি হাফ-সেঞ্চুরিও করতে পারেননি তিনি। দশ ইনিংসে তাঁর গড় ছিল ১৩.৫০।

সেই ঘটনা উল্লেখ করে কোহলি বলেছিলেন, “হ্যাঁ, কেরিয়ারের এক সময় সত্যিই হতাশা গ্রাস করেছিল আমায়। ঘুম থেকে উঠেই যদি মনে হয় আজ আমি রান করতে পারব না, সেই অনুভূতি কোনও ক্রিকেটারের জন্যই সুখকর নয়। আমার বিশ্বাস, সব ক্রিকেটারকেই জীবনের একটা না একটা সময় এই অনুভূতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। মনে হয় যেন নিজের হাতে কোনও নিয়ন্ত্রণই নেই। কীভাবে এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়া সম্ভব, ভেবে কূলকিনারা পাওয়া যায় না।”

এমনকি সেইসময় কোহলি এও বলেছিলেন, ‘‘আমি তখন সত্যিই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম। খুব একা লাগত নিজেকে, জানতাম না কী করে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাব। একটা ভাল ইনিংসই পারত সেই অসহ্য অবস্থা থেকে পরিত্রান দিতে।’’ কোহলির সেই কথা শুনেই ইঞ্জিনিয়ারও মুখ খুলে বিতর্ক ডেকে আনলেন। তাঁর ওই বক্তব্য শুনে বিশেষজ্ঞদের অনেকেই অবাকও হয়ে গিয়েছেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More