ইস্তফা তিন ভাইস প্রেসিডেন্টেরও, ‘স্বার্থের সংঘাত’ থাকলে আমি নেই, ক্রীড়ামন্ত্রীকে জানালেন বিদায়ী সচিব

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা ফুটবলের অশান্তি কমার লক্ষ্মণ নেই, বরং আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। সোমবার ইস্তফা দিয়েছেন আইএফএ-র তিন ভাইস প্রেসিডেন্টও। যিনি মধ্যস্থতা করতে পারতেন, সেই রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস আদৌ কোনও দিশা দেখাতে পারলেন না বৈঠকে।

সোমবার বিকালে আইএফএ অফিসে সংস্থার বিদায়ী সচিব জয়দীপ মুখোপাধ্যায় ও সভাপতি অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকেছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী। তাঁদের তিনজনের মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আলোচনা হয় অনেককিছুই। কিন্তু সচিব যা বলার সদম্ভে জানিয়ে দেন ক্রীড়ামন্ত্রীকে। জয়দীপ পরিষ্কার জানান, ‘‘বাংলা ফুটবলের উন্নতিতে আইএফএ-র স্বার্থরক্ষা হবে, এমন কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারলে আমি থাকব, না হলে আমার ফেরার কোনও ইচ্ছে নেই।’’

বিতর্কের সূত্রপাত, ময়দানে কন্যাশ্রী কাপ ফুটবলের সেমিফাইনাল ম্যাচটি ঘিরে। সেই ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল অবৈধ ভিনরাজ্যের ফুটবলার খেলিয়েছে। তাতে নিয়ম মতো পুলিস এসি ফাইনালে উঠে যায়। কিন্তু ম্যাচটি রিপ্লে দেওয়া হয়, তাতে জিতে ফাইনালে ওঠে লাল হলুদ দল। কিন্তু কেন ইস্টবেঙ্গলকে শাস্তি দেওয়া যাবে না, এই বিষয়টি সচিব বুঝিয়ে উঠতে পারেননি সভাপতিকে।

কেননা সংস্থার সভাপতি অজিতবাবু, যিনি আবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দাদা, তিনি ইস্টবেঙ্গলের কর্মসমিতির সদস্যও বটে। সেই কারণে তিনি তাঁর ক্লাবের বিরুদ্ধে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। এই নিয়েই সমস্যা বাধে সচিবের সঙ্গে। সেই জন্য পদত্যাগপত্রও পাঠিয়ে দেন জয়দীপ।

ক্রীড়ামন্ত্রীকে বিদায়ী সচিব বলে দেন, ‘‘এর আগে আইএফএ-তে কোনও সচিবই বড় দলের কমিটিতে ছিলেন না। সেই কারণে অজিতবাবুকে সভাপতি থাকতে হলে তাঁকে ইস্টবেঙ্গলের কমিটি থেকে ইস্তফা দিতে হবে। কারণ স্বার্থের সংঘাত ঘটলে বাংলা ফুটবলে নিরপেক্ষতা বলে কোনও বস্তু থাকবে না।’’

ক্রীড়ামন্ত্রী সবটা শুনলেও কিছুই বলে আসতে পারেননি। তিনি আবারও বসবেন তাঁদের দু’জনকে নিয়ে। জয়দীপ বলেন, ‘‘আমি ক্ষমতা ভোগী নই, তাই সরে আসতে পেরেছি, আমার কোনও চেয়ারের মোহ নেই। আমি বাংলা ফুটবলের জন্য কাজ করতে চাই, তাতে যদি এমন বাধা আসে, তা হলে আমার পক্ষে পদে থাকা উচিত হবে না। কারণ নিয়মের উর্ধ্বে কেউ নয়।’’

তার মধ্যে সোমবার আবার আইএফএ-র সহ-সভাপতি পদে থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনজন। তাঁরা হলেন প্রাক্তন ফুটবলার তনুময় বসু, পার্থসারথী গাঙ্গুলি ও হাওড়ার দুলাল মিত্র। বিদায়ী সচিব বলেছেন, ‘‘আমার প্রতি সমর্থন জানিয়ে এই তিনজন সরে গিয়েছেন। দু’জন সহসচিবও ইস্তফা দেবেন, আমাকে বলে রেখেছেন। জানি না তা হলে আর চেয়ার ধরে রেখে কী লাভ হবে!’’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More