হাফসেঞ্চুরি করে প্যাভিলিয়নে রোহিত, পুজারা-রাহানের কাঁধেই ভারতের দায়িত্ব

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দ্বিতীয় দিনের শেষে যেখানে ছিল ভারতের ইনিংস, চতুর্থ দিনের শেষেও ঠিক সেখানেই যেন দাঁড়িয়ে খেলা। অস্ট্রেলিয়ার বিশাল রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভাল শুরু করেও প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন ভারতের দুই ওপেনার। দিনের শেষে ক্রিজে রয়েছেন অধিনায়ক রাহানে ও ডিপেন্ডেবল পুজারা। এই দু’জনের কাঁধেই ঝুলে রয়েছে ম্যাচের ভাগ্য। জয়ের জন্য এখনও ৩০৯ রান দরকার ভারতের। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার চায় ৮ উইকেট। এই টানটান অবস্থায় ঝুলে রয়েছে ম্যাচের ভাগ্য।

অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ৪০৭ রানের বিশাল টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুটা আরও একবার ভাল করেছিলেন রোহিত শর্মা ও শুবমান গিল। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও হাফসেঞ্চুরি পার্টনারশিপ করেন তাঁরা। দেখে মনে হচ্ছিল দিনের শেষ পর্যন্ত তাঁরাই থাকবেন ক্রিজে। কিন্তু ঠিক তখনই ছন্দপতন।

৩১ রানের মাথায় হ্যাজলউডের বলে খোঁচা মেরে আউট হন শুবমান। অন্যদিকে নিজের হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হিটম্যান। দেখে মনে হচ্ছিল বড় ইনিংস আসতে চলেছে তাঁর ব্যাট থেকে। কিন্তু ফের একবার নিজের উইকেট ছুড়ে দিয়ে এলেন তিনি। ৫২ রানের মাথায় কামিংসের নিরীহ বল পুল করতে গিয়ে স্কোয়্যার লেগে স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান রোহিত।

দুই ওপেনার আউট হওয়ার পরে দিনের শেষ পর্যন্ত ক্রিজে রয়েছেন পুজারা ও রাহানে। পুজারা ৯ ও রাহানে ৪ করে খেলছেন। এই জুটির উপরেই ভারতের ভাগ্য নির্ভর করছে। পঞ্চম দিন প্রথম সেশন এই দুই ব্যাটসম্যান খেলে দিলে ম্যাচ জয়ের সুযোগও চলে আসতে পারে ভারতের সামনে। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ঋষভ পন্থ ও রবীন্দ্র জাদেজাকে কতটা পাওয়া যাবে তার নিশ্চয়তা নেই। তাই হয়তো ড্রয়ের জন্যই খেলার চেষ্টা করবে ভারত। কারণ এই ম্যাচ ড্র হলেও নৈতিক জয় ভারতেরই হবে।

এর আগে তৃতীয় দিন যেখানে শেষ করেছিলেন লাবুশানে ও স্মিথ, ঠিক সেখান থেকেই শুরু করলেন চতুর্থ দিন। দুই ব্যাটসম্যানকে এভাবে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য অবশ্য খানিক দায়ী ভারতের ফিল্ডিংও। দিনের দ্বিতীয় বলেই লেগ স্লিপে লাবুশানের ক্যাচ ছাড়েন বিহারি। ওই ক্যাচ তিনি তালুবন্দি করতে পারলে ম্যাচের ছবিটা হয়তো বদলেই যেত। কিন্তু জীবনদান পাওয়ার পরে সেটাকে কাজ লাগালেন লাবুশানে। পরপর দুই ইনিংসেই হাফসেঞ্চুরি করলেন তিনি।

দেখে মনে হচ্ছিল এই ইনিংসে হয়তো সেঞ্চুরিও করে ফেলবেন লাবুশানে। কিন্তু নবদীপ সাইনির বলে ক্যাচ ধরে ৭৩ রানের মাথায় তাঁকে প্যাভিলিয়নে পাঠান ঋদ্ধিমান সাহা। ৪ রানের মাথায় ম্যাথু ওয়েডের ক্যাচও ধরেন তিনি। বোলার সেই নবদীপ।

কম ব্যবধানে দু’উইকেট পড়ে যাওয়ার পরে অবশ্য স্মিথের সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়েন ক্যামেরন গ্রিন। লাঞ্চের বিরতি পর্যন্ত আর উইকেট পড়েনি। নিজের হাফসেঞ্চুরি করেন স্মিথ। দেখে মনে হচ্ছিল দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরি হাঁকাবেন তিনি। কিন্তু ৮১ রানের মাথায় তাঁকে আউট করেন অশ্বিন।

স্মিথ আউট হওয়ার পরে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন গ্রিন। তাঁকে সঙ্গ দেন অজি অধিনায়ক পেইন। তাঁরও ক্যাচ মিস হয়। এই দু’জন ব্যাট করার সময় রানের গতি অনেকটা বেড়ে যায়। বেশ কিছু বড় শট খেলেন গ্রিন। এদিন তিনি নিজের প্রথম হাফসেঞ্চুরি করলেন। দেখে মনে হচ্ছিল এদিনই নিজের প্রথম সেঞ্চুরিও পাবেন তিনি। কিন্তু ৮৪ রানের মাথায় বুমরাহর বলে গ্রিন আউট হন। তারপরেই ডিক্লেয়ার করে দেন পেইন। তিনি ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন। ৬ উইকেটে ৩১২ রানে ডিক্লেয়ার করে অস্ট্রেলিয়া। অর্থাৎ জয়ের জন্য ৪০৭ রানের টার্গেট দাঁড়ায় ভারতের সামনে। এখন দেখার পঞ্চম দিনের শুরুটা কেমন করে ভারত।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More