রো-হিটম্যান শোয়ে বাজিমাত মুম্বইয়ের, ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভরাডুবি রাহুলদের

দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ ব্যাটিং ভাল করলেও অধিনায়কত্বের খুঁটিনাটি রপ্ত করতে যে এখনও বেশ সময় লাগবে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের অধিনায়ক লোকেশ রাহুলের তা ফের একবার প্রমাণিত হল। চার ম্যাচের মধ্যে তিনটে ম্যাচে হারতে হল পাঞ্জাবকে। আর তিনটে ম্যাচেই জেতার সুযোগ ছিল। বেশ কিছু ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হল রাহুলকে। বিপক্ষকে হাতের মধ্যে পেয়েও চাপ রাখতে না পারার খেসারত। আর সেই ভুলগুলো কাজে লাগিয়ে চলতি আইপিএলে নিজেদের দ্বিতীয় জয় তুলে নিল রোহিত শর্মার মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। আর সেই জয়ে প্রধান ভূমিকা নিলেন রোহিত নিজেই।

একটু আধটু যাঁরা ক্রিকেট দেখেন তাঁরাও জানেন, রোহিত শর্মাকে আউট করার সেরা সময় হল ইনিংসের শুরুতে। কারণ সেই সময়ই খানিকটা নড়বড়ে দেখায় তাঁকে। একবার হাত সেট হয়ে গেলে তিনি কী করতে পারেন তার অনেক উদাহরণ রয়েছে। আর এই ম্যাচেও মুম্বইকে চাপে ফেলে নিজেই সেই চাপ কাটিয়ে দিলেন রাহুল। ডি-কক ও সূর্যকুমার যাদবকে হারিয়ে মুম্বই যখন চাপে, তখনই দলের সেরা বোলার শামিকে মাত্র এক ওভার করালেন তিনি। নতুন বলে শামির সুইং ও বাউন্স সামলাতে সমস্যা হচ্ছিল রোহিতের। কিন্তু শামিকে আর বল না দিয়ে সেই চাপটা কাটিয়ে দিলেন রাহুল নিজেই। তার ফলে রোহিতের ব্যাট থেকে বের হল ৪৫ বলে ঝকঝকে ৭০ রান।

শেষদিকে ঝোড়ো ব্যাটিং করলেন কাইরন পোলার্ড ও হার্দিক পান্ডিয়া। পোলার্ডের ২০ বলে ৪৭ ও পান্ডিয়ার ১১ বলে ৩০ রানের সুবাদে ৪ উইকেটে ১৯১ রান তুলল মুম্বই। অথচ বোলারদের একটু ভাল ব্যবহার করলে হয়তো অনেক কম রানে রোহিতদের আটকে দেওয়া যেত।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ব্যর্থ রাহুল ও মায়াঙ্ক। এতদিন দলের সিংহ ভাগ রান এই দুই ব্যাটসম্যান করে এসেছেন। কিন্তু তাঁরা আউট হওয়ায় যা হওয়ার তাই হল। বাকিরা দায়িত্ব নিতে পারলেন না। একমাত্র নিকোলাস পুরান ২৭ বলে ৪৪ রান করে একটু লড়াই দিয়েছিলেন। কিন্তু বাকিরা কেউ সঙ্গ দিতে পারেননি। মিডল অর্ডার ব্যর্থ। তার ফলে ৮ উইকেটে মাত্র ১৪৩ রানেই শেষ হয়ে গেল পাঞ্জাবের ইনিংস। ৪৮ রানের বড় ব্যবধানে জয় পেল মুম্বই।

এই হারে আরও একবার প্রশ্ন তুলল ম্যানেজমেন্টের ভূমিকা নিয়েও। এখনও কেন ক্রিস গেইলকে খেলানো হচ্ছে না? আর কবে খেলবেন তিনি? প্লে অফে ওঠার সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়ার পরে? ব্যর্থ হওয়ার পরেও কেন খেলিয়ে যাওয়া হচ্ছে ম্যাক্সওয়েলকে? মিডল অর্ডারে খেলা ধরার মতো কোনও প্লেয়ার নেই। রোজ কিন্তু রাহুল বা মায়াঙ্ক শেষ পর্যন্ত খেলবেন না। এগুলো যত তাড়াতাড়ি মেরামত করা যাবে ততই ভাল পাঞ্জাবের জন্য।

সংক্ষিপ্ত স্কোর- মুম্বই ইন্ডিয়ান্স- ১৯১/৪। রোহিত ৭০, পোলার্ড ৪৭, হার্দিক ৩০, শামি ৩৬/১। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব- ১৫৩/৮। পুরান ৪৪, বুমরাহ ১৮/২, চাহার ২৬/২, প্যাটিনসন ২৮/২। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ৪৮ রানে জয়ী।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More