কোভিড আবহেই চলে গেলেন মোহনবাগানের এক কৃতি সন্তান প্রণব গঙ্গোপাধ্যায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড আবহের মতো আতঙ্কের পরিবেশের মধ্যেই ময়দান হারাল এক নামী প্রাক্তন ফুটবলারকে। চলে গেলেন মোহনবাগানের প্রখ্যাত বর্ষিয়ান ফুটবলার প্রণব গঙ্গোপাধ্যায়। বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে কিছু বলা হয়নি। শুধু জানা গিয়েছে তাঁর শরীর সুস্থই ছিল, কিন্তু কয়েকদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।

গতবছর মোহনবাগান ক্লাবের পক্ষ থেকে এই নামী তারকাকে দেওয়া হয়েছিল লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার। তিনি টানা ১২ বছর মোহনবাগানের জার্সি পরে খেলেছেন। একবছর তিনি ছিলেন দলের অধিনায়কও। তিনি মোহনবাগানের হয়ে হকিও খেলতেন নিয়মিত। সুঠাম চেহারার এই তারকা সিসিএফসি ক্লাবের সদস্যও ছিলেন। প্রণববাবু থাকতেন পার্কসার্কাসের বেনিয়াপুকুর অঞ্চলে। আদতে তাঁর আদি বাড়ি হাওড়ায়।

প্রণববাবু খেলতেন লেফটআউটে। তাঁর জীবনে বহু স্মরণীয় বড় ম্যাচ রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম ছিল ১৯৬৯ সালের আইএফএ শিল্ড ফাইনাল, ওই ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ট্রফি পায় সবুজ মেরুন দল। ওই ম্যাচের নায়ক ছিলেন সুদর্শন চেহারার প্রণব। তিনি ম্যাচের শেষ গোলটি করেছিলেন।

ওই খেলায় মোহনবাগানের নেতৃত্ব দেন কিংবদন্তি চুনী গোস্বামী, গোলে ছিলেন জার্নেল সিং। সেই দলে জুনিয়র ছিলেন প্রণব, নঈমউদ্দিন, সুধীর কর্মকাররা। কিন্তু ম্যাচে সকলকে ছাপিয়ে গিয়েছিলেন প্রণববাবু। ৪-২-৪ ছকে তিনি ছিলেন প্রধান কান্ডারী।

তাঁকে দেখতেও ছিল সাহেবদের মতো। হাঁটাচলায় ছিল সাবেকি মেজাজ। ময়দানে দারুণ শ্রদ্ধেয় ছিলেন তিনি। কোচ অমল দত্তের খুব প্রিয় ছিলেন এই নামী ফুটবলার। অমল দত্ত তাঁকে ম্যাচে নানা ভাবে ব্যবহার করে সুফল আদায় করেছিলেন। নিজে অবশ্য খেলা থেকে অবসর নেওয়ার পরে সেই ভাবে কোচিংয়ে আসেননি। তবে ইংল্যান্ডের প্রখ্যাত কোচ রবি রবসনের কোচিংয়ে তিনি ডিপ্লোমা করেছিলেন। যা সেইসময় ভাবাই যেত না।

প্রণববাবুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন লন্ডন নিবাসী তাঁর একমাত্র পুত্র প্রদীপ্ত গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি লন্ডন থেকে রাতে জানিয়েছেন, বাবা ভালই ছিলেন, মাঝেমধ্যে লন্ডনেও আসতেন। তাঁর একমাত্র মেয়েও থাকেন লন্ডনে। এই অবস্থায় কী করে তাঁরা বাবার কাছে যাবেন সেই নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন।

মোহনবাগান ক্লাবের পক্ষ থেকে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান সচিব সৃঞ্জয় বসু। তিনি জানিয়েছেন, ‘‘উনি আমাদের কাছে ছিলেন একজন প্রকৃত অভিভাবক। ওঁর অভাব প্রতিপদে অনুভব হবে।’’

 

 

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More