মনবীর ও কৃষ্ণের গোল বাঁশিতেই ডার্বি জয় মোহনবাগানের

এটিকে-মোহনবাগান — ২

এস সি ইস্টবেঙ্গল — ০

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  দারুণ জয় এটিকে-মোহনবাগানের। গোয়ার তিলক ময়দানে আইএসএলের অভিষেক ডার্বি ম্যাচে তারা জোড়া গোলে হারাল এস সি ইস্টবেঙ্গলকে। দুটি গোল করেন রয় কৃষ্ণ ও মনবীর সিং।

গত ম্যাচেই দেখা গিয়েছিল বিরতির পরে মোহনবাগানের খেলার কৌশল বদলে ফেলে, এবারও তাই ঘটেছে। আক্রমণাত্মক কৌশলে দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় হাবাসের দল ত্রাহি অবস্থা করে দিয়েছিল ইস্টবেঙ্গলের।

খেলার ৪৯ মিনিটে জেভিয়ারের পাস থেকে জয়েশের ছোট্ট টোকায় পাওয়া বলটি যেভাবে রয় কৃষ্ণ শটে জালে জড়িয়ে দিয়েছেন, তার জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। সেইসময় স্কট নেভিল জায়গাতেই ছিলেন না, তিনি প্রথমবারে ট্যাকলিংয়ে মিস করেন, সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছেন কৃষ্ণ।

খেলার ৮৪ মিনিটে একক প্রচেষ্টায় গোল করে গিয়েছেন পরিবর্ত মনবীর সিং। তিনি যেভাবে একাই বল নিয়ে উঠে করেছেন, সেখানে লাল হলুদের ডিফেন্ডার নারায়ণকে অতিথি মনে হচ্ছিল।

ইস্টবেঙ্গল কোচ ফাউলারের আরও একটি সমস্যা ছিল দলের গঠন নিয়ে। কেন শুরু থেকে তিনি জেজেকে নামালেন না, সেটাই অবাক করার মতো। এমনকি বলবন্ত যখন পারছিলেন না, তারপরেও তিনি তাঁকে মাঠে রেখে দিয়েছিলেন। তাঁর বদলে রফিক নামতে খেলার কিছুটা বদল হয়।

লাল হলুদের দুই বিদেশী কিছুটা ফক্স ও মাঘোমা ছাড়া কেউ ভাল করে খেলতে পারেননি। নেভিল ও পিলকিনটন একেবারেই ব্যর্থ। তবে ৮০ মিনিটে পিলকিনটনের শট যেভাবে মোহনবাগানের লাস্ট লাইন অব ডিফেন্ডার অরিন্দম দারুণ সেভ করেছেন, প্রশংসার দাবি রাখে। বানানা কিন মেরেছিলেন পিলকিনটন, দারুণ ফিস্ট করে বিপদমুক্ত করেন অরিন্দম।

লাল হলুদের যে রক্ষণভাগকে নিয়ে আশায় ছিলেন সমর্থকরা। সেটি দেখা যায়নি। কারণ নেভিল, ড্যানিরা ভাল খেলতে পারেননি। সব থেকে বড় বিষয় হল, মোহনবাগান কোচ হাবাস দলের মাঝমাঠকে এত সুন্দরভাবে তৈরি করেছেন, যাতে বিপক্ষ কোচ তাদের ব্লক করলেও সুবিধে করতে পারেনি।

সবুজ মেরুনের মাঝমাঠ দারুণ খেলেছে। জোস, হার্নান্দেজ, ম্যাকহুগরা ভাল খেলেছেন শুধু তাই নয়, ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের কাজটিও করেছেন সমানভাবে।

খেলার প্রথমার্ধ কোনওভাবেই ডার্বিচিত নয়। দলে এত বিদেশী তারকা, ঝলমলে মাঠ, সুন্দর পরিবেশ, তারপরেও খেলা যে উচ্চমানের হয়েছে, বলা যাবে না।

দুটি দলই বিক্ষিপ্তভাবে আক্রমণে গিয়েছে, কিন্তু খেলার মধ্যে সেই সৃজনশীলতা ছিল না। দুটি দলই পরিশ্রম করেছে, লাল হলুদ দলের বল পজেশনও বেশি ছিল। তবুও গোল মুখ খোলেনি পরিকল্পনাহীনভাবে আক্রমণ শানাচ্ছে।

খেলার মধ্যে কিছুটা হলেও একটা উত্তেজনা তৈরি হয় ম্যাচের ৩৫ মিনিটের পর থেকেই। দেবজিৎ যেভাবে জেভিয়ারের শট ঝাঁপিয়ে প্রতিহত করেছেন, সেটি না করলে মোহনবাগান গোল পেয়ে যেত।

যদিও  বিরতির আগে পর্যন্ত সহজ সুযোগ পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। খেলার ১৮ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে মাঘোমা একটি ডিফেন্স চেরা থ্রু বাড়িয়েছিলেন, সেটি ভাল করে রিসিভ করলেও পিলকিনটন যদি শট মেরে সুযোগ কাজে লাগাতে পারতেন, এগিয়ে থাকতে পারত।

বেশকিছু ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে লাল হলুদ গোলের নিচে দেবজিতের আউটিং বেশ ভাল ছিল। লাল হলুদ কোচ রবি ফাউলার যে অভিজ্ঞতাকেই ডার্বি ম্যাচে গুরুত্ব দিয়েছেন, তাতে দেবজিৎকেই খেলানোতেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।

খেলার প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গলের বল পজেশন বেশি ছিল, প্রায় ৬৬ শতাংশ। তাদের পাস নিখুঁতও ছিল অনেক বেশি শতাংশের হিসেবে।

মোহনবাগান একটি ম্যাচ আগে খেলেছিল, সেদিক থেকে লাল হলুদ দলের কাছে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল। তার মধ্যেও দল প্রথমার্ধের শেষ ১০ মিনিট সংঘবদ্ধ ফুটবল খেলার চেষ্টা করেছে। বলবন্ত ও জয়চন্দ্রের মধ্যে দারুণ সমঝোতা দেখা গিয়েছিল কিছুটা সময়। একটি ক্ষেত্রে সুরচন্দ্রের পাস থেকে বলবন্ত গোল পেতেই পারতেন।

সব ঘটনারই মধুরেণ সমাপয়েৎ থাকে, তেমনি ডার্বিতেও মোহনবাগানের শেষটা ভালই হল। তারা গত ম্যাচে যেভাবে শেষ করেছিল, সেই অবস্থা থেকেই শুরু করেছিল তারা। জয় সেই কারণেই।

এটিকে-মোহনবাগান : অরিন্দম ভট্টাচার্য্য, সন্দেশ জিঙ্ঘান, শুভাশিস বসু, প্রীতম কোটাল (অধিঃ), প্রবীর দাস, লুই জোস, জেভিয়ার হার্নান্দেজ (গ্লেন মার্টিন্স), কার্ল ম্যাকহুগ, জয়েশ রানে, রয় কৃষ্ণ (সুমিত রাঠি), ডেভিড উইলিয়ামস (বলবীর সিং)।

এস সি ইস্টবেঙ্গল : দেবজিৎ মজুমদার, স্কট নেভিল, ড্যানি ফক্স, রানা ঘরামি (অভিষেক আম্বেরকর), নারায়ণ দাস, অ্যান্থনি পিলকিনটন, ভিলে স্টেইনম্যান, জ্যাক মাঘোমা, সুরচন্দ্র সিং, লোকেন মিতাই (সামাদ), বলবন্ত সিং (রফিক)।

 

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More