চ্যাম্পিয়নের মতোই খেলব আমরা, হুঙ্কার দিলেন মোহনবাগানের বঙ্গব্রিগেড

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মিশন ডার্বি।

মরসুমের প্রথম ডার্বিতে নামার আগে এটিকে- মোহনবাগানের বাঙালি খেলোয়াড়রা রীতিমতো ফুটছেন। আবেগ ও উন্মাদনার দিক থেকে কলকাতা ডার্বি সেই আগের ঐতিহ্য বজায় রেখেছে। তবে আগে স্থানীয়দের দাপট বেশি থাকত, এখন দুই দলেই বিদেশীদের রমরমা।

তার মধ্যেও সবুজ মেরুন শিবিরে সাত জন বঙ্গসন্তান, এটিও বিশেষ তাৎপর্যবাহী। যার মধ্যে ছয় জনের ডার্বি খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ব্যতিক্রম গোলরক্ষক অরিন্দম ভট্টাচার্য্য, যিনি এর আগে মোহনবাগানের হয়ে একটি ডার্বি খেলেছিলেন বটে, কিন্তু গন্ডগোলের জন্য ম্যাচটি বাতিল হয়ে যায়। তাই তাঁর অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে।

এটিকে-মোহনবাগান দলে সবচেয়ে বেশি বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে প্রীতম কোটালের, তিনি ১৩টি ম্যাচ খেলে দশটিতেই জিতেছেন। শুভাশিস বসু তিনটি খেলেও একটিতেও হারেননি। শেখ সাহিল, প্রবীর দাস, প্রণয় হালদাররাও অপরাজিত রয়েছেন এই ম্যাচটিতে।

দলের রক্ষণের অন্যতম প্রাণভোমরা উত্তরপাড়ার প্রীতম কোটাল যেমন জানিয়েছেন, ‘‘আমরা গত আইএসএলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম, তাই এবারও আমাদের চ্যাম্পিয়নের মতোই খেলতে হবে। কেননা কেরল ম্যাচ একরকম অভিজ্ঞতা ছিল, আর ইস্টবেঙ্গলকে হারাতে পারলে তার মজাই আলাদা।’’

মোহনবাগানে এর আগে পাঁচবছর খেলেছিলেন, একবারও অধিনায়ক হতে পারেননি। সেদিক থেকে এবার আইএসএলে মোহনবাগানের অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরে খেলতে নেমেছিলেন, সেদিক থেকে এটি গর্বের বিষয়। সেই কারণেই নিজে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন ওই ছবি দিয়ে। বলছিলেন, ‘‘আমি একটাই কারণে দিয়েছি, কারণ আপামর বাঙালি ছেলেরা এটাও বুঝবে কঠোর পরিশ্রম করলে একদিন বড় দলেরও অধিনায়ক হওয়া যায়।’’

নিজেরা একটি ম্যাচ খেলে ফেললেও ইস্টবেঙ্গল শুরু করবে তাদের বিরুদ্ধে। তাদের বিদেশী তারকাদের চেনেন না মোহনবাগানের বঙ্গ ব্রিগেড। সেই নিয়ে খুব একটা ভাবিত নন প্রীতম। এটিকে-মোহনবাগান মিডিয়া প্রতিনিধিকে দেওয়া সাক্ষাৎকার বলেছেন, ‘‘আধুনিক ফুটবলে সবটাই জানা যায় ভিডিও দেখে, কোচ আমাদের সব বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাই কোনও সমস্যা হবে না।’’

কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস দলের যে পাঁচজন ফুটবলারকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দলের নেতৃত্ব দেবেন, তার মধ্যে রয়েছেন দীর্ঘকায় গোলরক্ষক টালিগজ্ঞ ফাঁড়ির ছেলে অরিন্দম। তিনি এর আগে একটি ডার্বি খেললেও সেটি বানচাল হয়ে যায়, সেই নিয়ে বলছিলেন, আমার কাছে এই ম্যাচের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই মনেপ্রাণে জিততে চাইব।’’ তিনি এও বলছেন, ‘‘আমাদের দলের ডিফেন্স সবচেয়ে ভাল, তাই ওই ম্যাচে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ আমাকে সেই ভাবে বলই ধরতে হয় না, তাই সতর্ক থাকা জরুরী সারা ম্যাচে।’’

গত ম্যাচে খেলা সুসাইরাজ চোটের কারণে অনিশ্চিত। তাই শুক্রবার মাঠে নামতে হবে শুরু থেকে শুভাশিসকে। তিনিও আশাবাদী এই কঠিন লড়াই জয়ের বিষয়ে। জানালেন, ‘‘প্রথম ম্যাচ জিতেছি বলে একটা আত্মবিশ্বাস রয়েছে, কিন্তু ইস্টবেঙ্গলকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। কারণ ওই ম্যাচ হচ্ছে মর্যাদার ম্যাচ, হারলে সব জায়গায় কথা শুনতে হবে।’’

বাকি তারকা, শেখা সাহিল, প্রণয় হালদার ও প্রবীর দাসরাও ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, আমরা এর আগেও বড় ম্যাচ খেলেছি, তাই জানি এই ম্যাচের গুরুত্ব, তবে স্নায়ু ঠান্ডা রাখতে হয় এই খেলায়, সেটাই বলেছেন তিন বাঙালি তারকা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More