মুখ্যমন্ত্রীর দাদার ‘স্বার্থের সংঘাত’ নিয়ে জোর প্রতিবাদ মোহনবাগানের, চিঠিও দিচ্ছে আইএফএ চেয়ারম্যানকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই বিতর্ক উঠতই, উঠেছেও। কারণ আইএফএ সচিব জয়দীপ মুখোপাধ্যায় আচমকা ইস্তফা দেওয়ার পরেই প্রশ্নটা মাথা চাড়া দেয়। তাঁকে যখন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বৈঠকে ডেকেছিলেন। সেই সভাতেই আইএফএ-র বিদায়ী সচিব যুক্তি দেখান, বাংলা ফুটবলের নিয়ামক সংস্থাতেই যদি স্বার্থের সংঘাত পরিলক্ষিত হয়, তা হলে সেটি সকলের সামনে বিরূপ বিজ্ঞাপনই বয়ে আনবে।

সেই বৈঠকে এই নিয়ে কোনও কথাই বলতে পারেননি ক্রীড়ামন্ত্রী। তিনি শুধু আশ্বাস দিয়ে গিয়েছিলেন, ‘দেখছি কী করা যায়!’

‘সেই দেখছি..’ যে কার্যকরি ভূমিকা নেবে না, তা পরিষ্কারই ছিল। কেননা তিনি যাঁর বিরুদ্ধে এই মনোভাব নেবেন, তিনি খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দাদা অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়।

অজিত বাবু শুধু আইএফএ-র প্রেসিডেন্টই নন, তিনি একাধারে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের কর্মসমিতির নামী সদস্যও বটে। তাই মোহনবাগান ক্লাব তাদের গুরুত্বপূর্ণ কার্যকরি কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা এর শেষ দেখে ছাড়বে। সবুজ মেরুন কর্তারা একযোগে সভা শেষে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সিনিয়র কর্মসমিতির সদস্য হয়ে তিনি কিভাবে আইএফএ-র শীর্ষ পদে থাকেন? এটা আমাদের বড় প্রশ্ন। তিনি তো তার মানে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব নিয়ে কোনও বড় সিদ্ধান্তই নিতে পারবেন না।

এইভাবে যদি বাংলা ফুটবলের নিয়ামক সংস্থাতেই ‘স্বার্থের সংঘাত’ দেখা যায়, তা হলে পুরো প্রশাসনে তো এরকম অনেক গলদ দেখা যাবে। তখন সেই প্রেসিডেন্ট কি কোনও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন? সেই জন্যই এটিকে-মোহনবাগান ক্লাবের অন্যতম ডিরেক্টর তথা অর্থ সচিব দেবাশিস দত্ত বলেছেন, ‘‘আমরা এই বিষয়টি জানিয়ে আইএফএ চেয়ারম্যান সুব্রত দত্তকে চিঠি দিয়েছি। উনি কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, সেদিকে আমরা তাকিয়ে রয়েছে। উনি কোনও ব্যবস্থা না নিলে আমরাও পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’’

বিতর্ক সৃষ্টি হয় কন্যাশ্রী কাপে ইস্টবেঙ্গল মহিলা ফুটবল দলকে নিয়ে একটি সিদ্ধান্তের বিষয়ে। ওই আসরে লাল হলুদ শিবির ভিনরাজ্য থেকে ফুটবলার এনে খেলিয়েছিল, তাদের কোনও রেজিস্ট্রেশন ছিল না। সেই নিয়ে বিপক্ষ দল পুলিস এসি ও আইএফএ সচিব জয়দীপ প্রতিবাদ জানান। কিন্তু যেহেতু আইএফএ প্রেসিডেন্ট অজিত বাবু ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের কর্মসমিতির সদস্য, তাই তিনি তাঁর ক্লাবের বিপক্ষে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে আটকাচ্ছিলেন।

এতেই বেজায় অপমানিত বোধ করেন জয়দীপ। তিনি শাস্তি দিতে চেয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গলকে। কিন্তু উলটে তিনিই চাপ খেয়ে গিয়েছেন এই ঘটনায়। তাই তিনি বলেন, ‘‘এভাবে যদি কোনও বড় দলকে আমরা রেহাই দিই, তা হলে আগামী দিনে অন্য কোনও দলের বিরুদ্ধে আমরা পদক্ষেপই নিতে পারব না। যেখানে আমার কোনও সিদ্ধান্ত নিতে গেলে সংস্থাতেই চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে, সেখানে আমি পদে বসে থাকতে পারব না।’’

আইএফএ-র বিদায়ী সচিবের যুক্তিকেই এবার মোহনবাগান কর্তারা অস্ত্র করে মোক্ষম চাল দিয়েছেন। এবার দেখার এই চিঠিতে কতটা কাজ হয়!

এদিকে তার মধ্যে সবুজ মেরুনের সভায় ঠিক হয়েছে, আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি তাদের ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে ক্লাব প্রাঙ্গনেই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More