কোভিড আবহে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বেঙ্গালুরুর রাস্তায় মোটর স্পোর্টসের দুই তারকা জুনেইদ ও জোহেব

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড আবহে কতকিছু সামাজিক বদল ঘটল। মোটর স্পোর্টসের দুই তারকা মূর্তাজা জুনেইদ ও মুতিব জোহেব দেশের সেরা প্রতিভা। এই দুই মোটর বাইকার একবার কলকাতায় এসেছিলেন ভেসপা মোটর স্পোর্টস র‌্যালিতে অংশ নিতে। এই দুই জুটি যেখানেই যান, সেরা হয়ে ফেরেন।

কোভিড পরিস্থিতিতে সারা দেশে যখন অচলাবস্থা চলছে, সেইসময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুই ভাই অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঘুরছেন বেঙ্গালুরুর রাস্তায়। দেশের অনেক তারকা যখন শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়াতেই সক্রিয়, সেইসময় এই দুই তরুণ করোনা আক্রান্তদের নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে দিচ্ছেন, তাঁদের পাশে থাকছেন।

রাত নেই, দিন নেই, সারাক্ষণ টহল দিচ্ছেন তাঁরা। ২৪ ঘন্টা সময়কে দু’জনে ভাগ করে নিয়েছেন। দাদা জুনেইদ যদি সকাল ছয়টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত করেন, তা হলে ভাই জোহেব কাজ শুরু করছেন দুপুর ২টা থেকে রাত দশটা। আবার জুনেইদ হয়তো সারা রাত কাজ করে সকালে বাড়ি ফিরছেন, সেখান থেকে কাজ শুরু করছেন জোহেব। এইভাবেই চলছে তাঁদের সেবা, আত্মত্যাগ।

আরও অবাক করা তথ্য, এই দুই ভাই বিশেষজ্ঞ মোটরবাইক চালানোয়, তাঁরা তিন মাস আগে চার চাকা ভাল করে চালানো শিখেছেন। একটাই মন্ত্র ছিল, করোনার মতো অতি মহামারীর সময়ে যেন সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে পারেন। তাই করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে তাঁরা হয়ে উঠেছেন সত্যিকারের করোনা যোদ্ধা।

সেই মতো গাড়ি চালানো শিখে লাইসেন্স বের করাও কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল। এমনিতেই দুই ভাইয়ের প্রচন্ড সাহস। বেঙ্গালুরুর এক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জোহেব বলেছেন, ‘‘আমি ও দাদা সবচেয়ে হতাশ হয়েছিলাম একটা এনজিও-তে গিয়ে। সেখানে গিয়ে শুনি, অ্যাম্বুলেন্স চালানোর লোক দরকার। কিন্তু আমাদের নেবে না তারা। কেন জিজ্ঞাসা করলে জবাব আসে, আমরা নাকি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালক নই!’’

তারপর দুই ভাই ঠিক করেন, এতদিন ধরে যে অর্থ উপার্জন করেছেন, সেই দিয়েই কিনবেন অ্যাম্বুলেন্স। সেইভাবেই গত দুই মাস আগে কিনে এখন মানুষের জন্য অকাতরে সেবা করে চলেছেন এই দুই তারকা মোটরবাইকার।

দুই ভাই বলছেন, ‘‘প্রতিদিন কতসব ঘটনার সাক্ষি থাকছি আমরা। এটাও দেখছি মানুষ কত অসহায়। অর্থবান মানুষেরাও কত অসহায়ভাবে আমাদের কাছে সাহায্যের জন্য আসছেন।’’ জুনেইদ বলছিলেন, আমাদের দুই ভাইয়ের তৈরি হতেই সময় লেগে যায়। পিপিই পরে সব ধরনের প্রতিরোধ নিয়েই রাস্তায় নামেন করোনা যোদ্ধা হিসেবে।

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More