‘সবার জন্য সবটা নয়’, রাজনীতিতে যোগ দেওয়া নিয়ে বললেন সৌরভ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তুমুল আলোচনা চলেছে রবিবার সকাল পর্যন্তও। ব্রিগেডের ময়দানে শেষ মুহূর্তে তিনি যদি এসে পড়েন, তা হলে কী হবে!

এই জল্পনা তো নতুন ছিল না। আদৌ কি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বিজেপি-র মঞ্চে যোগ দেবেন? এই নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই গুঞ্জন অব্যাহত ছিল। সৌরভের নিরবতা আরও এই জল্পনা উসকে দিয়েছে বারবার।

তিনি যদিও বারবার একটা কথাই বিক্ষিপ্তভাবে বলে এসেছেন, জল্পনা করে কোনও লাভ নেই, আমি এসবে নেই! তবুও থামেনি এই নিয়ে কথা বলা।

সৌরভ ও বিজেপি যোগ নিয়ে অনেকেই পাঁচে-পাঁচ করার চেষ্টা করেছেন। বলা হয়েছে, সৌরভ বিসিসিআই প্রেসিডেন্টই হয়েছিলেন অমিত শাহের প্রচ্ছন্ন মদতেই। তাই তাঁকেও ‘বাংলার মুখ’ হিসেবে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-র মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হতে হবে। এও কথা উঠেছিল, তিনি বাইরে থেকে বিজেপি-র প্রচার কৌশলে সহায়তা করতে পারেন।

এটি আরও তাঁর ইমেজের পক্ষে ক্ষতি হতে পারে বলে মনে করে এসেছে সৌরভের গুণমুগ্ধকারীরা। সরাসরি যোগদান হলে কোনও কথা বলার থাকবে না, কিন্তু পরোক্ষে প্রচার কৌশলের সঙ্গী হলে আরও সমালোচনা হবে, আর সেটি সৌরভ ব্র্যান্ডের পক্ষে মানানসই নয়।

সব আলোচনার বাইরে গিয়েও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডাকে রবিবার ব্রিগেডের মহামঞ্চে সৌরভের আবির্ভাব হবে, অনেক বিজেপি সমর্থকরাই আশায় বুক বেঁধেছিলেন। তাঁদের ভাবনা ছিল, দাদা হয়তো স্লগ ওভারে ওভার বাউন্ডারি মেরে ম্যাচ জিতিয়ে দেবেন!

সেটি হয়নি, কেন হয়নি, তার অনেক ব্যাখ্যা উঠে আসছে। তবে ভারতের প্রাক্তন অন্যতম সেরা অধিনায়ক যে মানসিকভাবে আগে থেকেই এ বিষয়ে তৈরি হয়েছিলেন, সেটি এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল।

ভারতের টেস্ট জয় ও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠা প্রসঙ্গে বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভের সঙ্গে এক সর্বভারতীয় টিভি চ্যানেল কথা বলছিল তাঁর সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতেই। সেই সাক্ষাৎকারেই অনুষ্ঠান সঞ্চালক প্রশ্নও করেছিলেন, দাদা আপনি কি রাজনীতিতে যোগ দেবেন? এই প্রশ্নে অপ্রত্যাশিতভাবে চটেও যান মহারাজ। তিনি বলে ওঠেন, ‘‘এটা তো ক্রিকেটের অনুষ্ঠান, এখানে এই প্রশ্ন উঠছে কেন?’‘ তারপরেই অবশ্য ঠান্ডা সুরে জানান, ‘সবটা সবার জন্য নয়!’

এই ছোট্ট বিবৃতিতেই সৌরভ বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি রাজনীতির মাঠে এখনই নামতে চান না। তিনি বরং ‘মাঠের লোক’ হিসেবেই সকলের কাছে প্রিয় ও আইডল থাকতে চান। আবার অনেকের এও ধারণা, সৌরভ যাও বা রাজনীতিতে নামা নিয়ে একটা সিদ্ধান্ত নিতেন, কিন্তু তাঁর সাম্প্রতিক শারীরিক অসুস্থতাই তাঁকে সেই বিষয়ে ‘না’ করতে বাধ্য করেছে। কারণ বাংলায় বিজেপি-র ‘প্রধান মুখ’ হলে তাঁকে সারাদিনই নানা রাজনৈতিক কর্মসূচীতে অংশ নিতে হবে, তাতে ধকল থাকবেই। সেটি তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে ইতিবাচক কোনও সাড়া না-ও পেয়ে থাকতে পারেন, এটাই মনে করছে সৌরভের বিশ্বস্তমহল।

এও ঠিক, রাজনীতির ময়দানে কোনওকিছুই স্ট্যাটিক নয়, এই প্রবাদ বারবার মিলে গিয়েছে। তাই শেষমেশ কী হবে, সে নিয়ে রহস্য থাকছেই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More