কাঠগড়ায় রেফারি, শেষের শুরু কোচ ফাউলারের? চলছে জল্পনা

শুভ্র মুখোপাধ্যায়

ইস্টবেঙ্গলে এ মুহূর্তে গোল দেওয়ার লোক নেই। যিনি দলের কোচ, সেই রবি ফাউলার ছিলেন কিংবদন্তি স্ট্রাইকার। লিভারপুলের হয়ে প্রায় দেড়শটি গোল করেছিলেন। কিন্তু তাঁর দলেই ভাল মানের স্ট্রাইকারের আকাল। তিনি দলের কোচ হয়ে এসে ইস্টবেঙ্গলের উপকার কিছু হয়নি, বরং তিনটি ম্যাচ হেরে লজ্জায় নত লাল হলুদ সমর্থকরা।

তিনি কোচ হয়ে দলে এনেছেন নিজের পরিচিত বিদেশীদের। তাঁদের নামগুলি বড় হলে কী হবে, কাজের বেলায় কিছুই ঘটছে না। নাম ধুয়ে যে জল খাওয়া যাবে না, সেটি বুঝছেন সমর্থকরা। তাঁরা এজন্য দায়ী করছেন কোচকেই। তিনি বেছে বেছে আনফিট ও বর্তমানে অফ ফর্মে থাকা বিদেশীদের নিয়ে এসে দলকে ডুবিয়েছেন, সেই নিয়ে কথা হচ্ছে।

বাইচুং ভুটিয়ার মতো প্রাক্তন মহাতারকার মতে, ‘‘আমি জানি না কোচ কেন দলকে একজন স্ট্রাইকারে খেলাচ্ছেন, যখন দল চূড়ান্ত ব্যর্থ হচ্ছে, সেইসময় তো দুটি স্ট্রাইকারে খেললে বিপক্ষও চাপে থাকবে।’’ গত দুটি ম্যাচের থেকে পিলকিনটন ভাল খেললেও তা যথেষ্ট ছিল না। তিনি বিপক্ষ গোলমুখে গিয়ে কী করবেন, বুঝেই উঠতে পারছেন না। তাঁর সঙ্গে মাঘোমার কোনও সংযোগ নেই, সেই জন্যই মাঘোমা বারবার একা হয়ে গিয়েছেন ম্যাচে।

দলের কোচ ফাউলার বড় ফুটবলার হতে পারেন, কিন্তু কোচ হিসেবে তিনি পরীক্ষিত ছিলেন না। অতীতে কোচ হিসেবে তাঁর এমন কোনও সাফল্য নেই, যাতে করে ইনভেস্টর শ্রী সিমেন্ট কর্তারা তাঁকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত হতে পারতেন। তবুও তিনি এলেন কেন?

দুটি কারণের কথা বলা হচ্ছে, এক ইনভেস্টররা লাল হলুদের চুক্তির পরেই ফাউলারের এজেন্ট তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। ফাউলার ছাড়তে চাইছিলেন অস্ট্রেলিয়া, তিনিও মোটা বেতনের চাকরি খুঁজছিলেন। দ্বিতীয়ত, ফাউলার কোচ হয়ে এলে সঙ্গে পাওয়া যাবে তিনটি ফুটবলার, এই লোভনীয় প্রস্তাব ফেলতে পারেননি ইনভেস্টরদের আধিকারিকরা। সেইসময় ইস্টবেঙ্গলের দলগঠন সবে শুরু হয়েছে, বেশি সময়ও ছিল না। তাই প্রাক্তন ফুটবলারদের কমিটি ফুটবলারদের ট্রায়াল নেবে, এমন ভাবনা ভেস্তে যায় কোভিড পরিস্থিতিতে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লাল হলুদের এক শীর্ষ কর্তা খেলা শেষ হওয়ার পরেই জানালেন, ‘‘আমরা কোচ নিয়ে বড়ই হতাশ, তিনি দলের প্রথম একাদশ বেছেই উঠতে পারছেন না। ভাল ফুটবলারদের নিয়ে দলগঠন করা একটি ভাল কোচের প্রাথমিক শর্ত, তিনি তাতে ব্যর্থই। যেহেতু টুর্নামেন্ট গোয়ায় হচ্ছে, কলকাতায় হলে এখনই কোচের নামে স্লোগান উঠে যেত, গো ব্যাক ফাউলার…।’’

কর্তাটি কতটা হতাশ, তাঁর বহিঃপ্রকাশেই টের পাওয়া যাচ্ছিল। ইস্টবেঙ্গলের নামী প্রাক্তন সমরেশ চৌধুরী ছোট্ট কথায় জানালেন, ‘‘আমার তো ভয় লাগছে আইএসএলে ইস্টবেঙ্গল দলটির কী হবে, সেই নিয়ে। এই দলটি তো সবদিক থেকে আনফিট। বাকি দলগুলি এই পরিস্থিতিতে খেলতে পারলে আমরাই বা পাচ্ছি না কেন, ভেবে দেখতে হবে।’’

বারবার যে কথাটি উঠে আসছে ব্রিটিশ কোচের কৌশল নিয়ে। তিনি টুর্নামেন্ট শুরু হতেই অজুহাত খুঁজতে বলে দিলেন, ‘‘এই দলের ভারতীয় ফুটবলারদের আগে কোনও কোচিং নেওয়া নেই।’’ তাই যদি হয়, তিনি প্র্যাকটিসে কিছুই কী বুঝতে পারেননি? যদি সেটি বুঝতে পেয়ে থাকেন, কেন সেইসময় ক্লাবের কর্তাদের কিছু জানাননি। তিনি ভালমানের দেশীয় ফুটবলারদের ম্যাচে শুরু থেকে চেষ্টাই করছেন না। এক্ষেত্রে ফাউলারের মতো হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বকে ব্যর্থ হওয়ার পরেও কী করে কর্তৃপক্ষ সামলায়, সেটিও দেখার।

তার মধ্যেই লাল হলুদের হারের আরও একটি কারণ উঠে আসছে রেফারির দুটি পেনাল্টি না দেওয়া। এই নিয়ে ইস্টবেঙ্গল শিবির  রেফারি সন্তোষ কুমারের নামে রিপোর্ট দিচ্ছে। তিনি সামনে থাকা সত্ত্বেও মাঘোমাকে বক্সের মধ্যে ফেলে দিয়েছিলেন বিপক্ষ ডিফেন্ডার, তাও দেখেননি রেফারি।

এই নিয়ে বাইচুংয়ের সঙ্গে একমত সমরেশ চৌধুরীও। তিনিও বলেছেন, ‘‘এমন অযোগ্য রেফারিংয়ের বিরুদ্ধে ক্লাবের প্রতিবাদ করা উচিত। বক্সের মধ্যে কোনও স্ট্রাইকারকে স্পর্শ করা যায় না, তারওপর এদিন তো ফেলে দিয়েছে মাঘোমাকে, তারপরেও রেফারি কী করে চোখ বুজে থাকলেন, অবাকই লাগছে।’’

এমনকি খেলা শেষের পরে শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনেও কোচ ফাউলার তোপ দেগেছেন রেফারির বিপক্ষেই। তিনিও জানিয়েছেন, ‘‘রেফারির জন্যই আমাদের হার মানতে হয়েছে।’’

 

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More