মোহনবাগানের হয়ে ইতিহাসে নাম লিখেও নির্লিপ্ত কৃষ্ণ, কৃতিত্ব দিলেন অন্যদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইতিহাসে কৃষ্ণ!

মোহনবাগানের সুদীর্ঘ ১৩১ বছরের ইতিহাসে কতই না ফুটবলার এসেছেন। তাঁরা নিজেদের নাম ইতিহাসের পাতায় তুলতে কত না রক্ত, ঘাম ঝরিয়েছেন। সেই তালিকা শেষ হওয়ার নয়, একটা বইতেও সেটি শেষ হবে না।

এই আইএসএল খেলবে কিনা মোহনবাগান, একটা সময় সেই নিয়ে দোলাচলে ছিলেন কর্তারাও। সেইসময় আই লিগকে ‘দুয়োরানী’ করে দেওয়ার প্রয়াস নিয়েছিল সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। মোহনবাগান কর্তারা গর্জে উঠেছিলেন। তাঁরা শুরু থেকে চেয়েছিলেন আই লিগই দেশের একনম্বর লিগ হোক।

শুক্রবার গোয়ার মাঠে আইএসএলের প্রথম ম্যাচে এটিকে-র সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার পরে মোহনবাগানের প্রথম জয়ও নিঃসন্দেহে ক্লাবের মহামূল্যবান নথিতে স্থান করে নিল। যিনি গোলটি করলেন, তিনি আদতে গতবার মোহনবাগানের ফুটবলারই নন, তিনি ছিলেন এটিকে-র নামী স্ট্রাইকার।

সেই রয় কৃষ্ণকে খেলা শেষে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনি মোহনবাগানের ইতিহাসে স্থান করে নিলেন সারা জীবনের মতো, কেমন লাগছে?

জবাবে ফিজি তারকা জানিয়েছেন, ‘‘তাই? দারুণ তো! আমি এত ভাবিনি, ভাল তো লাগবেই। এত বড় ক্লাব, তাদের হয়ে একটা এরকম টুর্নামেন্টে জয় এল আমার গোল থেকে। তবে এটাও ঠিক, আমার চেয়ে দলের ডিফেন্ডারদের কৃতিত্ব বেশি। তারা ভাল খেলে দলের রক্ষণকে জমাট রেখেছিল, আমি আমার কাজটি করেছি।’’

এই কৃষ্ণই এবার মোহনবাগান শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন ৪০ দিনের যাত্রা শেষ করে। তিনি ফিজি থেকে রওনা হন, আসেন অকল্যান্ডে, তারপর ওখান থেকে সিডনি, তারপর সিডনি টু দুবাই, তারপর দুবাই থেকে দিল্লি হয়ে, শেষমেশ দিল্লি থেকে গোয়ায় আসেন। মোট ৩০ দিন কোয়ারেন্টিন পর্বে ছিলেন তিনটি দেশ ঘুরে।

আইএসএলে এটিকে-মোহনবাগানের অন্যতম ডিরেক্টর তথা টুর্নামেন্টের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় গত বৃহস্পতিবারই তাঁর তিনজন পছন্দের ফুটবলারদের নাম বলতে গিয়ে জানিয়েছিলেন ফিজির কৃষ্ণের কথা। কারণ তিনি গতবার মাঠে এসে দেখেছিলেন এটিকে বহু ম্যাচে আটকে গেলেও শেষমেশ বৈতরণী পার করেন এই নামী তারকাই।

শেষদিকে অবশ্য এদিন ম্যাচে কৃষ্ণকে তুলে নিয়েছিলেন কোচ হাবাস। তিনি কী চোট পেয়েছেন? এই নিয়ে একটা আশঙ্কা রয়েছে। কেননা ম্যারাথন লিগে কৃষ্ণের কোনও বিকল্প স্ট্রাইকার সবুজ মেরুন কোচের দরকার। না হলে কৃষ্ণ আটকে গেলে দলও সমস্যায় পড়বে। কেননা গার্সিয়াকে এদিন নিস্প্রভ লেগেছে, বরং জেভিয়ার হার্নান্দেজ পুরো দলকে পরিচালনা করেছেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More