আইএসএলে জৈব সুরক্ষা বলয় না মানলে পুরো টুর্নামেন্ট ঘেঁটে যাবে, ফুটবলারদের সতর্ক করলেন সৌরভ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজের ফুটবলের প্রতি প্রেম, ময়দানে স্কুল ছুটির পরে খেলা দেখতে যাওয়া, কিংবা সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলের ফুটবল টিমে সেন্টার হাফ পজিশনে খেলা, সেই স্মৃতিসরণীতে যেমন হাঁটলেন, তেমনি শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া আইএসএল নিয়েও অনেক কথা বললেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।

কিছুদিন আগেও যিনি দুবাইতে আইপিএলের মঞ্চে হাজির ছিলেন, তিনিই নিজের মোড অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিলেন। মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের মধ্যে ডার্বি ম্যাচের প্রসঙ্গ যেমন এল, তেমনি আবার জৈব সুরক্ষা বলয়ে ফুটবলারদের কী কর্তব্য সেটাও জানিয়েছেন মহারাজ। যিনি একদিকে এটিকে-মোহনবাগান দলের অন্যতম বোর্ড অব ডিরেক্টরস, আবার অন্যদিকে এই কোটিপতি লিগের বিপননী দূতও।

বৃহস্পতিবার আইএসএলের সরকারি ইনস্টাগ্রাম থেকে সৌরভের সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া হল, সেই আলোচনায় এসেছে তিনি কোন ফুটবলারদের পছন্দ করেন, আবার বিশ্বে তিনি কোন দলের সমর্থক, সেটিও খোলসা করেছেন আদ্যন্ত একজন ফুটবলপ্রেমী হিসেবে।

প্রশ্ন : আইএসএলে এটিকে-মোহনবাগান বনাম কেরালা ব্লাস্টার্স ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু হচ্ছে, কেমন মনে হচ্ছে?

সৌরভ : আমার দারুণ লাগছে। ঘরের দুটি দল এবার খেলতে নামছে, সেই কারণে আনন্দটা আরও বেশি। গত ছয়বছরের থেকে আইএসএলের উন্মাদনাও অনেক বৃদ্ধি পাবে। আমরা আশা করছি বহু তারকার জন্ম হবে এই আসর থেকে।

শুরুতেই নামছে এটিকে-মোহনবাগান, তাদের জন্য শুভেচ্ছা। এবার কোচ হাবাস, বিপক্ষ দলে রয়েছেন ভিকুনা, যিনি গতবার মোহনবাগানে ছিলেন। আইএসএলের এই প্রতিযোগিতা যদি আরও বাড়ে, তা হলে একদিন দেশে আইপিএলের সমান জনপ্রিয়তা পাবে, আমিও সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছি।

প্রশ্ন : এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে টুর্নামেন্ট হচ্ছে, যেখানে সমর্থকরা মাঠে থাকতে পারবেন না, গ্যালারি ফাঁকা থাকবে, এটাকে কীভাবে দেখছেন?

সৌরভ : এবার এভাবেই আইপিএলের মতো মেগা টুর্নামেন্ট হয়েছে, এখন নিউ নর্মাল বলতে আমরা এটাকেই বুঝব। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে, এছাড়া কোনও উপায় নেই।

আইপিএলে সব ফ্রাঞ্চাইজির ক্রিকেটাররাই বায়ো বাবল বা জৈব সুরক্ষা বলয় নিয়মকে দারুণভাবে মেনেছে। খুবই শৃঙ্খলাপরায়ণভাবে চলেছে সারা টুর্নামেন্টে, তার ফলও আমরা পেয়েছি দারুণভাবে। এবারের আইপিএল এই কারণেই এত সফল।

আমি অনুরোধ করব যাতে করে আইএসএলেও সব দলের ফুটবলাররা এই নিয়মকে খুব কঠোরভাবে পালন করে, এটা না করলে পুরো টুর্নামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেরকম হলে হয়তো আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে সবাইকে। আমি তাই চাইব, ফুটবলাররা ধৈর্য্য ধরে এই নিয়ম পালন করুক, না করলে সমস্যা।

প্রশ্ন : আপনার ফুটবল প্রেম নিয়ে আমরা অনেকটাই জানি, কিছু বলবেন?

সৌরভ : আমি আগে ফুটবলের ভক্ত ছিলাম, তারপর ক্লাস নাইন-টেন থেকে ক্রিকেট শিখছি। আমি সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল থেকে ময়দানে খেলা দেখতে যেতাম। মোহনবাগান মাঠে গিয়েছি, ইস্টবেঙ্গল ও মহামেডানেও। সুব্রত ভট্টাচার্য্য, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, বিদেশ বসু, তরুণ দে, মানস ভট্টাচার্যদের খেলা দেখে বড় হয়েছি। ভাল লাগত মজিদ বাসকরের খেলা।

নিজে একসময় অনেক ফুটবলও খেলেছি, হয়তো ফুটবলেই যেতাম। কিন্তু বাবা যদি না ক্রিকেট ব্যাট তুলে দিতেন, জানি না কী হতো!

প্রশ্ন : ডার্বি ম্যাচ নিয়ে কী অভিজ্ঞতা? আইএসএলে কোন ফুটবলারদের খেলা ভাল লেগেছে?

সৌরভ : ডার্বি ম্যাচ নিয়ে বহু অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাইচুং দুরন্ত খেলেছে, সেই ডার্বি দেখেছি, ব্যারেটো জিতিয়েছে মোহনবাগানকে, সেই ডার্বিও দেখেছি। তবে ১৯৯৫ সালের পরে আর হয়তো মাঠে গিয়ে সেরকম খেলা দেখা হয়ে ওঠেনি, কিন্তু টিভিতে সব ম্যাচই দেখেছি।

যে ম্যাচে বাইচুং হ্যাটট্রিক করেছিল, সেই খেলায় ইস্টবেঙ্গল জিতেছিল বড় ব্যবধানে। সবই মনে রয়েছে। আইএসএলে ভাল লেগেছে বোরহা ফার্নান্দেজ, ইয়ান হিউম, রয় কৃষ্ণের খেলা। আরও অনেকের খেলা ভাল লেগেছে, নাম মনে করতে পারছি না।

প্রশ্ন : আপনি বিশ্বের কোন দলের সমর্থক? এবং কেন?

সৌরভ : আমি অনেকদিন ধরেই ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের সমর্থক। সেইসময় আমি কাউন্টি ক্রিকেট খেলছি ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে। ওই ক্লাবের বিপরীতেই রয়েছে ওল্ড ট্র্যাফোর্ড। আমি প্রতি শনিবার বিকেলে খেলা দেখতে যেতাম ফুটবল ম্যাচ। আমাকে সবাই ওই ক্লাবের কর্তারাও চিনে গিয়েছিল।

আমি বহু ম্যাচ দেখেছি ম্যান ইউ-র। নামী ফুটবলারদের খেলতে দেখেছি। তাই শেষ বারও যখন লন্ডনে গিয়েছিলাম, খেলা দেখার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু এত ঠান্ডা পড়েছিল, আর যাওয়া হয়নি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More