কৃষকদের ওপর অত্যাচার, কেন্দ্র সরকারের দেওয়া ‘অর্জুন’ ও ‘পদ্মশ্রী’ ফিরিয়ে দিচ্ছেন ক্রীড়াবিদরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তুষের আগুন অনেকদিন ধরেই জ্বলছিল। টের পায়নি কেন্দ্র সরকার। এবার সেটিই আগ্নেয়গিরির রূপ নিল। কৃষকদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে গর্জে উঠলেন পাঞ্জাব ও  হরিয়ানার একঝাঁক প্রাক্তন নামী ক্রীড়াবিদ। কেউ তার মধ্যে অ্যাথলেটিক্সে দেশকে পদক এনে দিয়েছিলেন, কেউ আবার অন্য ইভেন্টে দেশকে গর্বিত করেছিলেন।

কৃষি বিলের বিরুদ্ধে গত কয়েক দিন ধরেই কৃষকরা নানা প্রতিবাদ দেখিয়ে আসছেন। তাঁদের জমায়েতও গাত্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারের কাছে। হরিয়ানা-দিল্লি সীমানায় প্রবল ঠান্ডা উপেক্ষা করে চলেছে তাঁদের প্রতিবাদ আন্দোলন। পুলিশের লাঠি চার্জ, জল কামান কোনও কিছুই তাঁদের দমাতে পারেনি।

কৃষকদের ওপর সেই অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেন পাঞ্জাবের নামী ক্রীড়াবিদরা। তাঁরা মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়ে দিয়েছেন, কৃষকদের দাবি মানা না হলে, এমনকি তাঁদের যোগ্য সম্মান না দেওয়া হলে তাঁরা তাঁদের সব ধরনের পুরস্কার সরকারের কাছে ফিরিয়ে দেবেন।

ওই সাংবাদিক সম্মেলনে পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রাপ্ত কুস্তিগীর কর্তার সিং, রনবীর কৌর, অলিম্পিক হকিতে সোনাজয়ী, অর্জুন পুরস্কার প্রাপ্ত  গুরমেল সিং, জাতীয় মহিলা দলের প্রাক্তন হকি অধিনায়ক ‘গোল্ডেন গার্ল’ রাজবীর কৌরও উপস্থিত ছিলেন। ওই সাংবাদিক বৈঠক থেকে জানানো হয় পাঞ্জাবের ১৫০ জন ক্রীড়াবিদ নিজেদের পদ্মশ্রী এবং অর্জুন পুরস্কার ফিরিয়ে দেবেন।

এজন্য তাঁরা আগামী ৫ ডিসেম্বর তাঁরা রাষ্ট্রপতি ভবনে যাবেন। রাষ্ট্রপতিকে  নিজেদের অর্জিত পদক ও সমস্ত পুরস্কার সমর্পণ করবেন। শুধু তাই নয় পাঞ্জাবের ক্রীড়াবিদরা হরিয়ানার ক্রীড়াবিদদের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন। যা নিয়ে দেশজুড়ে প্রবল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে এর প্রভাব দেশের অন্য রাজ্যের ক্রীড়াবিদদের উপর পড়বে। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার আরও চাপে পড়বে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে সফল ওই ক্রীড়াবিদরা রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে তাঁদের সমর্থনের কথা জানালেন। ‘অর্জুন’ পুরস্কার জয়ী প্রাক্তন ক্রীড়াবিদ সজ্জন সিং চিমা বলেন, ‘‘আমরা সবাই কৃষক পরিবারের সন্তান। কৃষকরা বহুদিন ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছেন। ওই সময় কোনও হিংসার ঘটনা ঘটেনি। যখন কৃষকরা দিল্লি যেতে চাইলেন, তখন ওঁদের উপর জল কামান দেগে দেওয়া হল। কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোঁড়া হল। এটা অবিচার, এই অন্যায় আমরা বরদাস্ত করর না।’’

চিমা আরও জানিয়েছেন, ‘‘পুলিশ ওই কৃষকদের লাঠিপেটা করছে। তাঁদের মাথার পাগড়ি খুলে নিচ্ছে। এভাবে যদি আমাদের বয়স্ক অন্নদাতাদের ওপর আক্রমণ করা হয়, তা হলে আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।’’

সব প্রাক্তন ক্রীড়াবিদরাই জানিয়েছেন, ‘‘আমরা দেশের কৃষকদের পাশে রয়েছি। আমরা যে সব পুরস্কার অর্জন করেছি, সেগুলি আমরা রাষ্ট্রপতির কাছে ফিরিয়ে দিতে চাই।’’

Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More