আইপিএলে ‘বিরাট বিদায়’, উইলিয়ামসনের ব্যাটে জিতে দিল্লির সামনে হায়দরাবাদ

অশোক মালহোত্রা

কেন উইলিয়ামসন কী মানের ব্যাটসম্যান তা আরও একবার সবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল ও। কঠিন পরিস্থিতি থেকে কী ভাবে হিমশীতল মানসিকতায় খেলা বের করতে হয় তা কেন খুব ভালভাবে জানে। এই কাজটাই আগে ধোনিকে আগে আমরা করতে দেখতাম। বলতে গেলে একার কাঁধে হায়দরাবাদকে জেতাল কিউয়ি ক্যাপ্টেন। ব্যাঙ্গালোরকে হারিয়ে এবার দিল্লির সামনে হায়দরাবাদ। অন্যদিকে আশা জাগিয়েও ফের একবার আইপিএল থেকে বিদায় হল বিরাট ব্রিগেডের।

প্রথমে ব্যাট করে আরসিবির করা অল্প রান ডিফেন্ড করতে হলে শুরুতেই বিরাটদের দরকার ছিল উইকেট। আর ঠিক সেটাই করল মহম্মদ সিরাজ। এদিন চোটের কারণে দলে ছিল না ঋদ্ধিমান সাহা। তার জায়গায় দলে এসেছিল আর এক বাঙালি শ্রীবৎস গোস্বামী। কিন্তু নকআউট ম্যাচেই প্রথম খেলতে নামার চাপ সামলাতে পারল না শ্রীবৎস। শূন্য রানেই প্যাভিলিয়নে ফিরল ও। ১৭ রানে আউট হল ওয়ার্নারও। দুটো উইকেটই নিল সিরাজ।

ওয়ার্নারের পরে পুরো ম্যাচটা নির্ভর করছিল মণীশ পাণ্ডে ও কেন উইলিয়ামসনের উপর। হাত সেট হওয়ার পরেও বাজে শট খেলতে গিয়ে আউট হল মণীশ। উইকেটে দাঁড়াতে পারল না তরুণ প্রিয়ম গর্গও। তারপরে দলকে জেতানোর পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে উইলিয়ামসনের উপরে। আর চাপের মুখে কী ভাবে খেলতে হয় তা আরও একবার দেখাল উইলিয়ামসন। ঝুঁকি না নিয়ে কী ভাবে সিঙ্গল ডবলসে পার্টনারশিপ গড়তে হয় তা দেখাল কিউয়ি অধিনায়ক। সঙ্গ দিল ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডার।

ইনিংসের মাঝে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে চাপে রেখেছিল আরসিবির স্পিন জুটি অ্যাডাম জাম্পা ও যজুবেন্দ্র চাহাল। দু’জনে মিলে ৮ ওভারে দিল মাত্র ৩৬ রান। নিল ২ উইকেট। আর তার ফলেই শেষ পর্যন্ত গেল খেলা। কিন্তু স্পিনারদের বিরুদ্ধে সাবধানে খেলল উইলিয়ামসন। হিসেব করে ঝুঁকি নিল। আর তাতেই ম্যাচ বেরিয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ব্যাঙ্গালোরকে হারাল হায়দরাবাদ। উইলিয়ামসন ৪৪ বলে ৫০ ও হোল্ডার ২০ বলে ২৪ রান করে অপরাজিত থাকল।

ব্যাঙ্গালোর দলটা বরাবরই বিরাট কোহলি ও এবি ডিভিলিয়ার্সের উপর নির্ভরশীল। দলকে ভাল করতে হলে এই দুই ব্যাটসম্যানের একজনকে চলতেই হবে। নক আউট ম্যাচে বিরাট রান পেলেও রান পেল ডিভিলিয়ার্স। যদিও তা কখনওই ডিভিলিয়ার্সচিত নয়। বরং অনেক বেশি দায়িত্ব নিয়ে খেলা। এবি না থাকলে সত্যিই খুব সমস্যায় পড়ত রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর।

আবু ধাবিতে টসে জিতে চোখ বন্ধ করে বল নিয়েছিল ওয়ার্নার। তার সিদ্ধান্তকে মান্যতা দিয়ে শুরুতেই বিরাট ও দেবদত্ত পাডিক্কালকে আউট করে ব্যাঙ্গালোরকে বড় ধাক্কা দেয় হোল্ডার। মিচেল মার্শের জায়গায় দলে আসার পরে নিজের জাত চিনিয়েছে হোল্ডার। ব্যাটে-বলে দারুণ যোগদান করেছে। কোহলি আউট হওয়ায় অ্যারন ফিঞ্চ ও ডিভিলিয়ার্স ইনিংস গড়ার চেষ্টা করল। কিন্তু তাতে রানের গতি অনেকটাই কম হল। ফিঞ্চ ৩০ বলে ৩২ ও ডিভিলিয়ার্স ৪৩ বলে ৫৬ করল। যখন দেখে মনে হচ্ছিল হাত খুলবে এবি ঠিক তখনই নটরাজনের দুরন্ত ইয়র্কারে আউট হয়ে গেল ও।

শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৩১ রানেই শেষ হল ব্যাঙ্গালোরের ইনিংস। হোল্ডার, নটরাজন ও নাদিম উইকেট পেল। তবে অনেক দিন পরে রশিদ উইকেট পায়নি। এই কম রান ডিফেন্ড করতে হল দারুণ শুরু করতে হত ব্যাঙ্গালোরের বোলারদের। সেটাই হল। আর তাতে চাপে পড়ে গেল হায়দরাবাদ। কিন্তু সেখান থেকে দলকে টেনে তুলল উইলিয়ামসন। ওয়ান ম্যান আর্মি হয়ে দলকে জেতাল কিউয়ি অধিনায়ক।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More