ভাবা যায়, মেসিকেও ছাপিয়ে গেল গোলে, ফিটনেসই সুনীলকে এই উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে

বাইচুং ভুটিয়া

 

সাবাশ ব্রাদার সুনীল। তোর জন্য ভাই আমার গর্ব হচ্ছে। একটা সময় ভারতীয় ফুটবলে সমর্থকদের চিন্তার শেষ ছিল না। সেইসময় আমি অবসরের ভাবনা নিয়ে ফেলেছিলাম।

সবাই বলতো সেইসময়, কে বাইচুংয়ের পরে? আমি নিজেকে নিয়ে গর্ব করছি না। কিন্তু বিশ্বাস করুন, সেদিন শিলিগুড়িতে নির্বাচনের আগে একটা অনুষ্ঠানে গিয়ে একটা অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হয়েছে। একজন এগিয়ে এসে আমাকে জানালেন, ‘বাই, তোমার বিকল্প আমরা পেয়ে গিয়েছি।’

আমি প্রথমে ভেবেছিলাম উনি হয়তো রাজনীতিতে বিকল্পের কথা বলছেন। আমি ওই ভদ্রলোককে জানালাম, ‘‘দাদা, আমি রাজনীতি করি না আর, ছেড়ে দিয়েছি।’’

উনি শুনে হাসতে লাগলেন, আমি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। তারপর আমাকে আশ্বস্ত করে জানালেন, ‘‘আরে বাই, আমি ফুটবলে বিকল্পের কথা বলছি। সুনীল ছেত্রীকে নিয়ে আমাদের গর্বের শেষ নেই, ওকে খেলতে দেখলে তোমার কথা মনে হয়।’’

উনি যে কথাটি আমাকে বলতে পারেননি, আমি সেটাই বলছি। সুনীল আমাকে আজ নয়, অনেকদিন আগেই ছাপিয়ে গিয়েছে। আমি তো দেশের হয়ে গোল করেছি ৪০টি। শুধু গোলসংখ্যার দিক থেকে নয়, দায়িত্ববোধে নজির গড়েছে। এমনকি একজন ফুটবলার কিভাবে দীর্ঘদিন ফিটনেস বজায় রাখতে পারে, তার নমুনা দেখিয়েছে।

আজ হয়তো দুটি গোল করে লিওনেল মেসিকে ছাপিয়ে গেল, দেশের হয়ে ৭৪টি গোল করল। কিন্তু এটি হওয়ারই ছিল। কী দারুণ ফিটনেস ফ্যানাটিক। বিরাট কোহলি পর্যন্ত ওর এটা নিয়ে প্রশংসা করে। সুনীলের সংযমও অসাধারণ। ৩৬ বছরেও এত ফিট থাকতে পারছে খাদ্যাভাসের জন্যই।

কোহলির মতোই সুনীলও নিরামিশাষি। মাছ, মাংস, ডিম খায় না। তারপর যোগব্যায়াম করে। তবে আমি তৃপ্ত, ওর সঙ্গে আমিও খেলেছি কেরিয়ারের শেষ দিকে গিয়ে।

সেইসময়ই আমি মিডিয়াকে বলেছিলাম এই ছেলেটা লম্বা রেসের ঘোড়া। ওকে দেখে রাখুন। আজ এতদিন বাদে এসেও সুনীল আলো ছড়াচ্ছে ভারতীয় ফুটবলে।

আমি ইউরো কাপের ধারাভাষ্য দেওয়ার জন্য মুম্বইতে এসেছি গতকালই। সোমবার স্টুডিওতে বসেই ভারত ও বাংলাদেশের খেলাটি দেখলাম। ভারতের খেলা দেখে বলব না দারুণ খেলেছে। বরং বাংলাদেশের মতো দলকে হারাতে হয়েছে একেবারে শেষে এসে। কিনতু সুনীল নিয়ে আমি দরাজ প্রশংসাই করব। বাংলাদেশের তিন ডিফেন্ডার সারাক্ষণ সুনীলের নজরদারি করে গিয়েছে। তার মধ্যেও শেষ দশ মিনিট বোঝাল দুটি দলের সেরা স্ট্রাইকার কে। এটাই তো সার্থকতা।

না হলে ফিফা যে টুইটটি করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর (১০৩টি গোল) পরেই দেশের জার্সিতে সবচেয়ে বেশি গোল (৭৪টি) আমাদের সুনীলের। সত্যিই গর্ব লাগছে ওর জন্য। আরও এগিয়ে চল, এটাই চাই। ভারতীয় ফুটবলে তোকে এখনও দরকার।

 

 

 

 

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More