ফিরছে লর্ডসের বিশ্বকাপের স্মৃতি, কপিলকে শুভেচ্ছা শচীনদের, বন্ধুর ওপর রাগ যায়নি মালহোত্রার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কপিলদেব নিখাঞ্জ ৬২।

কয়েকদিন আগেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। দেশের মানুষের আকুলতা তৈরি হয়। সবাই প্রায় বলেছিলেন, ‘কপিল কা জবাব নেহি…।’ ক্রিকেটমহলের হয়তো প্রথম আইকন তিনি, যাঁকে দেখে পাড়ার ছোকরা কিংবা মধ্যবয়সী কাকুও তাঁর মতো বোলিং অ্যাকশন নকল করলে অন্যরা রসিকতা করতে পারেন, ‘ওই দ্যাখ, কপিল আসছে বোলিং করতে!’

একেকটি বসন্ত পেরিয়ে যায়, আর নতুন করে সজিব হয়ে ওঠেন কপিল। বয়স যেন তাঁর কমে যায়। তাঁর এই জন্মদিনে শুভেচ্ছার ডালি উপুর করে ভারতীয় ক্রিকেট। কিংবদন্তীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শচীন তেন্ডুলকর ও বিরাট কোহলি৷ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে পোস্ট করেছেন।

বিশেষ দিনে ১৯৮৩ সালের লর্ডসের বিশ্বকাপ জয়ের মুহূর্ত ফিরে এসেছে। তাঁর সতীর্থরা এখনও স্মৃতিমেদুরতায় ভাসেন। কে নেই তালিকায়।  গাভাসকর থেকে শ্রীকান্ত, মহিন্দার থেকে সন্দীপ পাতিল সবাই আবেগাপ্লুত। তার মধ্যেই কপিলের নিকটতম বন্ধু অশোক মালহোত্রার কাছেও বিশেষ দিন। তিনি সকালে উঠেইে বার্তা পাঠিয়েছেন প্রিয় সাথীকে।

মালহোত্রা এদিন সন্ধ্যেতে জানান, ‘‘কপিল আমার ভাল বন্ধু হতে পারে, কিন্তু ওঁর জন্য আমি বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাইনি। কারণ ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপের আগে আমি ভাল ফর্মে ছিলাম, কিন্তু দলগঠনের সময় কপিল আমাকে না নিয়ে নিয়েছিল যশপাল শর্মাকে। সেই নিয়ে রাগ বলুন কিংবা অভিমান যাইনি আমার। ওঁকে এই নিয়ে বলেছিলাম, কপিল বলেছিল, ওই দলে আমি নাকি যোগ্য ছিলাম না। এও আমাকে শুনতে হয়েছে, তবে বাকি দিনগুলিতে সেই কথা মনে রেখে কষ্ট পাইনি আর। আমি ওঁর ওই কথা আজও ভুলিনি।’’

হরিয়ানার এক তরুণ তাঁর জাত চিনিয়ে ছিলেন বিশ্ব ক্রিকেটকে৷ তিরিশের দশকে মহম্মদ নিসার-অমর সিং জুটিই ছিল ভারতীয় পেস আক্রমণের শেষকথা। আর স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতীয় ক্রিকেটে কপিলই তৈরি করেছিলেন পেস বোলিং সংস্কৃতি। কিংবদন্তীর দেখানো পথে হেঁটেছে তাঁর পরবর্তী প্রজন্ম৷

১ অক্টোবর, ১৯৭৮৷ পাকিস্তানের কোয়েটায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবির্ভাব হয়েছিল কপিলের৷ বিষেণ সিং বেদীর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা-রেখেছিলেন হরিয়ানার এক তরুণ৷ প্রথম ম্যাচে বল হাতে ছাপ রেখেছিলেন কপিল৷ শক্তিশালী পাকিস্তান ব্যাটিং লাইন-আপের বিরুদ্ধে ৮ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে তুলে নিয়েছিলেন ইমরান খানের উইকেট৷

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইমরান হন কপিলের প্রথম শিকার৷ টেস্ট অভিষেক হয়েছিল এর পনেরো দিন পর৷ ১৬ অক্টোবর ফয়সালাবাদে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল কপিলের৷ বাকিটা ইতিহাস৷ অভিষেকে নজর কাড়তে না-পারলেও ক্রিকেটবিশ্ব পেয়েছিল এক নতুন আইকন৷

১৬ বছরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে দেশের হয়ে ১৩১টি টেস্ট খেলেছেন কপিল৷ ৪৩৪টি উইকেট এবং ৫,২৪৮ রান রয়েছে তাঁর ঝুলিছে৷ ২৩ বার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছে তিনি৷ বলের পাশাপাশি আর ব্যাট হাতে সমান দক্ষতায় ভারতকে বহু ম্যাচ জিতিয়েছেন কপিল৷ টেস্ট ক্রিকেটে ৮টি সেঞ্চুরি ও ২৭টি হাফ-সেঞ্চুরি করেন তিনি৷

ভারতের হয়ে ওয়ান ডে ম্যাচ খেলেছেন ২২৫টি৷ ২৫৩টি উইকেট এবং ৩,৭৮৩ রান করেন কপিল৷ একবার নিয়েছিলেন পাঁচ উইকেট৷ তবে ব্যাট হাতে একটি সেঞ্চুরি এবং ১৪টি হাফ-সেঞ্চুরি রয়েছেন তাঁর দখলে৷ ১৯৮৩ বিশ্বকাপে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে তাঁর ১৭৫ রানের ইনিংস চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে৷ এই ইনিংসই তাঁকে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের রসদ জুগিয়েছিল৷ ফাইনালে শক্তিশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দেশকে প্রথম বিশ্বকাপের স্বাদ এনে দিয়েছিলেন এই ‘হরিয়ানা হ্যারিকেন’৷

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More