গাব্বার জয়ই সর্বকালের সেরা, পিছিয়ে থাকবে আমাদের বেনসন হেজেস কাপ ও সৌরভদের ইডেন জয়ও

অশোক মালহোত্রা

 

ক্রিকেটে ‘সপ্তম আশ্চর্য্য’ বলে যদি কিছু থাকে, তা হলে সেই গ্রহে ভারতের এই ব্রিসবেন জয় অনায়াসে চলে আসবে। ৩২ বছর পরে কোনও দল অস্ট্রেলিয়াকে গাব্বার মাঠে হারাল, ভাবতে পারেন? যে দলটি এর আগে হারিয়েছিল, সেই দলের গভীরতা বলতে গেলে নামগুলি যথেষ্ট। ক্লাইভ লয়েড, ভিভিয়ান রিচার্ডস, ডেসমেন্ড হেইনস, গর্ডন গ্রীনিজ, ম্যালকল মার্শাল, মাইকেল হোল্ডিং, অ্যান্ডি রবার্টস… আর কার কথা বলব। সবাই তো ক্রিকেটের কিংবদন্তি।

সেই দলের সঙ্গে এই ভারতীয় দলের কোনও তুলনা হয়, ধারে ভারে কোনওভাবেই হয় না। এমন আটজন অজিঙ্ক্যা রাহানের দলের ক্রিকেটার রয়েছে, যারা আপদকালীন অবস্থা ছাড়া টিমেই আসবে না। সেই ‘থার্ড গ্রেড’ ভারতীয় দলকে নিয়ে তিন উইকেটে টেস্ট জয়, সবদিক থেকেই ঐতিহাসিক।

হয়তো ক্রিকেট লিখিয়েরা নতুন করে এই ইতিহাস সৃষ্টির ব্যাখ্যা লিখতে বসবেন। কী করে সম্ভব হয় এই অসাধ্যসাধন! যে দলটি অ্যাডিলেডে ৩৬ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল, সেই দলটি দুটি টেস্ট (মেলবোর্ন ও ব্রিসবেন) জিতে সিরিজই জিতে ফেলল। তাও বিরাট কোহলির মতো সুপারস্টারই দলে নেই।

শুধুই কী কোহলি? মহম্মদ শামি, উমেশ যাদব, যশপ্রীৎ বুমরাহের মতো প্রথম শ্রেণীর পেসার ছিল না, তারপরেও মহম্মদ সিরাজ, শার্দুল ঠাকুর, ওয়াশিংটন সুন্দররা কী করে ম্যাজিক স্পেল দেখিয়ে বাজিমাত করল, তার জন্য দুটি দিক আমার মাথায় আসছে। এক, ভারতীয় বোর্ড জাতীয় দলের রিজার্ভ বেঞ্চ তৈরি করতে ভারতীয় ‘এ’ দলের সফরকে সবসময় গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। দ্বিতীয়ত, আইপিএলের সার্থকতা। কোনও ক্রিকেটারই কোনও বিদেশী তারকাকে খেলতে বা বোলিং করতে ভয় পায় না, এটি আইপিএল না থাকলে সম্ভবই হতো না।

অস্ট্রেলিয়াও ভাবতে পারেনি তারা এই মাঠে হেরে যাবে। ব্রিসবেন যে কোনও দলের কাছে বধ্যভূমি, এখান থেকে কেউ জিতে ফিরতে পারে না। সেই মিথ ভেঙে দিল রাহানের দল। আমরা এর আগে পোর্ট অব স্পেনের জয় এত টাটকা দেখেনি, কিংবা সেই ভাবে প্রত্যক্ষ করিনি ওল্ড ট্যাফোর্ডের জয়ও। এই প্রজন্ম তো জানেই না ওই জয়গুলির কথা। তারা কানে শুনেছে কিংবা শোনেওনি। সাম্প্রতিক অতীতে আমরা অস্ট্রেলিয়াকে হারানো বলতে মনে পড়ে ২০০১ সালে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ইডেনে ফলো অন খেয়েও টেস্ট জয়ের কথা।

ওই জয়ের প্রেক্ষাপট আলাদা ছিল। সেই দলে সৌরভ পেয়েছিলেন সব নামী তারকাদের। কে ছিল না সেই দলে? দ্রাবিড়, শচীন, লক্ষ্মণ, হরভজন, কুম্বলে, শ্রীনাথ, সবাই ছিল। কিন্তু এই দলের কারা ছিল, সেই ইতিহাস দেখতে বসলে ১৫ বছর বাদে ক্রিকেট গবেষকরা ভিড়মি খাবেন। ‘আরে এরা কারা’, সেই কথা তাঁদের মাথায় ঘুরবে বারবারই।

সেই কারণেই এই জয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের ১৯৮৫ সালে বেনসন হেজেস কাপ ওয়ান ডে টুর্নামেন্টে ওই অস্ট্রেলিয়াতেই জয়ের চেয়েও এটি এগিয়ে থাকবে। আমাদের সেই দলটিও দারুণ ওজনদার ছিল। গাভাসকার, কপিলদেব, দিলীপ ভেঙসরকার, শ্রীকান্ত, রবি শাস্ত্রী, চেতন শর্মা, শিবরামকৃষ্ণান, মনোজ প্রভাকর, আর আমি তো ছিলামই।

৩৫ বছর আগে বিদেশের মাঠে আমাদের ওই জয় ভারতীয় ক্রিকেটকে সাবালক করেছিল। আর অজিঙ্ক্যা রাহানেদের এই ঐতিহাসিক টেস্ট জয় আরও মধুর, তরুণ রক্ত দিয়ে গাব্বার মতো বাঘের গুহায় ঢুকে বিজয়কেতন ওড়ানো চাট্টিখানি কথা নয়।

সাবাশ অজিঙ্ক্যা রাহানের টিমকে, সেলাম জানাই তোমাদের।

 

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More