করোনার জন্য ভ্যাকসিনের কী দরকার, বেফাঁস মন্তব্যে লোক হাসালেন হরভজন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারা বিশ্ব তাকিয়ে রয়েছে কোভিড ভ্যাকসিনের দিকে। পুরো দুনিয়া এর জন্য দিন গুনছে, কবে আসবে সেই কাঙ্খিত বস্তু। সবাই প্রায় দাবি করছে, তারাই নিয়ে আসবে প্রথম করোনা টিকা।

অক্সফোর্ড, ফাইজার-বায়োএনটেকের মতো আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের টিকা আসছে বাজারে। কোন টিকার করোনা প্রতিরোধ করার সক্ষমতা কতটুকু, সেটি নিয়েও সমানে আলোচনা হচ্ছে। কত দ্রুত টিকা মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া যায়, তা নিয়েও চলছে গবেষণা।

তার মধ্যেই ভ্যাকসিন নিয়ে বেফাঁস এক মন্তব্য করে সাধারণ মানুষের বিরাগভাজন হলেন হরভজন সিং। ভারতের নামী প্রাক্তন স্পিনার টুইটারে প্রশ্ন তুলেছেন, আদৌ এই ভ্যাকসিনের কী প্রয়োজন রয়েছে? এই নিয়ে ভাজ্জি প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন। অনেকেই তাঁকে ‘গর্দভ’ বলে চিহ্নিত করেছেন।

তিনি আচমকা বৃহস্পতিবার উদ্ধার করেছেন করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য ভ্যাকসিনের কোনও প্রয়োজন নেই। তিনি কিছু তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, ফাইজার ও বায়োএনটেকের ভ্যাকসিনের করোনা প্রতিরোধ করার হার ৯৪ শতাংশ, মডার্নার ক্ষেত্রে সাফল্যের হার ৯৪.৫ শতাংশ, অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের করোনার বিরুদ্ধে সফলতার হার ৯০ শতাংশ, এই তথ্যগুলো টুইটে তুলে ধরেন হরভজন। সঙ্গে জানিয়েছেন, কোনও ভ্যাকসিন ছাড়াই ভারতে করোনা আক্রান্ত রোগীর সেরে ওঠার হার ৯৩.৬ শতাংশ।

তথ্যগুলো উপস্থাপন করেই প্রশ্ন করেন হরভজন, ‘‘আমাদের কি সত্যিই ভ্যাকসিনের দরকার আছে?’’ পাশে দুটি ইমোজি দিয়ে বুঝিয়েছেন, এটা ভাবার বিষয়।

শুভম মিশ্র নামের একজন কোনও রাখঢাক না রেখে লিখেছেন, ‘‘এ রকম গর্দভের মতো টুইট করবেন না।’’ পরে বিমান দুর্ঘটনার উদাহরণ টেনে বুঝিয়েছেন, ‘‘একটা প্লেন ক্র্যাশ করার সম্ভাবনা ৫ শতাংশ, আপনি সেটাতে উঠবেন?’’

আরেকজন হরভজনকে অঙ্কটা বুঝিয়েছেন, ‘‘সেরে ওঠার হার ৯৩.৪ শতাংশ মানে ৬.৪ শতাংশ আক্রান্ত রোগী মারা যাবেন। আর ভ্যাকসিনের সাফল্যের হার ৯৫ শতাংশ মানে আপনার ওই ৬.৪ শতাংশে পড়ার সম্ভাবনা ৯৫ ভাগ কমবে। এ ছাড়া, যাঁরা সেরে ওঠেন তাঁদের শারীরিক ও মানসিক অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে যায়। আর এই টুইট দেখে মনে হচ্ছে আপনার ভ্যাকসিনটা খুব বেশি করে দরকার, কারণ আপনি মস্তিষ্কের আর একটা কোষও হারানোর মতো অবস্থায় নেই।’’

অন্যজন ক্রিকেটের একটি দৃষ্টান্ত টেনে শ্লেষাত্মক মন্তব্যে লিখেছেন, ‘‘এখন পর্যন্ত ক্রিকেট মাঠে শুধু একজন ব্যাটসম্যান মারা গিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে কি আমাদের সত্যি সত্যিই হেলমেট, কিডনি গার্ড, শিন গার্ড, চেস্ট গার্ডের দরকার আছে বলে মনে করেন?’’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More