জুনিয়রের স্মৃতি হয়তো ফিকে হচ্ছে, কিন্তু আমার কাছে ওঁর প্রাসঙ্গিকতা একই রয়েছে

0

অভিজিৎ মন্ডল

 

মানুষ চলে যায়, তার স্মৃতি থেকে যায়, তাঁর কাজই শেষ কথা বলে। কাজের মাধ্যমে মানুষ বেঁচে থাকে সকলের হৃদয়ে।

প্রতিবছর ৫ ডিসেম্বর দিনটি আসে, আর মনে পড়ে যায় ব্রাজিলীয় ফুটবলার জুনিয়রের মৃত্যুর দিনটি। এখনও সেই কথা বলতে গেলে গায়ে কাঁটা দেয়। মাঠে নামার আগে পর্যন্ত ভাবা যায়নি এমনকিছু ঘটতে পারে। সুস্থ, সবল একটা ফুটবলার আমাদের কাছে নিমেষে অতীত হয়ে গেল।

এত কাছে থেকেও সেদিন ফেডারেশন কাপ ফাইনালে কিছু করতে পারিনি। খেলা চলছিল সেইসময়, জুনিয়রের মৃত্যু আমাদের অসহায় করে দিয়েছিল। ৫ ডিসেম্বর, ২০০৪ সাল। বেঙ্গালুরুর কান্তিরাম্ভা স্টেডিয়াম। ডেম্পোর হয়ে মোহনবাগানের বিপক্ষে জুনিয়রের যে কাজ করার ছিল, সেই গোলটি করে দিয়েছিল।

জুনিয়রের মৃত্যুর ১৭ বছর পরেও মনে হয় সেদিনের ঘটনা। আমার ভাল বন্ধু ছিল। হয়তো বেশিদিন ওঁর সান্নিধ্য পাইনি, মাত্র দু’মাসের মতো। তার মধ্যেই ওঁর ব্যবহার, নম্রতা, শিষ্ঠাচার আমাদের কাছের করে তুলেছিল। জুনিয়র সবসময় বলতো, আমি পা দেখাব না, কারণ প্রচণ্ড ধর্মভীরু ছিল। বাইবেলে হয়তো পা দেখানো যাবে না, এমন কোনও বিষয় ছিল। সবসময় ট্র্যাকশুট পরে থাকত।

ডেম্পোর হয়ে সেদিন গোলরক্ষা করেছিলেন অভিজিৎ, তাঁর সামনেই জুনিয়রের মৃত্যু হয়েছিল।

আমি জানি না জুনিয়রের মৃত্যু ও তাঁর অবদান ক’জনে মনে রেখেছে। ভারত থেকে কারোরই আর যোগাযোগ নেই ওঁর পরিবারের সঙ্গে। জুনিয়রের মৃত্যুর পরে অনেক বেনিফিট ম্যাচ খেলা হয়েছিল, সেই অর্থ ওঁর স্ত্রী ও মায়ের হাতে তুলে দেওয়া গিয়েছিল কিনা আমার জানা নেই।

ডেম্পোর কোচ আর্মান্দো কোলাসোর সঙ্গেও ওঁর পরিবারের আর যোগাযোগ নেই। উনি চেষ্টা করেছিলেন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ তুলে দেওয়ার। কিন্তু জুনিয়রের মা ও স্ত্রী-র মধ্যে কে অর্থ নেবেন, সেই নিয়ে কোনও সমস্যা ছিল। তবে পাকাপাকিভাবে ওঁর নামে কিছু করতে পারলে স্মৃতি ফুটবলের মাধ্যমে বেঁচে থাকত।

ভারতীয় ফুটবলে জুনিয়রের মতো অন্যতম সফল বিদেশীর স্মৃতি ফিকেও হলেও আমার কাছে প্রাসঙ্গিকতা একই রয়েছে। আগে আমার আগের বাড়িতে ঠাকুর ঘরেই জুনিয়রের ছবি ছিল। সেখানে প্রতিদিন মালা দেওয়া হতো, এখন ঠিকানা বদলানোয় ঠাকুর ঘরটা ছোট হয়েছে। কিন্তু এখনও দেবী দুর্গার ছবির পাশে জুনিয়রের ছবি রয়েছে। ওঁর বন্ধুত্ব কোনওদিন ভুলব না।

ফুটবলার হিসেবে তো বটেই, মানুষ হিসেবেও আমাদের সেইসময় সতীর্থদের হৃদয়ে থেকে যাবে জুনিয়র। ওঁকে এখনও সমান মিস করি আমি।   (লেখক ইস্টবেঙ্গল ও ডেম্পোর প্রাক্তন গোলরক্ষক)

 

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.