ইস্টবেঙ্গলে আক্রান্ত সংবাদমাধ্যম, গ্রেফতার সমর্থকরা, লেসলি ক্লডিয়াস সরণীতে তুলকালাম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই লেসলি ক্লডিয়াস সরণী যেন একেবারেই অচেনা। দল জিতলে একরকম উচ্ছ্বাসের পরিস্থিতি তৈরি হয়, কিন্তু এরকম দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। বিক্ষোভ, সমাবেশে লণ্ডভন্ড সবকিছুই। আগে থেকেই ঠিক ছিল, বুধবার বিকেলে ক্লাব তাঁবু ঘেরাও করা হবে, সেই মতো প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু এভাবে সমর্থকরা ক্ষোভে ফেটে পড়বেন, ভাবা যায়নি।

গতকালই কর্তারা সভা করে ঠিক করেন, তাঁবুতে বসানো হবে সিসিটিভি। কিন্তু এদিন দুপুর থেকেই ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সামনের রাস্তায় শুধুই কালো মাথার সারি। বোঝাও যাবে না, করোনা মহামারি চলছে। প্রায় কারোর মুখেই মাস্ক নেই। কেন কর্তারা ইনভেস্টর শ্রী সিমেন্টের চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করছেন না, সেই নিয়ে জবাবদিহি চান সমর্থকরা।

শুধু তাই নয়, সমর্থকরা চড়াও হয়েছেন সংবাদমাধ্যমের ওপর। তাঁদের মত হল, মিডিয়ার কাজ ঠিকমতো হচ্ছে না, তাদের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত ছিল! তার মধ্যে আবার সমর্থকদের নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। কর্তাদের পক্ষ থেকে কিছু সমর্থক আগে থেকেই ছিল, তারাও পালটা নিজেদের সমর্থনে ও বিনিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে বলতে থাকে। তারাও তাঁদের মতো ব্যানার, পোস্টার নিয়ে এসেছিলেন। বেশি ছিল অবশ্য বিক্ষুব্ধ সমর্থকরাই।

শাসকগোষ্ঠীর কর্তাদের নাম করে তাঁরা চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘‘নিতু আউট, কল্যাণ আউট’’, এই অপদার্থ কর্তাদের পদত্যাগ চাই। সমর্থকরা বেশি কষ্ট পেয়েছেন দল আইএসএলে খেলবে না, এটা চিন্তা করেই। তাই সমর্থকরা মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও দাবি করেন।

মিডিয়ার প্রতিনিধিরা আক্রান্ত হয়েছেন পুলিশের সামনেই, এবার পুলিশ ছিল নীরব দর্শকের ভূমিকায়। বেশ কিছু মহিলা সমর্থকও আহত হয়েছেন এই ঘটনায়। কেউ আবার এই অসহ্য গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।

যেহেতু আগে থেকেই পূর্ব নির্ধারিত ছিল, সেই কারণে অনেক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন ছিল। সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখানোর পাশে হাতাহাতিতে লিপ্ত হতেই পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। তাদের নিয়ে যাওয়া হয় লালবাজারে। সমর্থকদের একাংশের অভিযোগ, পুলিশ এদিন লাঠিচার্জও করেছে।

এর আগে লেসলি ক্লডিয়াস সরণীতে ইস্টবেঙ্গলের শতবর্ষের তোরণ ভেঙে দেওয়া নিয়ে বড় রকমের ঝামেলা হয়েছিল। কারণ সেদিন অনুর্ধ্ব ১৯-য়ের বড় ম্যাচ ছিল। মোহনবাগান মাঠ ফেরত সবুজ মেরুন সমর্থকরা ইস্টবেঙ্গলের গেট ভেঙেছিলেন, এমন অভিযোগ করা হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছিল। সেদিনও মিডিয়ার একাংশ প্রহৃত হয় ওই ঘটনায়।

আবারও ময়দানের সেই রাস্তায় বিতর্ক ফিরল অন্য বেশে, এবার পরিস্থিতি আরও গুরুতর, কারণ ইস্টবেঙ্গলের মতো শতাব্দীপ্রাচীন দল যদি দলগঠন না করতে পারে, সেটি লজ্জার ইতিহাস হয়ে থেকে যাবে।

 

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More