‘খেলছে শচীন, মারছে শচীন…’, শারজার মেজাজে আদিবাসী পড়ুয়াদের মাঝে ক্রিকেট ঈশ্বর

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: “খেলছে শচীন, খেলছে শচীন, মারছে শচীন ছয়, খেলছে শচীন, খেলছে শচীন, মারছে শচীন চার।”

ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পরও ছক্কা হাঁকানো থামেনি মাস্টার ব্লাস্টারের। বরং সমাজসেবামূলক কাজে নিজেকে আরও জড়িয়ে এখন মাঠের বাইরেও একের পর এক ছয় হাঁকাচ্ছেন শচীন।

তাঁর তৈরি ফাউন্ডেশন গোটা দেশজুড়েই কাজ করে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষদের জন্য। মহারাষ্ট্র হোক কিংবা অন্ধ্রপ্রদেশ, পাঞ্জাব হোক কিংবা মধ্যপ্রদেশ, ক্রিকেট জীবনের মতই এখনও তাঁর বিচরণ দেশের সর্বত্র। সম্প্রতি ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন তেন্ডুলকর মধ্যপ্রদেশের সেহোর জেলার আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম সেবানিয়ায় গিয়েছিলেন। গ্রামে আদিবাসী শিশুদের জন্য তৈরি স্কুল ‘সেবা কুটির’ চলে ‘পরিবার’ নামক একটি এনজিওর সাহায্যে। যেই এনজিও-র সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শচীন তেন্ডুলকর ফাউন্ডেশনও। মঙ্গলবার সেই স্কুল পরিদর্শনেই গিয়েছিলেন শচীন।

‘গান্ধীর নীতিতে ভিক্ষাই আসে, স্বাধীনতা নয়’, ফের বিস্ফোরক কঙ্গনা

‘পরিবার’ নামক এই এনজিওটি মধ্যপ্রদেশের আদিবাসী এলাকায় ৪ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের জন্য স্কুলটি চালায়। শুধুই পড়াশোনা নয়, বাচ্চাদের খাবারের দায়িত্বও নিয়েছে তারা। সেই স্কুল প্রাঙ্গনে দাঁড়িয়েই বাচ্চাদের উদ্দেশে শচীন বলেন, “তোমরা মন দিয়ে পড়াশোনা করো। স্বপ্ন দেখো অনেক উঁচুতে ওঠার। সেই স্বপ্নপূরণ করব আমরা।”

পড়ুয়াদের পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গেও আলাদা করে কথা বলেন ক্রিকেট ঈশ্বর। এছাড়াও ক্লাসরুম, মাঠের পাশাপাশি ঘুরে দেখেন রান্নাঘরও। আদিবাসী বাচ্চারা স্কুলে এসে কতটা পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখেন শচীন।

শিক্ষা, যা মানুষকে জীবনের নতুন দিশা দেখায়। বোধ জাগায় সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলার। একটা সুস্থ সমাজে বেঁচে থাকার জন্য এবং অন্যকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এই শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। তবে এর পাশাপাশিই প্রয়োজন সঠিক পুষ্টিরও। যারা দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারের, যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, তাদের কাছে শিক্ষা সোনার পাথরবাটি।

ঠিক সেইজন্যই অশিক্ষা এবং অপুষ্টি- এই দুই প্রকার বিষকেই সমাজ থেকে সরাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন শচীন রমেশ তেন্ডুলকর। যেভাবে বাইশ গজে বিষাক্ত বোলিংয়ের মোকাবিলা করতেন, ঠিক একইভাবে সমাজেরও বিষাক্ত বোলিংয়ের বিরুদ্ধে কঠিন অথচ দৃঢ় লড়াই চালাচ্ছেন তিনি। যেখানে কখনও তিনি শূন্য রানে ফিরতে পারেন, আবার কখনও চুরানব্বইয়ের দোরগোড়াতেও পৌঁছতে পারেন। এভাবেই একদিন ঠিক সেঞ্চুরি আসবে। কারণ শচীনরা ছয় মারতে জানে। সেটা বাইশ গজেই হোক কিংবা সমাজের কাঁটা বিছানো রাস্তায়।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.