নীরজ হাসপাতালে বিছানায় শুয়ে বলেছিলেন, ‘এভরি সেটব্যাক ইজ এ সেটআপ ফর কামব্যাক’

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঠিক দু’বছর আগের কথা। কনুইয়ের হাড়ে জটিল অস্ত্রোপচারের পরে হাতের পেশি নাড়ানোই একপ্রকার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল কমনওয়েলথ ও এশিন গেমসে সোনাজয়ী জ্যাভলিন থ্রোয়ার নীরজ চোপড়ার। ডাক্তাররা বলে দিয়েছিলেন, জ্যাভলিন থ্রো তো দূরে কথা, হাত বেশি নাড়াচাড়া করলে পেশির অসাড়তা চলে আসতে পারে। অস্ত্রোপচারের পরে হাসপাতালে বিছানায় শুয়ে তরুণ জ্যাভলিন থ্রোয়ার বলেছিলেন, ‘এভরি সেটব্যাক ইজ এ সেটআপ ফর কামব্যাক’। সেই মনোবল ব্যর্থ হয়নি। সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে চ্যালেঞ্জ করে দুবছরের মধ্যেই অলিম্পিকের ময়দানে ইতিহাস গড়লেন নীরজ। সোনা ছিনিয়ে আনলেন ঘরে।

নীরজের বয়স তখন ২১ বছর। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার আগেই কনুইয়ের হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ভোগাচ্ছিল তরুণ জ্যাভলিন থ্রোয়ারকে। ডাক্তাররা বলে দিয়েছিলেন অস্ত্রোপচার করতে হবে। আর এলবো সার্জারি মানেই, হাতের পেশিতে কোনওরকম চাপ দেওয়া যাবে না। অতএব জ্যাভলিন থ্রোয়িং থেকে আপাতত বিরতি নিতেই হবে তাঁকে। মুম্বইয়ের ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালে ২০১৯ সালের ২ মে এলবো অর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি হয় নীরজের। অস্ত্রোপচার করেন ডক্টর দীনশ পারডিওয়ালা।

Neeraj Chopra recovering without complications: AFI president - Hindustan Times

কনুইয়ের অস্থিসন্ধিতে এই অস্ত্রোপচার হয়। ওপেন সার্জারিতে যেমন বড় ছিদ্র বা ইনশিসন করতে হয়, এলবো অর্থ্রোস্কোপিক সার্জারিতে তেমনটা হয় না। একটা ছোট ক্যামেরা যাকে বলে অর্থ্রোস্কোপ, জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধিতে ঢুকিয়ে দেন ডাক্তাররা। সেখানকার হাড়ের ছবি তুলে স্ক্রিনে ডিসপ্লে করে এই ক্যামেরা। সেটা দেখেই অস্ত্রোপচার করা হয়। এই ধরনের এলবো সার্জারিতে অস্থিসন্ধির স্টিফনেস খুব তাড়াতাড়ি সেড়ে যায়। দ্রুত স্বাভাবিক অভ্যাসে ফিরতে পারেন রোগী।

Neeraj Chopra recovering without complications: AFI president - Sports News

নীরজের অস্ত্রোপচারের পরে ডাক্তাররা তাঁকে দীর্ঘদিন বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছিলেন। কয়েকমাস ফিজিওথেরাপি চলেছিল তাঁর। পেশির নমনীয়তা ফিরে আসতে সময় লেগেছিল। ডাক্তাররা স্পষ্ট বলেছিলেন, থ্রোয়িং বাদে আর সব কিছুই করতে পারবেন নীরজ। দীর্ঘদিনের বিরতি তাঁর মনোবলে ধাক্কা দেয়নি। বরং দ্বিগুণ উৎসাহে ফিরে আসার স্বপ্ন দেখেছিলেন। আর সেটাই করে দিয়েছেন দেশের গর্বের জ্যাভলিন থ্রোয়ার নীরজ চোপড়া। কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে ৮৬.৫৮ মিটার থ্রো করে শীর্ষ স্থানে ছিলেন নীরজ। ফাইনালেও একই ফর্ম ধরে রেখেছিলেন। আজকের ম্যাচে নীরজ সর্বোচ্চ ছুঁড়েছেন ৮৭.৫৮ মিটার। চেক ও জার্মানির শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে সোনা এনে দিয়েছেন ভারতে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.