বাজছে না জাতীয় সঙ্গীত, বলা যাবে না দেশের নাম, তাও অলিম্পিকে বহাল তবিয়তে রয়েছে রাশিয়া!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: টোকিও অলিম্পিকে রাশিয়া নেই, সবাই মোটামুটি ভাবতে বসে গিয়েছেন। অনেকেই পদক তালিকায় চোখ বুলিয়ে খুঁজছেন রাশিয়াকে। অনেকে আবার এও ভাবছেন, রাশিয়া না থাকলে কি অলিম্পিক হয়!

এই নিয়ে রীতিমতো আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। তারপর বিস্তর গবেষণা শেষে দেখা গিয়েছে তারা খেলছে আরওসি (ROC) নামে। এটি কোনও দেশ নয় কিন্তু, এটি রাশিয়া অলিম্পিক কমিটির সংক্ষিপ্ত রূপ। অথচ কেউ এর পুরো নাম বলতে পারবেন না, কোনও অ্যাথলিট যদি এর পুরো নাম বলে ফেলেন, তা হলে অলিম্পিক কমিটির লোকজন ওই অ্যাথলিটকে পত্রপাঠ বিদায় করে দেবেন, এমনই শর্তে লেখা রয়েছে।

এবারের অলিম্পিকে রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও দেশটির ৩৩৫ জন ক্রীড়াবিদ ‘আরওসি’র ব্যানারে ৩৩টি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করছেন। রাশিয়ার জাতীয় সঙ্গীত না বাজলেও এবারকার অলিম্পিকে ‘আরওসি’র পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানাতে দেশটির বিখ্যাত সুরকার পিওতর চাইকোভস্কির কনসার্ট বাজানো হচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে যে কোনও রুশ জাতীয় প্রতীক বা লোগো ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা। এটি নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা।

এত কিছুর পরেও, ‘আরওসি’র পতাকায় অলিম্পিকের লোগোর উপরেই অবস্থান করছে রাশিয়ার পতাকার আদলে সাদা-নীল-লাল রঙের ডোরাকাটা ঢেউ খেলানো প্রতীক। সবাই ওই প্রতীক দেখে রাশিয়ান অ্যাথলিটই ভাবছেন।

কেন টোকিও অলিম্পিকে রাশিয়া নামে অংশ নিতে পারছে না? তার কারণ ব্যাখ্যা করতে বসলে বলতে হবে ২০১৯ সালে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত ডোপিং ব্যবস্থার ওপর অনাস্থা জানিয়েছিল রাশিয়ান অলিম্পিক কমিটি। সেটি ভালমতন গ্রহণ করেনি অ্যান্টি ডোপিং সংস্থা, তারাই আয়োজকদের কাছে এই ব্যাপারে জানায়, তারপরেই আইওসি (আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি) জানিয়ে দেয়, রাশিয়া কোনওভাবেই চার বছরের মধ্যে কোনও অলিম্পিকে নিজেদের নাম ব্যবহার করে অংশ নিতে পারবে না।

বিশ্বব্যাপী অ্যান্টি-ডোপিং সিস্টেমকে বিকৃত করার জন্যই এমন সাজা পেয়েছে রাশিয়া। তবে তাদের অ্যাথলিটরা এই মেগা ইভেন্টে নামতে না পারলে তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হবে, এটি ভেবেই আইওসি জানায়, তারা নামতে পারবেন তবে রাশিয়া দেশ হিসেবে নয়।

অলিম্পিক গেমসে অতীতেও রাশিয়ানরা নিরপেক্ষ পতাকার নিচে খেলেছে। ১৯৯২ সালের বার্সেলোনা অলিম্পিকের দুমাস আগে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ায় রুশ প্রতিযোগীদের অলিম্পিকের পতাকার নীচে খেলতে বাধ্য করা হয়। সেবার যখনই তারা কোনও পদক জিতত, তখনই অলিম্পিকের সঙ্গীত বাজানো হয়েছিল।

ইতিহাসকে দেখলে জানা যাবে, রাশিয়ার কাছে এ ধরনের ডোপিং কেলেঙ্কারি তেমন নতুন কিছু নয়। সব মিলিয়ে ডোপিংয়ের অপরাধে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার ৪৩টি অলিম্পিক পদক কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

অলিম্পিকের সপ্তম দিনের শেষে রাশিয়া থুরি আরওসি-র অ্যাথলিটরা মোট ৩৪টি পদক পেয়ে তালিকায় চারে রয়েছেন। তার মধ্যে ১০টি সোনা, ১৪টি রুপো ও ১০টি ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছেন। তাই দেশের নাম প্রকাশ্যে না এলেও অ্যাথলিটদের মান তো আর কমবে না, তাঁদের পরিচয়ও পালটাবে না, তাই তাঁরাও সহজাতভাবে পারফরম্যান্স করছেন।

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More