দুরন্ত লড়াই জিতে শেষ হাসি সিন্ধুর, স্বপ্ন দেখিয়ে ভারতকে এনে দিলেন ব্রোঞ্জ

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পি ভি সিন্ধুর খেলা দেখে একটা কথাই মুখ থেকে বেরিয়ে আসে, অসাধারণ। আর কোনও বিশেষণ আসে না। দুরন্ত এক ম্যাচ জিতে তিনি প্রমাণ করলেন সেমিফাইনাল ম্যাচে হার তাঁর কাছে ছিল স্রেফ একটা অঘটন। তিনি যেভাবে ম্যাচ জিতলেন, তাতে সিন্ধু দেশকে আরও অনেকদিন স্বপ্ন দেখাবেন। তিনি পরপর দুটি অলিম্পিকে পদক জিতে নজিরও সৃষ্টি করলেন।

চিনের হে বিং জিয়াওকে ২১-১৩, ২১-১৫-এতে হারিয়ে তিনি দেশকে ব্রোঞ্জ পদক এনে দিলেন। যতই তিনি গতবার রুপো জিতুন না কেন, এই জয়েও তাঁর গৌরব কমবে না। বরং এমন এক স্বপ্নের ম্যাচ তিনি খেলেছেন, তাতে করে বিপক্ষও শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন তাঁকে।

যতটা সহজ হবে ধরা গিয়েছিল, ততটা সহজ লড়াই হল না। হওয়ার অবশ্য কথা ছিল না। কারণ চিনের হে বিং জিয়াও সার্কিটে চালাক খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত। তিনি কোর্টে বিপক্ষকে খেলিয়ে ক্লান্ত করে দিতে চান। তবুও প্রথম সেটে সিন্ধুর ক্ষীপ্রতার কাছে পেরে ওঠেননি জিয়াও।

খেলার শুরুতে অবশ্য সিন্ধুকে বেশ ফোকাসড দেখিয়েছে। তিনি গতবারের রুপো পদক জয়ী, এই অহংকার নিয়েই তিনি খেলেছেন ম্যাচে। এদিন সিন্ধুর ড্রপ শট নজর কেড়েছে। এমনকি নেট প্লে ও ফোরহ্যান্ডেও বাজিমাত করেছেন প্রতিপক্ষের চেয়ে। তিনি বরং চিনের প্রতিযোগীকে নানা প্রান্তে দৌড় করিয়ে সুফল আদায় করিয়েছেন।

প্রথম সেটের মতোই দ্বিতীয় সেটেও সিন্ধু দেখিয়েছেন অভিজ্ঞতার কোনও জুড়ি নেই। যদিও দুইজনের সাক্ষাতে এতদিন পর্যন্ত জিয়াও এগিয়েছিলেন, কারণ মোট ১৬ বারের সাক্ষাতে নয়বার জিতেছেন জিয়াও, সাতবার সিন্ধু। সেই অভাব পূরণ করে এদিন যেন সেরা ম্যাচ উপহার দিলেন হায়দরাবাদী তরুণী।

খেলার আগে সিন্ধুর বাবা প্রাক্তন ভলিবল তারকা পি ভি রামানা জানিয়েছিলেন, ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে নামার আগে যেন তাঁর মেয়ে পদকের কথা না ভেবে খেলে, তা হলে নিজের খেলা খেলতে পারবে। বাবার কথা যে তিনি শুনেছিলেন, সেটি খেলায় বোঝা গিয়েছে।

সিন্ধু গত ম্যাচে তাই জু-র বিপক্ষে যে ভুলগুলি করেছিলেন, সেগুলি শুধরে নিয়েই কোর্টে নেমেছিলেন। যদিও প্রথম গেমে সিন্ধু অনেকটা এগিয়ে গিয়ে বিপক্ষকে চাপে রাখেন। তাঁর স্ম্যাশগুলি ভয়ঙ্করভাবে প্রতিপক্ষ কোর্টে আছড়ে পড়ছিল।

সিন্ধুর বাবা এও জানিয়েছিলেন সংবাদসংস্থাকে, মেয়েকে এই ম্যাচ জিততে হল আরও মনোযোগী হতে হবে। সেটি সিন্ধু দেখিয়েছেন খেলায়, তিনি অনেক বেশি নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা করেছেন।

সিন্ধুর কোরীয় কোচ অবশ্য তাঁকে বারবার ম্যাচে মাথা ঠান্ডা রাখতে বলেছেন। কোরীয় কোচ জানতেন, তাঁর ছাত্রী শীতল থাকলেই আসল খেলা বের করে আনবেন, তাই হয়েছে শেষমেশ।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.