আফ্রিকান নেশনস কাপে ম্যাচ খেলিয়ে ইতিহাস রোয়ান্ডার মহিলা রেফারি সালিমার

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইতিহাস এভাবেই রচিত হয়। এর আগেও মহিলা রেফারিরা বিশ্বকাপে ম্যাচ অফিসিয়াল হয়েছেন। কিন্তু আফ্রিকান নেশনস কাপের মতো আন্তর্জাতিক আঙিনায় পুরুষদের ম্যাচ খেলাচ্ছেন এক মহিলা, সেটি অবাক হওয়ার মতোই বিষয়।

আর সেটি করে রোয়ান্ডার মহিলা রেফারি সালিমা মুকাসাঙ্গা রেকর্ডস বুকে নাম তুলেছেন। এটি ঘটেছে সোমবার রাতের একটি ম্যাচে, যে খেলায় মুখোমুখি হয়েছিল ক্যামেরুণের দুটি দল।

সালিমার মুকুটে অনেক পালক, তিনি মহিলা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ খেলিয়েছেন। তিনি নিজের জীবন শুরু করেছিলেন বাস্কেটবল খেলোয়াড় হিসেবে। তিনি জন্মেছেন রোয়ান্ডার রুসুজি জেলায়।

গিতওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে তিনি একটি হাসপাতালে নার্সিং ট্রেনিংও নিয়েছেন। কোভিডের সময় তিনি হাসপাতালে সেবিকার ভূমিকায় কাজও করেছেন।

সালিমার এই কীর্তির কথা আফ্রিকান সংবাদমাধ্যমে ফলাও করে ছাপা হয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ এই ৩৪ বছরের রেফারি যে একটি হিরের খন্ড, সেটি প্রমাণ করেছেন বারবারই।

শুধু তাই নয়, সালিমা হয়ে উঠেছেন সমগ্র মহিলা রেফারিদের প্রতিনিধিও। তিনি এমনিতেই ডাকাবুকো স্বভাবের। তাঁকে অনেকেই মাঠে পুলিশ অফিসার বলে ডাকেন, কারণ তাঁর কড়া মেজাজে ছেলে ফুটবলাররাও নরম হতে বাধ্য। এতটাই কড়া অনুশাসনে তিনি ম্যাচ পরিচালনা করেন, তাঁর প্রতি আফ্রিকান ফুটবল সংস্থার দারুণ ভরসা রয়েছে।

আফ্রিকান যত ওয়েবসাইট রয়েছে, তারা হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে ক্যাপশন লিখেছে, ‘‘মেকিং উইম্যান প্রাউড। মেকিং আফ্রিকা প্রাউড। অভিনন্দন সালিমা।’’

সালিমা এর আগে খেলিয়েছেন টোকিও অলিম্পিকের ম্যাচ। কনফেডারেশন মহিলা ফুটবল টুর্নামেন্টের ম্যাচ, কিন্তু এইপ্রথম কোনও পুরুষশাসিত ম্যাচে তিনি দাপটে ম্যাচ খেলিয়ে সকলের নজর কেড়ে নিলেন। এটিও এক বিশাল কৃতিত্বের বিষয়।

সালিমা নিয়ে সমাজের ঐতিহাসিকরা লিখতে গিয়ে নানা ব্যাখ্যা করছেন। তাঁরা সালিমাকে মহিলা জাতির গর্বের রূপ হিসেবে তুলে ধরছেন। দু’দলের মোট ২২ জন ফুটবলার, তিনজন সহকারী পুরুষ রেফারিদের ঘেরাটোপে এই আফ্রিকান মহিলা নারী জাতির বিজয়পতাকা তুলে ধরেছেন, সেটিকেই চিহ্নিত করা হচ্ছে।

 

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.