সিন্ধু পদক জিততেই তাঁর কোরীয় কোচ নিয়ে কৌতূহল উপচে পড়ছে

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একজন ক্রীড়াবিদের জীবনে কোচ সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। পি ভি সিন্ধুর ক্ষেত্রেও তাই, তিনি দীর্ঘদিন ভাল করে প্র্যাকটিস করতে পারেননি। বিদেশের মতো আমাদের দেশে পরিকাঠামো নেই। মহামারির সময়ে বাকি অ্যাথলিটরা যখন তৈরি হতে পেরেছেন নিভৃতে, সেইসময় সিন্ধুরা দিনের পর দিন ঘরে বসে থেকেছেন।

তারপরেও অলিম্পিকের মতো ইভেন্টে সাফল্য পাওয়া সবদিক থেকেই ঐতিহাসিক। বলা হচ্ছে, পুল্লেলা গোপীচাঁদ সঙ্গে থাকলে নাকি সিন্ধুর ব্রোঞ্জই সোনা কিংবা রুপোও পরিণত হতে পারত। কিন্তু একজন কোচ এসে ক্রীড়াবিদকে শানিত করতে পারেন, তিনি তো আর গুলিয়ে সবকিছু খাইয়ে দেবেন না। কিন্তু সিন্ধুর কোচ হিসেবে কোরীয় কোচ পার্ক তাই স্যাঙ যেভাবে তাঁকে তৈরি করেছেন, তার জন্য অনেক ত্যাগ, পরিশ্রম ছিল।

শুধু তাই নয়, ৪২ বছর বয়সী এই নামী ব্যাডমিন্টন কোচের জীবনেও এটি প্রথম অলিম্পিক পদক। তাই তিনি জানিয়েছেন, ‘‘আমি নিজেও খেলোয়াড় হিসেবে তো বটেই, কোচ হিসেবেও আমার কোনও শিক্ষার্থী অলিম্পিক পদক পায়নি। সেদিক থেকে সিন্ধু আমাকেও গর্বিত করেছে।’’

সিন্ধুর প্রতিটি ম্যাচের সময় দেখা গিয়েছে এই কোচ শ্যেন দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছেন ছাত্রীর দিকে, কোথায় ভুল করছেন, কোথায় আরও ভাল করা যায়, সেটি আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। এমনকি সিন্ধু যখনই উত্তেজিত হয়ে গিয়েছেন, সেইসময়ই তাঁকে কুল ডাউন থাকতে বলেছেন। তাতেই খেলার আমূল বদল ঘটেছে ম্যাজিকের মতোই।

এই কোরীয় কোচ নিজেও বিখ্যাত ব্যাডমিন্টন তারকা ছিলেন। তিনি ২০০২ সালের বুশান এশিয়ান গেমসে সোনা জিতেছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার হয়ে। কিন্তু তাঁর অলিম্পিক পদক নেই। সেই আক্ষেপ মিটলে ছাত্রী সিন্ধুর হাত ধরে। এমনকি তিনি ২০১৩-২০১৮ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় দলের কোচ ছিলেন।

সিন্ধুর এই লড়াইয়ে গত দু’বছর সঙ্গী ছিলেন পার্ক। তিনি নিজের পরিবার ছেড়ে পরিজন ত্যাগ করে দু’বছর ধরে সিন্ধুকে ট্রেনিং করিয়ে গিয়েছেন একেবারে নীরবেই। গোপীচাঁদের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পরে গাচ্চিবাউলি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সিন্ধুকে ফাঁকা হলে ট্রেনিং করিয়েছেন এই কোচ। সেইসময় সারা দেশ লকডাউন চলছে। এমনকি মাঝে সিন্ধু আরও উন্নত ট্রেনিংয়ের জন্য লন্ডনে চলে যান।

গোপীচাঁদের হাত ধরেই অবশ্য ব্যাডমিন্টনে হাতেখড়ি হয়েছিল সিন্ধুর। ব্যাডমিন্টনে সিন্ধুর সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে গোপীর। কিন্তু ২০১৯ সালে গোপীচাঁদকে শুধু সিন্ধু নয়, একসঙ্গে বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়কে প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন।

কাজের চাপ সামলাতে না পেরে সিন্ধু-সহ এবং বেশ কয়েকজন মহিলা শাটলারের গোপী পাঠিয়েছিলেন কিম জি হিউন-এর কাছে।  কিম-এর অধীনেই ২০১৯ সালে বিডব্লুএফ ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জিতেছিলেন। ২০২০ সালে কিম পদত্যাগ করার পরই পার্ককে নিযুক্ত করা হয়েছিল। দুজনের মধ্যে ভাল ছন্দ তৈরি হয়। তবে তখনও গোপীচাঁদ অ্যাকাডেমিতেই প্রশিক্ষণ নিতেন সিন্ধু।

গত অক্টোবর মাসে সিন্ধু শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং পুষ্টির সহায়তার জন্য তিন মাসের জন্য লন্ডন গিয়েছিলেন। তার জন্য তিনি গোপীচাঁদ অ্যাকাডেমিতে চলা জাতীয় শিবিরেও যোগ দেননি। তারপরই তাঁর এবং গোপীর মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। সিন্ধুর বাবাও মেয়ের দেশ ত্যাগ মানতে পারেননি।

এরপর চলতি বছরের মার্চ মাসে গোপীচাঁদ অ্যাকাডেমি ছেড়ে কোরিয়ান কোচ পার্ককে নিয়ে হায়দরাবাদের গাচিবাউলি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করেন। তারপর থেকেই সিন্ধুর খেলায় আমূল বদল ঘটে, তিনি আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। অলিম্পিকে দু’বার পদকপ্রাপ্তি তারই প্রমাণ।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.