কোভিডের কারণে অলিম্পিকের প্রস্তুতিতে বাধা, বিদেশে গিয়েও রেহাই পাননি নীরজ, সিন্ধুরা

1

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমস্যা কাটছে না, বরং রীতিমতো জাঁকিয়ে বসছে। সম্প্রতি ভারতের বেশকিছু অ্যাথলিট ক্রোয়েশিয়া গেলেন অলিম্পিকের প্রস্তুতি নিতে। ক্রোয়েশিয়ায় করোনার দাপট সেরকম নেই, খোলা বাতাসে প্রস্তুতি নেওয়া যাবে। বিমানে ওঠার পরে কেউ কেউ নিজেদের ছবি পোস্ট করেছেন। তারপরেও মুখগুলো কেমন উদাসীন, ভয়সন্ত্রস্ত্র।

দেশ ভুগছে অদ্ভুত একটা পরিস্থিতিতে। সেখান থেকে নিজেদের ভালর জন্য বিদেশে চলে যাওয়া, এটা মানসিকভাবে কষ্টের হলেও দেশের জন্য এটা করতেই হবে। কারণ অলিম্পিকে পদক জিতে দেশের মানুষের মুখে হাসি ফিরিয়ে দিতে পারলে এই আত্মসুখের বদনাম কাটানো যাবে।

করোনার কারণে টোকিও অলিম্পিক হবেই, নিশ্চয়তা নেই। প্রতিদিন নতুন নতুন আপডেট আসছে। জাপানের ৪০টি শহর হাত তুলে দিয়েছে আয়োজন নিয়ে কোনওরকম সহযোগিতা করবে না তারা। অ্যাথলিটরাও জানে না কী হবে পরিস্থিতি।

করোনার কারণে ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিক স্থগিত করতে বাধ্য হয় ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটি। বিশ্বযুদ্ধের কারনেও যে ঘটনা ঘটেনি, মহামারীর প্রকোপে তা করতে বাধ্য হয় আইওসি। সেই স্থগিত হওয়া অলিম্পিক ২০২১ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়ার কথা।

আর বেশিদিনও বাকি নেই আসরের। তার আগে অ্যাথলিটদের মানসিক সমস্যা বাড়ছে। পরীক্ষার্থি যেমন জানে না, কবে দিতে পারবে পরীক্ষা। তেমনি অ্যাথলিটরাও জানে না তাঁরা আদৌ লড়াইয়ে নামতে পারবেন কিনা।

আসন্ন টোকিও অলিম্পিকের জন্য কতটা তৈরি ভারতের অ্যাথলিটরা। করোনার কারণে সারা বিশ্বের মতন লকডাউন ছিল সারা দেশজুড়ে। ফলে সেসময় অ্যাথলিটদের প্রস্তুতি প্রায় হয়নি বললেই চলে।  করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসার পরে বেশকিছু দেশে নতুন করে লকডাউন শুরু হয়েছে, কোথাও আবার জরুরী ব্যবস্থা চলছে।

ন্যাশনাল ক্যাম্প শুরু হতে দেরি হয়েছে। কোয়ারেন্টিনের নিয়ম নিয়ে ছবি পরিষ্কার ছিল না । প্রস্তুতির জন্য নেই কোন প্রতিযোগিতা।ফলে বিশেষজ্ঞদের মতে টোকিও অলিম্পিকে কমসংখ্যক ইভেন্টেই সত্যিকারের পদক জয়ের আশা রয়েছে ভারতের।

ব্যাডমিন্টন, টেনিস, কুস্তি, হকি সব খেলাতেই একই ছবি। একমাত্র বক্সিংয়ে ক্ষেত্রে ছবিটা কিছুটা হলেও আলাদা। বিভিন্ন খেলার কোচেরাও ফিরেছেন তাদের দেশে।

আমেরিকা, কানাডা, চিন এবং ইউরোপের বিভিন্ন ছোট দেশ তিন থেকে চার মাস আগে থেকেই অলিম্পিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। কিছু দেশ তাদের অ্যাথলিটদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার দ্বার ও উন্মুক্ত করেছে।

অলিম্পিকের ইভেন্টে কোয়ালিফাইং রাউন্ডের মাধ্যমে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যা ভারতীয় অ্যাথলিটদের বেশ কঠিন। ভারতের অ্যাথলিটদের জন্য একটি প্রতিযোগিতাতেও যোগদান সম্ভব হয়নি কারণ এই মরসুমে কার্যত সব বাতিল হয়ে গিয়েছে।

ভারতীয় অ্যাথলিটদের হাই-পারফরমেন্স ডিরেক্টর ছিলেন জার্মানির ভোকার হারম্যান। গত নভেম্বরে তিনিও দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। লিয়েন্ডারের মতন তারকা কলকাতায় এসেও ট্রেনিং শুরু করতে পারেননি।

ইংল্যান্ডে পিভি সিন্ধুও শারীরিক সক্ষমতা ও ফিটনেস ট্রেনিং করছেন। কিন্তু এই ব্যক্তিগত উদ্যোগটা মোটেও যথেষ্ট নয় তা ভালভাবেই জানেন কর্তা ব্যক্তিরা। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড ইভেন্ট তাও চলছে পাতিয়ালা সাই কেন্দ্রে। কোনও কোনও অ্যাথলিট চলে গিয়েছেন বিদেশে বিশেষ ট্রেনিং নিতে। যাদের অফিস স্পনসর করেছে, তারা যেতে পেরেছে। অধিকাংশরই নেই, তাদের কোভিড বাধা কাটিয়েই প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।

ডিসকাস থ্রোয়ার নীরজ চোপড়ারা বিদেশে গেলেও একেবারে ভয়মুক্ত বলা যাবে না। দেশে থাকলে একরকম অবস্থা, আর বাইরে কোনও কারণে সংক্রমিত হলে তার সমস্যা অনেক। তাই বিদেশে গিয়েও রেহাই নেই অ্যাথলিটদের।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.