ময়দানে ওভারল্যাপিংয়ের জনক মোহনবাগানের প্রাক্তন অধিনায়ক ভবানী রায় প্রয়াত

1

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ময়দানের কিংবদন্তি কোচ (Coach) অমল দত্তের (Amal Dutta) প্রিয় ফুটবলার ছিলেন তিনি। একটা সময় কলকাতা ময়দানে বলা হতো, ভবানী রায়ের ওভারল্যাপিং দেখতে মাঠে যেতেন দর্শকরা। তিনিই কলকাতা মাঠে ওভারল্যাপিংয়ের জনক।

সেই নামী প্রাক্তন ফুটবলার তথা মোহনবাগানের (Mohun bagan) একসময়ের অধিনায়ক (Captain) চলে গেলেন এদিন সকাল সাড়ে আটটায়। ভুগছিলেন বার্ধক্যজনিত সমস্যায়। তাঁকে রেখে গেমপ্ল্যান সাজাতেন কোচেরা। কারণ তিনি রাইটব্যাক পজিশনে খেললেও ছিলেন দারুণ কার্যকরি ফুটবলার।

আরও পড়ুন: আইএসএলে কলকাতা ডার্বি ২৭ নভেম্বর, প্রথম নামছে এটিকে-মোহনবাগান

উইং ব্যাকের কাজ যে শুধু রক্ষণ সামলানো নয়, বরং উইং থেকে আক্রমণে উঠে স্ট্রাইকারদের বল দেওয়াটাও যে তাঁদের কাজ, এই ওভারল্যাপ ছক তুলে ধরেছিলেন অমল দত্ত, আর তার পুরোধা ছিলেন ভবানী রায়। এহেন ফুটবল ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে ময়দানে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বালি প্রতিভা ক্লাব থেকে তিনি শুরু করেছিলেন ফুটবল জীবন। ইস্টার্ন রেলওয়ে যোগ দেন তারপরেই।

ফুটবল জীবনে তিনি পেয়েছেন বাঘা সোমের মতো ফুটবল ব্যক্তিত্বের কোচিং। মূলত, তাঁর ফুটবল প্রতিভা আরও বিকশিত হয় তাঁর কোচিংয়েই। ১৯৬৯ সালে ভবানীকে রাইট ব্যাকে খেলাতে শুরু করেন কোচ অমল দত্ত। সেই সময় তিনি হাফে খেলতেন। যদিও এহেন ভবানী মাঝমাঠে খেলা শুরু করেছিলেন। ওভারল্যাপে উঠে বিপক্ষের রক্ষণে চাপ বাড়ানোর কৌশল প্রথম দেখিয়েছিলেন ভবানী।

ওভারল্যাপ খ্যাত ভবানী ১৯৬৬-৬৭ মরশুমে মোহনবাগানে যোগ দিয়েছিলেন। এরপর টানা সাত বছর মোহনবাগানের খেলেছিলেন তিনি। ১৯৭২ সালে মোহনবাগানের দলনায়ক ছিলেন। কাজল গুহর সঙ্গে তাঁর জুটি ময়দানে দারুণ চর্চিত। খেলেছেন বাংলার হয়ে সন্তোষ ট্রফি।

১৯৭০ সালের এশিয়ান গেমসেও ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন তিনি। দারুণ দক্ষ এক ফুটবলারকে হারিয়ে স্মৃতিরোমন্থন করেছেন নামী ফুটবলার সুব্রত ভট্টাচার্য। তিনি এদিন জানিয়েছেন, ভবানীদা আধুনিক ফুটবলের ভাবধারা আমাদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পেরেছিলেন। প্রকৃত গুণী ফুটবলার হয়েও সেরকম মর্যাদা পাননি, এটাই যা দুঃখের।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.