আমরা পারি না, সান মারিনো পারে, ওই দেশের লোকসংখ্যা ৩৪ হাজার, তাতেই অলিম্পিকে পদক!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোশ্যাল সাইটগুলিতে ছেয়ে গিয়েছে এই খবরটা। যে ইতালির উপকন্ঠে থাকা একটি ছোট্ট দেশ সান মারিনো অলিম্পিকে একটা পদক জিতেছে। অথচ ১৩০ কোটির বেশি জনসংখ্যার দেশ ভারতবর্ষ আরও একটা পদকের জন্য হন্যে হয়ে বসে রয়েছে।

এই গল্প শুধু এইবারই নয়, প্রতিবারই আমরা নানা স্বপ্ন দেখি, আর হতাশ হই শেষমেশ অলিম্পিকের পদক তালিকা দেখে। এবার হয়তো আমরা একাধিক পদক পাব, কিন্তু কিসে পাব, কেউ জোর দিয়ে বলতে পারছেন না। এটাই হতাশার জায়গা আমাদের কাছে। আমরা ভাষণ দিই, কিন্তু কার্যক্ষেত্রে সেটি কার্যকর করি না। আর বাইরের দেশগুলি কথা বেশি না বলে পরিকাঠামো তৈরি করে, সেখানে খেলার মাঠ নিয়ে রাজনীতি কম হয়, তাই তারা পারে, আমরা বছরভর পিছিয়ে যাই।

না হলে অলিম্পিকে পদক জিতে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে সান মারিনো। এই দেশটির আয়তন ৬১ কিলোমিটার, ২৪ বর্গ মাইল। লোকসংখ্যা মেরেকেটে ৩৪ হাজার। বিশ্বের সবচেয়ে ছোট্ট দেশ এটি।

এবারের অলিম্পিকে সান মারিনো থেকে মাত্র পাঁচ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন। তাঁদেরই একজন শুটার আলেসান্দ্রা পেরিলি। মহিলাদের শুটিংয়ের ট্র্যাপ ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতলেন তিনি।

এর আগে অলিম্পিকে সান মারিনোর হয়ে সেরা পারফরম্যান্স ছিল আলেসান্দ্রার অধীনেই। ২০১২ সালে লন্ডন অলিম্পিকে এই ইভেন্টেই চতুর্থ স্থান অর্জন করেছিলেন তিনি। এর আগে ১৯৮৪ সালে লস এঞ্জেলস অলিম্পিকে ৫০ মিটার রাইফেলের প্রোন ইভেন্টে ফ্রান্সেসো নান্নি পঞ্চম স্থান পেয়েছিলেন।

সব থেকে বড় কথা, আলেসান্দ্রোর এই পারফরম্যান্স নয়, দেশটির পরিকাঠামো তাদের শৃঙ্খলায় সকলেই মুগ্ধ। বলাবলি হচ্ছে, এই দেশটি দেখাল বড় দেশ হলেই পদক আসে না, বা অনেক লোকসংখ্যা হলেই সেরা প্রতিভা ওঠে না। ইউরোপের এই দেশটির অ্যাথলিটদের কুর্নিশ জানাচ্ছে সারা বিশ্ব। বিশেষ করে টোকিও অলিম্পিকের আঙিনা। ওই দেশের প্রশাসনকেও সবাই সেলাম জানাচ্ছে।

 

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More