স্থানীয় জঙ্গি গোষ্ঠীকেই সন্দেহ, শ্রীলঙ্কা জুড়ে জরুরি অবস্থা জারি

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ন্যাশনাল তৌহিথ জামাত। সংক্ষেপে এনটিজে। রবিবার শ্রীলঙ্কায় ছ’টি বিস্ফোরণে প্রায় ৩০০ জনের জীবনহানির পরে এই সংগঠনটিকেই সন্দেহ করা হচ্ছে। সোমবার সরকারের মুখপত্র রজিথা সেনারত্নে জানিয়েছেন, আমরা তদন্ত করে দেখছি, এনটিজে বিদেশ থেকে সাহায্য পেয়েছিল কিনা।

একটি সূত্রে জানা যায়, ১১ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার পুলিশ প্রধান সতর্কতা জারি করে বলেছিলেন, এনটিজে নামে এক সংগঠন ভারতীয় হাই কমিশন ও কয়েকটি গির্জায় হামলা চালানোর ছক কষছে। তাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে আমাদের জানিয়েছে একটি বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা।

এনটিজে গোষ্ঠীটির সম্পর্কে আগে বিশেষ কিছু জানা যায়নি। তবে একবার অভিযোগ উঠেছিল, তারা বুদ্ধমূর্তি ভাঙচুর করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ২৪ জনকে বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু ধৃতদের পরিচয় জানানো হয়নি। সোমবারই শ্রীলঙ্কা জুড়ে জারি হয়েছে জরুরি অবস্থা। প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপাল শ্রীসেন ঘোষণা করেছেন, সোমবার থেকেই জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত আইনের বিভিন্ন ধারাগুলি শ্রীলঙ্কায় প্রযোজ্য হবে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করার জন্যই জরুরি অবস্থা জারি করা হচ্ছে। মানুষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া সরকারের উদ্দেশ্য নয়।

দেশ জুড়ে রাতে জারি হচ্ছে কারফিউ। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সোমবার রাত আটটা থেকে মঙ্গলবার ভোর চারটে পর্যন্ত দেশে কারফিউ জারি থাকবে।

বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা সোমবার বেড়েছে হু হু করে। চার্চে ও বিলাসবহুল হোটেলে জঙ্গি হানায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯০। ইস্টার সানডের ওই হামলায় আহত হয়েছেন ৫০০ জনের বেশি। নিরাপত্তারক্ষীরা যখন সন্দেহভাজনদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন, তখন আরও দু’টি বিস্ফোরণ ঘটে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি গোষ্ঠী এই আক্রমণের দায়িত্ব স্বীকার করেনি। প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংহে জানিয়েছেন, আমরা তদন্ত করে দেখছি, হামলা হতে পারে বলে খবর থাকা সত্ত্বেও আগে থেকে ব্যবস্থা নেওয়া গেল না কেন।

রবিবার জঙ্গি বিস্ফোরণের সময় প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপাল শ্রীসেন ছিলেন বিদেশে। সোমবার তিনি দেশে ফিরেছেন। তার সভাপতিত্বে নিরাপত্তা পরিষদের একটি বৈঠক হয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে যুদ্ধ চলেছে সরকারের। গত কয়েক বছরে সেদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ ও সংখ্যালঘু মুসলিমদের মধ্যে সংঘাত বৃদ্ধি পেয়েছে। শ্রীলঙ্কার মুসলিম সংগঠন সিলোন জামায়েতুল উলেমা বিবৃতি দিয়ে বলেছে, যারা এই ঘৃণ্য কাজে জড়িত, তাদের সর্বোচ্চ সাজা হওয়া প্রয়োজন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More