জমি বিবাদ রুখতে গিয়ে ঝালদায় আক্রান্ত পুলিশ, কলেজ শিক্ষক-সহ গ্রেফতার ২

পুলিশকে মারধরের ঘটনায় ১৫ থেকে ২০ জন যুক্ত বলে দাবি করেছে ঝালদা থানার পুলিশ। ১২ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাদেরই মধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করে ঝালদা থানার পুলিশ।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া: পুলিশকে মারধরের ঘটনায় গ্রেফতার হলেন কলেজের এক আংশিক সময়ের শিক্ষক-সহ দু’জন। ঝালদা থানার পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার এই ঘটনা ঘটলেও পুলিশকে মারধরের সেই ছবি ভাইরাল হয় বৃহস্পতিবার। তারপরেই হইচই পড়ে যায় সর্বত্র।

মঙ্গলবার ঝালদা থানার ইচাগ গ্রাম পঞ্চায়েতের মেসো গ্রামে এক টুকরো জমি নিয়ে ঝামেলা বাঁধে। তেওয়ারি পরিবার ওই জমি কিনেছিল। কিন্তু বাড়ি তৈরি করার সময় জানতে পারেন ওই জমি শরিকি সম্পত্তি। বেশ কিছুদিন ধরেই তাই নিয়ে গন্ডগোল চলছিল। সম্প্রতি ওই জমিতে পাঁচিল তোলে তেওয়ারি পরিবার। তারপরেই শুরু হয় ঝামেলা।

খবর পেয়ে মঙ্গলবার পুলিশ মেসো গ্রামে পৌঁছে সেই পাঁচিল ভেঙে দেয়। তেওয়ারি পরিবারের পক্ষ নিয়ে পুলিশকে ঘিরে ফেলে স্থানীয় মানুষজন। পুলিশকে ধরে ব্যাপক মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। একজন সাব-ইন্সপেক্টর হেমন্ত সাহা গুরুতর আহত হয়। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝালদা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আনা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্যে পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখন সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

পুলিশকে মারধরের ঘটনায় ১৫ থেকে ২০ জন যুক্ত বলে দাবি করেছে ঝালদা থানার পুলিশ। ১২ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাদেরই মধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করে ঝালদা থানার পুলিশ। দুজনেই তেওয়ারি পরিবারের সদস্য। তাদের মধ্যে একজনের নাম কাঞ্চন তেওয়ারি ও অন্যজনের নাম রিতেশ তেওয়ারি। রীতেশ রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের আংশিক সময়ের শিক্ষক। তাঁদের বিরূদ্ধে একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

বুধবার পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হলে কাঞ্চন তেওয়ারিকে ছয় দিনের পুলিশ হেফাজত ও রীতেশ তেওয়ারিকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। পুলিশ জানিয়েছে অন্য অভিযুক্তদেরও খোঁজ চলছে। তাঁদেরও গ্রেফতার করা হবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More