ভোট ঘোষণা হতেই বিভেদ ভুলে কাছাকাছি জলপাইগুড়ির গেরুয়া শিবির

এতদিন মোটের উপর একে অপরকে এড়িয়ে চলতেন যাঁরা রবিবার বিকেলে তাঁদেরই দেখা গেল একসঙ্গে। জলপাইগুড়ি ডিবিসি রোডে বিজেপির অস্থায়ী নির্বাচনী কার্যালয়ে একটি যোগদান কর্মসূচি ছিল। সেই কর্মসূচিতে দুই যুযুধান নেতা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে তৃণমূল ছেড়ে আসা ছাত্র, যুব নেতা কর্মীদের হাতে বিজেপি দলীয় পতাকা তুলে দিলেন।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: গত লোকসভা ভোটের নিরিখে জলপাইগুড়ির সাতটি আসনের মধ্যে ছ’টিতেই এগিয়ে আছে বিজেপি। একমাত্র রাজগঞ্জ আসনটিতেই অল্প মার্জিনে জয় পেয়েছিল তৃণমূল। এই ফলাফল ধরে রাখতে মরিয়া বিজেপি। তাই ভোটের ঢাকে কাঠি পড়তেই সব বিরোধিতা ভুলে যেন কাছে আসার পালা।

এতদিন মোটের উপর একে অপরকে এড়িয়ে চলতে দেখা যেত যাঁদের, রবিবার বিকেলে তাঁদেরই দেখা গেল একসঙ্গে। জলপাইগুড়ি ডিবিসি রোডে বিজেপির অস্থায়ী নির্বাচনী কার্যালয়ে একটি যোগদান কর্মসূচি ছিল। সেই কর্মসূচিতে দুই যুযুধান নেতা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে তৃণমূল ছেড়ে আসা ছাত্র, যুব নেতা কর্মীদের হাতে বিজেপি দলীয় পতাকা তুলে দিলেন। নির্বাচনের দিন ঘোষণা হতেই অন্তত প্রকাশ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ভোলার এই ছবি অনেকটাই নিশ্চিন্ত করেছে দলের কর্মীদের।

লোকসভা ভোটে বিপুল সাফল্যের পরেও বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির দু’টি ভাগই বারবার সামনে এসেছে। একটি বর্তমান জেলা সভাপতি বাপী গোস্বামীর শিবির এবং অপরটি প্রাক্তন জেলা সভাপতি দীপেন প্রামানিকের শিবির। রাজ্যস্তরের নেতাদের বহু চেষ্টাতেও এই বিভাজন ঘোচানো যায়নি।

বরং গত বছর জেলা সভাপতি হিসেবে বাপী গোস্বামী দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে দুই শিবিরের তিক্ততা দিন কে দিন আরও বেড়েছে বই কমেনি। এক গোষ্ঠী কর্মসূচি নেয় তো অপর গোষ্ঠীর অনুগামীরা সেই কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকেন। বারবার এটাই দেখা গেছে। এবং এই দ্বন্দ্ব এতটাই প্রবল যে খোদ জলপাইগুড়ি শহরের বুকে মাত্র পঞ্চাশ মিটার দূরে দুই গোষ্ঠীর আলাদা কার্যালয় পর্যন্ত তৈরি হয়েছে।

নিজেদের দ্বন্দ্ব ভুলে বারবার একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে আসছিলেন বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রের নেতারা। কয়েকমাস আগে জে পি নাড্ডা শিলিগুড়িতে এসে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন। শেষপর্যন্ত ভোট ঘোষণা হওয়ার পরে দুই শিবিরের দুই যুযুধান নেতাকে একসঙ্গে কাজ করতে দেখা গেল।

বিজেপির বর্তমান জেলা সভাপতি বাপী গোস্বামী অবশ্য বলেন, “দীপেন প্রামানিক ও আমি, আমরা দুজনেই দীর্ঘ ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে বিজেপি পার্টি করে আসছি। আমরা একসঙ্গে ছিলাম এবং আছি।” একইভাবে দীপেন প্রামাণিকও জানান, বরাবরই তাঁরা ভারতীয় জনতা পার্টির জন্য একসঙ্গে লড়াই করেছেন।

রাজনৈতিক মহলের ধারনা উত্তরবঙ্গকে পাখির চোখ করে নির্বাচন বৈতরণী পার হতে চাইছে বিজেপি। সেই ক্ষেত্রে গত লোকসভা নির্বাচনে তাঁদের ব্যাপক সাফল্যে যাতে কোনও ভাবে ভাঁটা না পড়ে সেটাই লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জন্য ভোটের ফলে কোনও গড়বড় হলে তার দায়ভারও নিতে হবে। তাই এখন বিভেদ ভুলে এক হয়ে পথ হাঁটার মরিয়া চেষ্টা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More