ফের পাঁচিল বিতর্ক বিশ্বভারতীতে, শনিবার কাজ শুরু হতেই বন্ধ করল বোলপুর পুরসভা

বোলপুর পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর পক্ষে ওমর শেখ ও সুকান্ত হাজরা জানান,পাঁচিলের পাশেই পূর্ত দফতরের জায়গায় যে সমস্ত ব্যবসায়ীরা বসেন তাঁদের যেমন ব্যবসা করতে অসুবিধা হচ্ছে, একইভাবে রাস্তায় প্রতিনিয়ত যানজট হচ্ছে। দিনকয়েক আগে মৌখিকভাবে কাজ বন্ধ করা হয়েছিল পুরসভার তরফে। কয়েকদিন কাজ বন্ধ থাকলেও শনিবার সকালে ফের দেখা যায় পাঁচিলের কাজ শুরু হয়েছে। তারপরেই কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: শান্তিনিকেতনের অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি পরিষেবা কেন্দ্রের সামনে পাঁচিল দেওয়া হচ্ছে কেন? অনুমতিপত্র কোথায়? পুরসভার নিয়ম অনুযায়ী কেন চার ফুট ছেড়ে পাঁচিল দেওয়া হল না? এমন নানা প্রশ্ন সামনে রেখে গত ডিসেম্বর মাসেই বোলপুর পুরসভার পক্ষ থেকে চিঠি ধরানো হয়েছিল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে। বিশ্বভারতীর পাল্টা যুক্তি, যে পাঁচিল প্রায় ৮০ থেকে ৯০ বছরের পুরোনো তার সংস্কারের জন্য আবার অনুমতি কীসের? দাবি-পাল্টা দাবির ফেরে আবারও পাঁচিল বিতর্ক ফিরে এল বিশ্বভারতীতে। বোলপুর পুরসভার তরফে শনিবার সকালে পাঁচিলের কাজ বন্ধ করা হল।

বোলপুর পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর পক্ষে ওমর শেখ ও সুকান্ত হাজরা জানান, পাঁচিলের কাজ শুরু হয়েছে দেখেই ৪ ডিসেম্বর, ২০২০ বিশ্বভারতীকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সেখানেই সমস্ত বিষয় জানানো হয়। যেহেতু মূল রাস্তা তাই পুরসভার নিয়ম অনুযায়ী চার ফুট ছেড়ে পাঁচিল করার আইন রয়েছে। সেই বিষয়টিও জানানো হয়েছিল। তবে এখনও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, পাঁচিলের পাশেই পূর্ত দফতরের জায়গায় যে সমস্ত ব্যবসায়ীরা বসেন তাঁদের যেমন ব্যবসা করতে অসুবিধা হচ্ছে, একইভাবে রাস্তায় প্রতিনিয়ত যানজট হচ্ছে। দিনকয়েক আগে মৌখিকভাবে কাজ বন্ধ করা হয়েছিল পুরসভার তরফে। কয়েকদিন কাজ বন্ধ থাকলেও শনিবার সকালে ফের দেখা যায় পাঁচিলের কাজ শুরু হয়েছে। তারপরেই কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা।

বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে, অগ্নি নির্বাপণ কেন্দ্রের সামনে যে পাঁচিলটি রয়েছে সেটি নতুন নয়। আনুমানিক ১৯৩৪ সালে প্রথম পাঁচিলটি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে বেশ কিছু অংশ ভেঙে যাওয়ায় সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছিল। এই অংশে আগে বিশ্বভারতীর রেজিস্ট্রি অফিস ছিল। পরবর্তীতে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। ঝোপঝাড়, গাছপালায় ভর্তি থাকায় নানা অসামাজিক কাজ চলত। বিভিন্ন দিক বিবেচনা করেই আইনের দ্বারস্থ হয় বিশ্বভারতী। জায়গা দখলমুক্ত করার পরেই ওই অংশের সংস্কার শুরু হয়। পূর্ত দফতর থেকে বিশ্বভারতীকে জানানো হয়েছিল নির্দিষ্ট অংশের মাপজোক হবে। সেদিন কর্তৃপক্ষকে উপস্থিত থাকতে হবে। বিশ্বভারতীর এক আধিকারিকের কথায়, “পূর্ত দফতর যদি জায়গার মাপ করতে চায়, আমরা উপস্থিত থাকব। দফতরকে জানানো হয়েছে এ কথা। তবে জায়গা মাপের কোনও দিনক্ষণ ঠিক হয়নি।”

পূর্ত দফতরের ওই জায়গায় দীর্ঘদিন যারা ব্যবসা করছেন তাঁরা জানালেন, কার্যত রাস্তায় এসে বসতে হয়েছে তাঁদের। ক্রেতারা এসে দাঁড়ানোর জায়গা পাচ্ছেন না। পাঁচিল সংস্কারের আগে যদি তাঁদের সঙ্গে কথা বলে নেওয়া হতো সেক্ষেত্রে ফাঁকা অংশে বসার আবেদন জানাতেন। পিছনে যে আগেও পাঁচিল ছিল সেকথাও অবশ্য স্বীকার করছেন। প্রশাসকমণ্ডলীর বক্তব্য, “নির্দিষ্ট এই অংশের পাঁচিল বিতর্কের সমাধান না হলে পুরসভা পাঁচিল ভাঙার নির্দেশিকা জারি করবে।”

পৌষমেলার মাঠে পাঁচিল দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত বছর আগস্ট মাসে প্রথম পাঁচিল বিতর্ক তৈরি হয় শান্তিনিকেতনে। পরে আদালতের নির্দেশে ফেন্সিংয়ের কাজ শুরু হয়। সেখানে একটা অংশের কাজ প্রায় শেষ। পরে রতনপল্লী, সুরশ্রীপল্লী, পূর্বপল্লী সহ বিভিন্ন জায়গায় পাঁচিল দেওয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও আশ্রমিকরা। অমর্ত্য সেনও পাঁচিল দিয়ে জেলখানা তৈরি করা হচ্ছে বলে সরব হয়েছিলেন। এরই মাঝে সরেজমিনে এলাকা ঘুরে সুরশ্রীপল্লীতে পাঁচিল নির্মাণের কাজ বন্ধ করেছিলেন জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার। বিশ্বভারতী ও বোলপুর পুরসভার মধ্যে আরও একবার ফিরে এল সেই টানাপড়েন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More