সালিশি সভায় বোনকে হেনস্থা হতে দেখে মালদহে আত্মঘাতী অপমানিত দাদা

ওই যুবকের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে প্রতিবেশী এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল তরুণীর। কিন্তু এই সম্পর্ক গ্রামবাসীদের একাংশ মানতে নারাজ। দিন কয়েক আগে ফরিদপুর গ্রামের তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে গ্রামের মাতব্বররা সালিশি সভা করে। সেখানে দুই পরিবারকেই জরিমানা করা হয়। গ্রামের মাঝে সালিশি সভায় বোনকে অপমানিত হতে দেখে কার্যত নিজেকে ঘরবন্দি করে নেন দাদা।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: সালিশি সভায় বোনকে অপমানিত হতে দেখে আত্মঘাতী হল দাদা। এমনই অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে  রতুয়া থানার ফরিদপুর এলাকায়।

অভিযোগ, ফরিদপুকুর এলাকার বাসিন্দা ওই যুবকের বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল গ্রামেরই এক যুবকের। এই সম্পর্ক মানতে পারে‌ননি গ্রামের মোড়লরা। তারই জেরে তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের নেতৃত্বে সালিশি সভা ডেকে ওই তরুণীকে জরিমানা করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পরেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই তরুণীর দাদা।

ওই যুবকের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে প্রতিবেশী এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল তরুণীর। কিন্তু এই সম্পর্ক গ্রামবাসীদের একাংশ মানতে নারাজ। দিন কয়েক আগে ফরিদপুর গ্রামের তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে গ্রামের মাতব্বররা সালিশি সভা করে। সেখানে দুই পরিবারকেই জরিমানা করা হয়। গ্রামের মাঝে সালিশি সভায় বোনকে অপমানিত হতে দেখে কার্যত নিজেকে ঘরবন্দি করে নেন দাদা।

শুক্রবার রাতে নিজের শোওয়ার ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে জানান তাঁর পরিবারের লোকজন। শনিবার সকালে ঘর থেকে উদ্ধার হয় ওই যুবকের ঝুলন্ত দেহ।

পরিবার সূত্রেও জানা গেছে ওই যুবক ভিন রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করতেন। ঘটনার খবর পৌঁছয় রতুয়া থানায়। আসে রতুয়া থানার পুলিশ। রতুয়া থানার ওসি কুণালকান্তি দাস জানান, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।

স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য নজরুল ইসলাম অবশ্য এই সালিশি সভায তাঁর উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করে নেন। তিনি জানান, মৃত ওই যুবক  ভিন রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করতেন। লকডাউনের আগে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। তারা চার ভাই বোন। তাদের মধ্যে এক বোনের সঙ্গে প্রতিবেশী এক যুবকের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। তাই এলাকার বাসিন্দারা সালিশি সভা করে উভয় পক্ষের জরিমানা করে। তিনি বলেন, ‘‘ওই সালিশি সভায় আমিও উপস্থিত ছিলাম।’’

আর এখানেই উঠছে প্রশ্ন। একজন পঞ্চায়েত সদস্যের উপস্থিতিতে কী করে সালিশি সভায় জরিমানা করা হয়? তাতে কেন বাধা দিলেন না ওই পঞ্চায়েত সদস্য? গ্রামে আয়োজিত এই সালিশি সভার ব্যপারে অবশ্য মুখ খোলেনি পুলিশ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More