সীমানা পাঁচিল দেওয়া নিয়ে বচসার জেরে ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, মালদহে অশান্তি

যাতায়াতের রাস্তা দখল করে পাঁচিল দেওয়া হয় বলে পঞ্চায়েতের অভিযোগ। ব্যবসায়ীর অবশ্য দাবি, তাঁরা পঞ্চায়েতের কোনও জমি দখল করেননি। নিজেদের জমিতেই পাঁচিল তুলেছেন। কিন্তু উত্তরের অপেক্ষা না করে রবিবার বিকেলে তৃণমূলের স্থানীয় সদস্য জয়ন্তী দাসের ছেলে দুর্জয় দাস দলবল নিয়ে চড়াও হয়ে ওই পাঁচিল ভেঙে দেয়।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: জমি বিবাদ নিয়ে তেতে উঠল হরিশ্চন্দ্রপুর। জমি জবরদখল মুক্ত করার নামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে চড়াও হয়ে ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের এক স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে। বাধা দেওয়ায় দুই মহিলাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

ওই ঘটনাকে ঘিরে রবিবার বিকেল থেকেই তেতে ওঠে ওই এলাকা। পুলিশসূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ী পবন কেডিয়া মাস দুয়েক আগে সীমানা পাঁচিল দিয়ে বাড়ি ঘিরে নেন। কিন্তু যাতায়াতের রাস্তা দখল করে পাঁচিল দেওয়া হয় বলে পঞ্চায়েতের অভিযোগ। পঞ্চায়েতের তরফে তিনদিনের মধ্যে ওই পাঁচিল সরানোর জন্য ব্যবসায়ীকে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। নয়তো আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছিল। ব্যবসায়ীর অবশ্য দাবি, তাঁরা পঞ্চায়েতের কোনও জমি দখল করেননি। নিজেদের জমিতেই পাঁচিল তুলেছেন। কিন্তু উত্তরের অপেক্ষা না করে রবিবার বিকেলে তৃণমূলের স্থানীয় সদস্যের ছেলে দলবল নিয়ে চড়াও হয়ে ওই পাঁচিল ভেঙে দেয়। ওই ব্যবসায়ী নিজের জমিতে পাঁচিল দিয়েছেন দাবি করে ফের নতুন করে পাঁচিল তোলার কাজ শুরু করেন। তারপর ফের সেখানে চড়াও হয়ে পাঁচিল ভেঙে দেওয়া হয়। ওই সময় পরিবারের দুই মহিলাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। দুজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

পঞ্চায়েত সদস্যার ছেলে আবার হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লক যুব তৃণমূলের সহ সভাপতি। গন্ডগোলের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। চাঁচলের এসডিপিও সজলকান্তি বিশ্বাস বলেন, ‘‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। পুলিশ সমস্ত কিছুই খতিয়ে দেখে আইনানুগ পদক্ষেপ করবে।’’

ব্যবসায়ী পবন কেডিয়া বলেন, ‘‘আমরা বেআইনিভাবে কোনও জমি দখল করে রাখিনি! তৃণমূল গায়ের জোরে চড়াও হয়ে হামলা করে। আমার বৃদ্ধ বাবা, মা ও স্ত্রীকে মারধর করে।’’

বিজেপির জেলা সম্পাদক কিষান কেডিয়া বলেন, ‘‘তৃণমূলের একাংশ দুষ্কৃতীদের নিয়ে এসে থানার সামনে যেভাবে ব্যবসায়ীর বাড়িতে চড়াও হয়ে ভাঙচুর, মারধর করল তা লজ্জাজনক। কেউ জবরদখল করে থাকলেও এভাবে হামলার ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।’’

তৃণমূল অবশ্য ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। জেলা তৃণমূল নেতা দুলাল সরকার বলেন, ‘‘ওই যুবককে  তৃণমূল নেতা বলাটা ঠিক নয়। যুব তৃণমূলে আছে যাকে জেলার যুব সভাপতি জায়গা দিলেও দল দেয়নি। কেউ কোনও সমাজবিরোধী কাজকর্ম করলে প্রশাসনের উচিত পদক্ষেপ করা।’’

এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More