বালিঘাটের লড়াই ঘিরে ফের উত্তপ্ত গলসি, চলল তুমুল বোমাবাজি

মঙ্গলবার রাতে গলসির শিকারপুর এলাকার সোঁদা ঘাটে দু'পক্ষের মধ্যে মারামারি ও বোমাবাজিতে জখম হন বেশ কয়েকজন। তাঁদের মধ্যে একজনের আঘাত গুরুতর।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: ফের বোমাবাজি গলসিতে। মঙ্গলবার রাতে গলসির শিকারপুর এলাকার সোঁদা ঘাটে দু’পক্ষের মধ্যে মারামারি ও বোমাবাজিতে জখম হন বেশ কয়েকজন। কখনও শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে এলাকা দখল নিয়ে বিবাদ, কখনও আবার বালিঘাটের দখলদারি নিয়ে সংঘর্ষ ও বোমাবাজি। অশান্তি লেগেই রয়েছে গলসিতে। সংঘর্ষের মাঝে পড়ে ঘুম ছুটেছে এলাকার সাধারণ মানুষের।

জানা গেছে, কোনও গন্ডগোলের মিমাংসা চলাকালীন শিকারপুরের সোঁদাঘাটে বোমাবাজি করে মাঝেরমানা গ্রামের কিছু বাসিন্দা। পাল্টা বোমা ছোড়ে বালি ঘাট মালিকদের লোকজনও। এই ঘটনায় জখম হয়েছেন দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন। এঁদের মধ্যে ঘাট মালিকের এক কর্মীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। গলসি থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে পুলিশ হাসপাতালে পাঠায়।

গলসি ২ নম্বর ব্লকের শিকারপুর মৌজায় টেন্ডার নিয়ে বালি তোলার অনুমতি পায় স্থানীয় একটি সংস্থা। দামোদরের মাঝের মানা লাগোয়া ওই জায়গায় বালি কাটার জন্য মাসিক কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করেন গ্রামবাসীদের একাংশ। নদীর জায়গা নিয়েই বিবাদ অশান্তির সূত্রপাত। সেই নিয়ে কয়েকদিন আগে ঘাটের মৌজা মাপজোঁক করেন ঘাটমালিক ওমর ফারুক। তারপর থেকে ঘাটের আনুসাঙ্গিক কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। টাকার দাবি নিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে মঙ্গলবার বিকেলে মিমাংসা চলাকালীন বচসায় জড়িয়ে পড়ে দু’পক্ষ। তারপর হাতাহাতি থেকে বোমাবাজি শুরু হয় ঘাটে।

এই সময় গ্রামবাসীদের একাংশ বালি ঘাটে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। বিভিন্ন যন্ত্রাংশেও ভাঙচুর চালানো হয়। বেধড়ক মারধর করা হয় ঘাটের কর্মী সব্যসাচী পালকে। বচসা থামাতে গিয়ে জখম হন স্থানীয় তৃণমূল কর্মী অরূপ সেন। এছাড়াও মারধর করা হয় ঘাটে কর্মরত বেশকয়েক শ্রমিককে। পাল্টা হামালায় জখম হন বেশ কয়েকজন গ্রামবাসীও। এই বিষয়ে ঘাট মালিক ওমর ফারুককের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বালিঘাটে বোমাবাজি ও সংঘর্ষ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। শাসকদলের অভিযোগ, বিজেপি কর্মী সমর্থকরা বালিঘাটের তোলা না পেয়ে হামলা করেছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি তথা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য মুখপাত্র দেবু টুডু বলেন, ‘‘বিজেপি কর্মী সমর্থকরা বালিঘাটের তোলা না পেয়ে হামলা করেছে। ওরা বোমাবাজি করে ও ঘাটকর্মীদের মারধর করে।’’

বিজেপি নেতা জয়দীপ চ্যাটার্জী পাল্টা দাবি করেন, ‘‘ভাগ বাঁটোয়ারা নিয়ে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ঝামেলা বাঁধে ও বোমাবাজি হয়। এর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই।’’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More