কোথাও বাহিনীর সঙ্গে ভোজের নালিশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে, কোথাও সরকারি কর্মীর সঙ্গে বৈঠক, তোলপাড় উত্তর থেকে দক্ষিণ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে পঞ্চম দফা ভোটের আগে দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের দুই প্রার্থীর আচরণ ওঠা প্রশ্নে আলোড়ন গেরুয়া ও ঘাসফুল শিবিরে।

রানাঘাট উত্তর পূর্ব কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অসীম বিশ্বাস কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ করছেন, ফেসবুকে এমনই একটি ছবি ভাইরাল হওয়ায় ভোটের আগের দিন নদিয়ায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। অন্যদিকে জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমুলের নির্বাচনী কার্যালয়ে এসে তৃণমূল প্রার্থীর সাথে কথা বলছেন বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মী। এই ছবি ভাইরাল হওয়ায় তুমুল চাঞ্চল্য ছড়াল জলপাইগুড়ির রাজনৈতিক মহলে।

রানাঘাট উত্তর পূর্ব কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অসীম বিশ্বাস দাবি করেন, কয়েকদিন আগে ধানতলা এলাকার রাবণপোতা গ্রামে দলের এক কর্মীর বাড়িতে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, “সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কেউ ছিল না। আমার সঙ্গে জলপাই রংয়ের পোশাকে আমার দুই নিরাপত্তা রক্ষী ও কয়েকজন দলীয় কর্মী ছিলেন। নিরাপত্তারক্ষীদের খাকি পোশাক ধুয়ে দেওয়ায় ওই সময় তাঁরা জলপাই রংয়ের পোশাক পরেছিলেন। এ নিয়ে তৃণমূল মিথ্যা রাজনীতি করছে।”

নিজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ওই ছবি দিয়ে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণের দাবি জানিয়েছেন নদিয়া জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। রানাঘাট উত্তর পূর্ব কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সমীরকুমার পোদ্দারের দাবি, “কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে, রাজ্য পুলিশকে ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন কৌশল করে নির্বাচন করতে চাইছে বিজেপি। কিন্তু লাভ হবে না।”

অন্যদিকে জলপাইগুড়ির তৃণমুল প্রার্থীর হয়ে ভোটকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে সরকারি কর্মচারীদের একাংশ। এই ছবি নিয়ে কমিশনের দারস্থ হোলো বিজেপি। ছবিতে দেখা যাচ্ছে বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মচারী জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমুল প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে এসে তৃণমূল প্রার্থী ডাক্তার প্রদীপ কুমার বর্মার সঙ্গে কথা বলছেন।  এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই কমিশনের কাছে ছবি সহ লিখিত অভিযোগ দায়ের করে বিজেপি।

শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সৌজিত সিংহ বলেন, “সরকারি কর্মচারীদের চাকরি সংক্রান্ত কিছু আইন রয়েছে। যারা এই আইন ভঙ্গ করেছে তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে সরাতে হবে। আমাদের আশঙ্কা এরা তৃণমূলের হয়ে ভোটকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই উপযুক্ত ব্যবস্থার জন্য কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছি।”

তাঁদের বিরুদ্ধতা ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে যুব তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি সৈকত চ্যাটার্জী বলেন, “যত খুশি অভিযোগ করুক আমাদের, কিছু যায় আসে না। যারা এসেছিলেন তাঁরা কয়েক দিন আগে এসেছিলেন। অভিযোগ করলেই হবে না। অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More