সামাজিক দূরত্ব না মেনে ত্রাণ বিলির অভিযোগ, বর্ধমানের তৃণমূল নেতার সাফাই, ‘মানুষের উৎসাহের কাছে হেরে গেছে করোনা’

যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বারে বারে আবেদন করছেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে। মুখে মাস্ক না পরে রাস্তায় বের না হতে, সরকারি নির্দেশিকা বা স্বাস্থ্য বিধি মানাতে রাস্তায় নেমে পড়েছে পুলিশ, সেখানে স্থানীয় তৃণমূল নেতার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যে জেলাজুড়ে আলোড়ন।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: শাসকদলের ত্রাণ বিলি অনুষ্ঠান। আর সেখানেই শিকেয় উঠল সামাজিক দূরত্ব। মুখে মাস্ক লাগানোর তো কোনও প্রশ্নই নেই। স্থানীয় তৃণমূল নেতা যুক্তি দিলেন, ‘‘করোনা যাতে ফেরত না আসে তার জন্যই লোকেরা গা ঘেঁষাঘেঁষি করে আছে।’’

যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বারে বারে আবেদন করছেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে। মুখে মাস্ক না পরে রাস্তায় বের না হতে, সরকারি নির্দেশিকা বা স্বাস্থ্য বিধি মানাতে রাস্তায় নেমে পড়েছে পুলিশ, সেখানে স্থানীয় তৃণমূল নেতার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যে জেলাজুড়ে আলোড়ন।

রবিবার বর্ধমান পুর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে লোকো বাজার এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে ত্রাণ বিলি হয়। আর এই ত্রাণ বিলিকে ঘিরে উৎসাহের চোটে সামাজিক দূরত্ব পালন একেবারে শিকেয় তুলে দিলেন নেতারাই। তাই দলের কর্মী ও সাধারণ মানুষদেরও বিধি ভাঙতে বেগ পেতে হয়নি। এক হাজারের বেশি মানুষ গা ঘেঁষাঘেঁষি করে হুড়োহুড়ি- ঠেলাঠেলি করে ত্রাণ নিলেন। লকডাউনের জন্য কাজকর্ম নেই অনেকেরই। কেউ যাতে না খেয়ে না থাকেন তার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই জায়গায় জায়গায় ত্রাণ বিলি করছে তৃণমূল। কিন্তু বিধি মেনে ত্রাণ বিলির জন্য মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অবশ্য উপেক্ষিত।

বর্ধমান পুর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতা শিবশঙ্কর ঘোষ বললেন, ‘‘মানুষের উৎসাহের কাছে করোনা পরাজিত। মানুষের সংস্পর্শে এলে করোনা হয়, কিন্তু সংস্পর্শে এসে দেখা যাচ্ছে করোনা পালিয়ে গেছে। করোনা যাতে ফেরত না আসে তার জন্যই লোকেরা গা ঘেঁষাঘেঁষি করে আছে।’’

তাঁর এমন অবাক যুক্তির ব্যাপারে তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক খোকন দাস বলেন, ও কী বলেছে আমি জানি না। তবে আমরা চেষ্টা করেছি যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিলি করার। মাস্কও বিলি হয়েছে। এত মানুষ ত্রাণ নিয়েছেন, তাতে কিছু ক্ষেত্রে হয়তো সামাজিক দূরত্বের বিধি কিছুটা ভঙ্গ হয়েছে।’’

গোটা দেশ তথা এ রাজ্যেও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও ইতিমধ্যেই সংখ্যা আড়াইশো ছুঁই ছুঁই। বর্ধমান শহরে সাতটি কন্টেইনমেন্ট জোনে লকডাউন চলছে। রবিবারই জেলায় রেকর্ড সংখ্যক মানুষ কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। এ দিন ৩৮ জনের দেহে মিলেছে করোনার ভাইরাস। ঠিক তখনই এভাবে সামাজিক দূরত্ব না মেনে ত্রাণ বিলি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে জেলার সর্বস্তরে। তৃণমূল নেতার যুক্তিতেও অবাক বর্ধমানের মানুষ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More