বেআইনি মদ রুখতে রাজ্যে এবার চালু হচ্ছে ডিজিটাল লক

ভিন রাজ্য থেকে মদ বোঝাই কন্টেনারগুলি যখন এই রাজ্যে ঢুকবে তখন সীমান্ত চেকপোস্টে থাকা আবগারি দফতরের কর্মীরা সেই গাড়িগুলিতে ডিজিটাল লক লাগিয়ে দিয়ে লক অ্যাকটিভ করে দেবে। এরফলে গাড়িগুলি কোন রাস্তা ধরে কোথায় যাচ্ছে তার উপর নজরদারি রাখা যাবে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: বেআইনি মদ রুখতে এবার ডিজিটাল লক পদ্ধতিকে হাতিয়ার করছে রাজ্য। ভিনরাজ্য থেকে আসা মদ বোঝাই গাড়িগুলিতে নজরদারি চালাতে গাড়িগুলিতে লাগানো হবে ডিজিটাল লক। শনিবার জলপাইগুড়ি সার্কিট হাউসে উত্তরবঙ্গের আবগারি দফতরের আধিকারিকদের বৈঠক করে‌ন আবগারি দফতরের রাজ্য কমিশনার উমাশঙ্কর শিবকুমার। বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলন একথা জানান তিনি।

মনে হতেই পারে কী এই ডিজিটাল লক? দফতরের আধিকারিকরা জানান, এটি হল উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এক ধরনের ট্র্যাকার। জিপিআরএস প্রযুক্তির মাধ্যমে যা কাজ করবে। ভিন রাজ্য থেকে মদ বোঝাই কন্টেনারগুলি যখন এই রাজ্যে ঢুকবে তখন সীমান্ত চেকপোস্টে থাকা আবগারি দফতরের কর্মীরা সেই গাড়িগুলিতে ডিজিটাল লক লাগিয়ে দিয়ে লক অ্যাকটিভ করে দেবে। এরফলে গাড়িগুলি কোন রাস্তা ধরে কোথায় যাচ্ছে তার উপর নজরদারি রাখা যাবে। সন্দেহ হলেই রাজ্যের নির্দিষ্ট জেলার আধিকারিকদের সহায়তায় সেই গাড়িতে তল্লাশি চালাতে পারবেন আবগারি দফতরের আধিকারিকেরা। এরপর আবার যখনই রাজ্যের সীমানা পেরিয়ে ভিন রাজ্যে ঢুকতে যাবে তখন রাজ্যের শেষ সীমান্ত চেকপোস্টে লকটি খুলে ফেলা হবে। এরফলে বেআইনি মদের বাড়বাড়ন্ত রুখতে অনেকটা সাহায্য হবে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা।

এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে উমাশঙ্কর শিবকুমার দাবি করেন করোনা পরিস্থিতিতে মদের দাম বাড়লেও রাজ্যের রাজস্বে টান পড়েনি। কিন্তু কী ভাবে রাজস্ব আরও বাড়ানো যায় তার জন্য আজকের এই বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘‘আমরা বেআইনি মদের বাড়বাড়ন্ত রুখতে বেশ কিছু ব্যবস্থা নিতে চলেছি। যার মধ্যে একটি হল ডিজিটাল লক সিস্টেম। এর ফলে অসম অরুণাচল-সহ ভিন রাজ্য থেকে আসা মদ বোঝাই গাড়িগুলি আমাদের রাজ্যে কোথাও বেআইনি মদ নামিয়ে দিয়ে যাচ্ছে কিনা তা সহজেই ধরা যাবে। আগামী ৩ মাসের মধ্যেই এই ব্যবস্থা চালু হয়ে যাবে।’’

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি বেশকিছু ব্যান্ডের মদের দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু তাতে বিক্রির পরিমাণ ১৫ শতাংশ কমলেও মদের রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হয়নি। উলটে ৫ শতাংশ বেড়েছে। রাজ্যে গত বছর প্রতিমাসে গড়ে ৯৫০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল। এবছর তা বেড়ে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে দাঁড়ায় ১০৫০ বা ১১০০ কোটি টাকা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More