হাতির হানার মুখে অসহায় ধুপগুড়ির চাষিরা, আধ পাকা ধান কেটে নিচ্ছেন গরুকে খাওয়াতে

মরাঘাট রেঞ্জের রেঞ্জার রাজকুমার পাল বলেন, ‘‘জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় হাতির হানা সাধারণত হয়েই থাকে। এরজন্য আমাদের কর্মীরা নিয়ম করে রাতভর ডিউটি দিচ্ছেন। ফলে অনেক জায়গা ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে। যাঁদের জমির ফসল নষ্ট হল তাঁরা উপযুক্ত প্রমাণ-সহ আবেদন করলে বন দফতর তাদের ক্ষতিপুরণ দেয়।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: বছরভর বাড়ির লোকের ভাত হয় যেই ধান থেকে তা গরুকে খাওয়ানোর জন্য কেটে নিয়ে যাচ্ছেন কৃষকেরা। প্রতিরাতে হাতির হানার মুখে দাঁড়িয়ে অসহায় ধান চাষিদের আর কীই বা করার আছে। বাধ্য হয়েই তাঁরা বাড়িতে কেটে নিয়ে যাচ্ছেন আধ পাকা ধান।

ডুয়ার্সের জঙ্গল লাগোয়া লোকালয়ে হাতির হানা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। কখনও হাতির হানায় মৃত্যু হচ্ছে মানুষের। কখনও আবার বুনো হাতির দলের তাণ্ডবে ভাঙছে বাড়িঘর। কখনও আবার দল বেঁধে মাঠে ঢুকে ধান খেয়ে খেত মাড়িয়ে ফের জঙ্গলে ফিরে যাচ্ছে হাতির দল। নিয়ম করে দিনের পর দিন রাত জেগে হাতির হামলার মোকাবিলা করছেন বন দফতরের কর্মীরা। কিন্তু তাঁরা যখন জঙ্গল লাগোয়া গ্রামের পূর্ব দিক পাহাড়া দিচ্ছেন ঠিক তখনই দেখা যাচ্ছে হাতির দল জঙ্গলের উত্তরদিকের জমিতে ঢুকে বিঘের পর বিঘে জমির ধান নষ্ট করে ফের জঙ্গলে পালিয়ে যাচ্ছে। বুনো হাতির তাণ্ডবে কার্যত অসহায় বন দফতরও।

ধূপগুড়ি ব্লকের মাগুরমারি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সোনাখালি ফরেস্ট লাগোয়া নিরঞ্জন পাঠ এলাকায়। যেখানে কৃষকরা পালা করে রাত জেগে ধান খেত পাহারা দিচ্ছেন। কিন্তু এরমধ্যেও বুনো হাতির দল তাঁদের জমিতে ঢুকে জমিতে থাকা আধ পাকা ধান খেয়ে বাকি খেত মাড়িয়ে ফসল নষ্ট করে দিয়ে ফের সোনাখালির জঙ্গলে ফিরে যাচ্ছে। বাধ্য হয়েই আধ পাকা ধান কেটে গরুকে খাওয়াবে বলে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় ধানচাষিরা।

গিরিশ রায় নামে এক কৃষক বলেন, ‘‘গত একমাস ধরে আমরা পালা করে রাত জেগে ধান খেত পাহাড়া দিয়েছি। এখন ধান পাকার সময়। আর এখন প্রতিদিন রাতে জঙ্গল থেকে বুনো হাতি ঢুকে ধান নষ্ট করে দিচ্ছে। আমরা অসহায়।’’

প্রেমকান্ত রায় নামে অপর এক কৃষক বলেন, ‘‘গত একমাস ধরে প্রতি রাতে জঙ্গল লাগোয়া ধানখেতে হাতির দল এসে  তছনছ করছে। গতকাল রাতেও দল বেধে হাতি ঢুকেছিলো। প্রায় ৩০ বিঘে জমির ধান নষ করে দিয়েছে। ফলে আধ পাকা অবস্থায় ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছি আমরা। সারা বছরের চালের জন্য লাগানো ধান এখন বাধ্য হয়ে গরুর খাবারের জন্য কেটে নিচ্ছি। আমরা কী খাব জানি না।’’

লক্ষ্ণণ রায় নামে এক কৃষক বলেন, ‘‘হাতি তাড়ানোর যথেষ্ট সরঞ্জাম আমাদের নেই। বন দফতরকে খবর দেওয়া হলেও দেরিতে এসে পৌঁছচ্ছে। যার ফলে সব ফসল এভাবেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জমি পাহাড়া দেওয়ার জন্য আমাদের টর্চলাইট দেওয়া হোক আর টঙঘর তৈরি করে দেওয়া হোক।’’

মরাঘাট রেঞ্জের রেঞ্জার রাজকুমার পাল বলেন, ‘‘জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় হাতির হানা সাধারণত হয়েই থাকে। এরজন্য আমাদের কর্মীরা নিয়ম করে রাতভর ডিউটি দিচ্ছেন। ফলে অনেক জায়গা ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে। যাঁদের জমির ফসল নষ্ট হল তাঁরা উপযুক্ত প্রমাণ-সহ আবেদন করলে বন দফতর তাদের ক্ষতিপুরণ দেয়। এছাড়া জঙ্গল লাগোয়া অনেকেই হলুদ রঙের লাইট কিনেছেন। যখন হাতি আসে তখন তা জ্বালিয়ে দিলে হাতির দল সাধারণত পালিয়ে যায়। এমন লাইট অনেকেই কিনে উপকার পেয়েছেন। বাকিরা কিনলেও সাহায্য দেওয়া হবে।’’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More